ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভয়াবহ টর্নেডোর ছোবলে ১৭ জন নিহত ও দেড় শতাধিক আহত হয়েছে। এর মধ্যে সদরে ১০ জন এবং আখাউড়াতে ৭ জন নিহত হয়েছে। টর্নেডোর আঘাতে বিভিন্ন গ্রামের পাঁচ শতাধিক কাঁচা বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া বোরো ফসলী জমির ধান ব্যাপকহারে নষ্ট হয়েছে। এর বাইরে জেলা কারাগারের পশ্চিমপার্শ্বের দেয়াল ধসে পড়েছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। এছাড়াও বিপুল পরিমাণ সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্ধ রয়েছে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের যানবাহন চলাচল।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল শুক্রবার বিকাল ৫টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের বিভিন্ন স্থানে বৃহত্ আকারের শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। এর কিছুক্ষণ পরই আকস্মিকভাবে শুরু হয় টর্নেডোর তাণ্ডব। সদর উপজেলার রামরাইল, মাছিহাতা, সুলতানপুর ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের ওপর ভয়াবহ টর্নেডো আঘাত হানে। এ সময় কুমিল্ল¬া-সিলেট মহাসড়কের পার্শ্বে যানবাহনের ওপর গাছ উপড়ে পড়লে একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এছাড়া বিপুল সংখ্যক গাড়ির ওপর গাছ ভেঙে পড়ে। এতে যাত্রীরা গুরুতর আহত হয়। টর্নেডোর আঘাতে মোট ১৭ জন নিহত হয়েছে। গুরুতর আহত দেড় শতাধিক মানুষকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্যদের সদর হাসপাতালসহ শহরের বিভিন্ন ক্লিনিকে প্রাথমিক চিকিত্সা দেয়া হয়েছে। টর্নেডোর সময় জেলা কারাগারের পশ্চিম পার্শ্বের দেয়াল ধসে পড়ে। টর্নেডোর ছোবলে এখন পর্যন্ত এক কারারক্ষী নিখোঁজ রয়েছে। কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা সঠিকভাবে জানা যায়নি। ঘটনার পরপরই গ্রামবাসী, আইন-শৃংখলা বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস সম্মিলিতভাবে আহত-নিহত-দের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কুমিল্ল¬া-সিলেট মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ ছিল।
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় টর্নেডোর ছোবলে ৭ জন নিহত ছাড়াও অর্ধশত লোক আহত হয়েছে। বিধ্বস্ত হয়েছে ২ শতাধিক বাড়িঘর। এ ব্যাপারে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপন চাকমা টর্নেডোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করে বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করছি। হিসেব না করে ক্ষয়ক্ষতি পরিমাণ বলা যাবে না।
