ধর্মীয় বিধান সংবিধানে সংযোজনের দাবি

আপডেট : ২২ মার্চ ২০১৩, ২২:২৬
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের দাবিসমূহের মধ্যে আল্লাহ ও রাসুল (স.) এর অবমাননা ও ধর্মীয় বিধানসমূহ সংবিধানে সংযোজনের দাবি বাস্তবায়নে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে। শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের উদ্যোক্তাদের মধ্য থেকে আল্লাহ ও রাসুলের বিরুদ্ধে কটূক্তিকারীদের শাস্তির দাবিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ আন্দোলন শুরু করলেও বর্তমানে এর সাথে অনেকগুলো দাবি সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। হেফাজতে ইসলাম এখন সরাসরি আল্লাহ ও রাসুল (স.)’র অবমাননাকারীদের মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি সম্বলিত বিধান সংবিধানে সংযোজনের দাবি জানাচ্ছে। এটিই বর্তমানে তাদের অন্যতম দাবি। এছাড়া বর্তমান সরকার সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীতে মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাসের যে ধারা তুলে দেয়া হয়েছে তা পুনঃসংযোজনের দাবি করা হয়। হেফাজতে ইসলাম উপরোল্লিখিত দাবিসহ কতিপয় দাবিতে আগামী ৬ এপ্রিল ঢাকা অভিমুখী লংমার্চ করে ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচি ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ দেশের অন্যতম প্রধান কওমী মাদ্রাসা হাটহাজারী দারুল উলুম মাদ্রাসাকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠা করা হলেও সারাদেশের কওমী মাদ্রাসাসমূহে এর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। বিশেষ করে হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও কওমী মাদ্রাসা বোর্ডের চেয়ারম্যান আল্লামা শাহ আহমদ শফী সাহেবের দেশব্যাপী ব্যাপক ভক্ত ও সমর্থক রয়েছে। ইসলাম ধর্মীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন থাকলেও তার একটি বৃহত্তম অংশ আল্লামা শাহ আহমদ শফী এবং হেফাজতে ইসলামের সমর্থক হিসেবে ইতিমধ্যে পরিচিতি লাভ করেছে। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আজিজুল হক বলেন, তারা কোন রাজনৈতিক সংগঠন না। কিন্তু আল্লাহ ও নবী করিম (স.) এর অবমাননার বিরুদ্ধে ন্যূনতম ইস্যু নিয়ে সকল ধর্মীয় রাজনৈতিক সংগঠন তাদের সমর্থন করছে। এমনকি হেফাজতে ইসলামে অন্তত ১২টি ধর্মীয় রাজনৈতিক সংগঠন রয়েছে। এর সমর্থনে রয়েছেন দেশের প্রখ্যাত আলেম ও পীর মাশায়েখ। ইতিমধ্যে দেশের প্রখ্যাত আলেম-ওলামা মাশায়েখ আগামী ৬ এপ্রিল ঢাকা অভিমুখে লংমার্চ কর্মসূচি সফল করার জন্য চট্টগ্রাম ও ঢাকায় একাধিক বৈঠক করেছেন। প্রতিটি জেলায় ঢাকামুখী লংমার্চ কর্মসূচির জন্য সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। জানা যায়, আগামী ২৪ মার্চ থেকে হেফাজতে ইসলামের জেলা কমিটির সাথে লংমার্চ সমন্বয় কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বিশেষ করে লংমার্চের জন্য পরিবহন ব্যবস্থা, শৃঙ্খলা, আহার, অবস্থানসহ সার্বিক বিষয় বৈঠকসমূহে আলোচনা হবে বলে জানা যায়। এদিকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ৬ এপ্রিলের পূর্বে তাদের প্রধান শো-ডাউন বা সমাবেশ করবে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে। এদিন দেশের প্রখ্যাত ওলামা মাশায়েখগণ বক্তব্য রাখবেন বলে জানা যায়। হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সারাদেশে তাদের প্রায় ৮০ লাখ অনুসারি রয়েছে। আগামী ২৫ মার্চ দেশের বিভিন্ন উপজেলায় সমাবেশ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। হেফাজতে ইসলাম ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে তারা কোন রাজনৈতিক সংগঠন নয়। তারা রুহানী সংগঠন। তাই সরকার যদি ৬ এপ্রিলের লংমার্চ ও ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচির বাধা প্রদান করে; তবে ৭ এপ্রিল থেকে সারাদেশে লাগাতার হরতাল কর্মসূচি পালন করা হবে। তারা ৬ এপ্রিল ঢাকায় মানিক মিয়া এভিনিউতে ২ কোটি লোকের সমাবেশ করবে। ফেডারেশন ও প্রগতিশীল ইসলামী জোট হেফাজতে ইসলামকে জামায়াত শিবিরের বি টিম হিসেবে উল্লেখ করেছে। এমনকি চট্টগ্রামে সুন্নী মতাদর্শভিত্তিক কিছু আলেম হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের প্রধান আল্লামা শাহ আহমদ শফী মুক্তিযুদ্ধের সময় বিতর্কিত মুজাহিদ বাহিনী গঠনের সাথে জড়িত ছিলেন বলে উল্লেখ করেন। যদিও হেফাজতে ইসলাম এর তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং প্রমাণ করতে না পারলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সাংবাদিক সম্মেলনে জানায়। হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের উদ্যোগে গত বৃহস্পতিবার হাটহাজারী মাদ্রাসায় সংগঠনের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় আল্লামা শাহ আহমদ শফী বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে স্কুল মাদ্রাসার পাঠ্যবইয়ে ভয়াবহ ইসলাম অবমাননা ও পবিত্র কুরআনের আয়াতের অর্থ বিকৃতির একের পর এক খবর উন্মোচিত হচ্ছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পূর্বে জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তারা কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোন আইন পাস করবে না। অথচ বর্তমানে ইন্টারনেট, পত্র-পত্রিকা, পাঠ্যপুস্তক, বক্তৃতা-বিবৃতি এমনকি সরকারিভাবে প্রণিত পাঠ্যবইয়েও ভয়াবহ ইসলাম অবমাননা চলছে। চট্টগ্রামে নফল রোজা পালন ও শানে রেসালত বিষয়ে আলোচনা কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল শুক্রবার দেশের বিভিন্ন স্থানের মত চট্টগ্রামেও নফল রোজা পালন ও জুমার নামাজের সময় সকল মসজিদে শানে রেসালত বিষয়ে আলোচনা কর্মসূচি পালন করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। দেশের চার লক্ষাধিক মসজিদে জুমার নামাজের পর মুসল্লিরা এক ঘণ্টা অবস্থান করেন এবং খতিবগণ রাসুলের মর্যাদা, আদর্শ ও শানে রেসালত বিষয়ে আলোচনা করেন। হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কার্যালয় দারুল উলুম হাটহাজারীতে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মকর্তার অংশগ্রহণে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন সংগঠনের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী। এসময় বিশ্বনবীর (স.) বিরুদ্ধে কুত্সা রটনা ও কটূক্তিকারীদের বিরুদ্ধে সর্বস্তরের নবীপ্রেমিক মুমিন মুসলমানদের চলমান আন্দোলনকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য মহান আল্লাহর রহমত কামনা করা হয়। এছাড়া বিপথগামী নাস্তিকদের তওবা করে সুপথে ফিরে আসার মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়। এছাড়া দেশের অন্যতম বৃহত্ ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, আল-জামিয়া ইসলামিয়া, পটিয়া, আল-জামিয়া আরাবিয়া জিরি, জামিয়া নানুপুর, জামিয়া বাবুনগর, চট্টগ্রাম মোজাহের উলুম, জামিয়াতুল উলুম লালখান, জামিয়া ফিরোজশাহ, কক্সবাজার জোয়ারিয়ানালা এমদাদুল উলুম, টেকনাফ জামিয়া, জামিয়া নাছিরুল ইসলাম নাজিরহাট ছাড়াও সারা দেশের বড় বড় মাদ্রাসায় বাদ জুমা কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি পালন করা হয়েছে বলে হেফাজতে ইসলামের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। হাটহাজারী সংবাদদাতা জানান, ইসলাম ও মহানবী (স.) সম্পর্কে অশালীন, ঔদ্ধত্যপূর্ণ মন্তব্যকারী ব্লগারদের জনসম্মুখে ফাঁসির লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে অবিলম্বে ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে কঠোর আইন পাস করার দাবি জানিয়েছেন নাস্তিক-মুরতাদ নির্মূল কমিটি বাংলাদেশ-এর আহবায়ক মাওলানা আশরাফ আলী নিজামপুরী। গতকাল শুক্রবার কমিটির কার্যালয়ে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নীতি-নির্ধারণী এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। কমিটির আহবায়ক মাওলানা আশরাফ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন কমিটির কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা মুনির আহ্মদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব মোহাম্মদ ইহসান উল্লাহ, প্রচার সম্পাদক মাওলানা ইবরাহীম খলীল সিকদার প্রমুখ।