মিয়ানমারের প্রাণকেন্দ্রে দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০১৩, ২০:৩২
মিয়ানমারের মিইকতিলা শহরে বৌদ্ধ ও মুসলিমদের মধ্যে তিনদিনের সাম্প্রদায়িক সহিংসতার পর জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে। বৌদ্ধ ও মুসলিম রোহিঙ্গাদের মধ্যে গত বছর শুরু হওয়া দাঙ্গা এখন দেশের প্রাণকেন্দ্রে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে। এদিকে থাইল্যান্ডের উত্তরাঞ্চলে শুক্রবার একটি শরণার্থী শিবিরে অগ্নিকাণ্ডে কমপক্ষে ৪২জন মিয়ানমার নাগরিকের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আরো অনেকে আহত হয়েছে। শুক্রবার প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন-এর জরুরি অবস্থার ঘোষণা রাষ্ট্রীয় টিভিতে সম্প্রচার করা হয়েছে। এ পদক্ষেপ সামরিক বাহিনীর জন্য দাঙ্গাবিধ্বস্ত ওই শহরটিতে আইন-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে বলে জানান তিনি। শনিবার মাও হং সনের প্রাদেশিক গভর্নর নারুমল পারাভাত জানান, ওই শরণার্থী শিবিরে দায়িত্বরত সামরিক বাহিনীর সদস্যরা অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৪২জনের প্রাণহানির কথা জানিয়েছে। এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে তিনি জানান। বুধবার মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর হামলার ঘটনায় অন্তত দশজন নিহত হয়েছে। উগ্র বৌদ্ধরা কমপক্ষে তিনটি মসজিদ জ্বালিয়ে দেয়। মিইকতিলা শহরে সংঘর্ষের পর এখনো জ্বলছে আগুন। শহরটি বেশ কয়েকটি মসজিদে আগুন লাগিয়েছে উগ্র বৌদ্ধরা। শহর থেকে পালাতে থাকা কয়েকজন জানান, দাঙ্গার সময় নিরাপত্তাবাহিনী কোন ভূমিকাই রাখেনি। বৃহস্পতিবার ভোরেও দাঙ্গার খবর পাওয়া গেছে। মধ্য মিয়ানমারের দাঙ্গায় মানুষ নিহত হয়েছে। তাছাড়া, মিইকতিলা শহরে এদিন নতুন করে দাঙ্গায় হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সহিংসতা শুরুর পর থেকে কমপক্ষে ২০জন নিহত হয়েছে। তবে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা জানা যায়নি। শুক্রবার সকালেও মিইকতিলায় ৮টি লাশ দেখা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সহিংসতায় জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ বেশ কয়েকজন বৌদ্ধকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানায়, অন্তত ১৫জন বৌদ্ধ ভিক্ষু শুক্রবার শহরের উপকণ্ঠে মুসলিমদের বাড়িঘরে আগুন দিয়েছে। নতুন করে শুরু হওয়া এ দাঙ্গা থেকে জাতিগত সহিংসতা আরো ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।