কালের পরিবর্তনে রাণীনগর উপজেলাসহ গ্রাম-বাংলার এই ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি আজ বিলুপ্তির পথে। আধুনিকতার ছোঁয়ায় দিন দিন ঢেঁকির কদর গ্রাম-বাংলার কৃষকদের বাড়ি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে।
ধান, চালের আটা ও চিড়া ভাঙ্গনোর জন্য বৈদ্যুতিক মিল হওয়ায় কৃষকরা সহজেই ধান , আটা ও চিড়া কম সময়ে ও কম খরচে ভাঙ্গাতে পারছেন। তাই কৃষকরা বাড়িতে ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি রাখছেন না। তারা বৈদ্যুতিক মিলের ওপর নির্ভর হয়ে পড়ছেন। ঢেঁকিতে বানা ধানের চালের ভাত , খিচুড়ি, খির ও চিড়ার স্ব-স্বাদ ও ভিটামিন ছিল।
আগের দিনে কৃষকদের বাড়ির বউদের অনেক কষ্ট করে ধান ঢেঁকিতে পাড় দিয়ে ভাঙ্গানোর পর চাল ও চিড়া তৈরি হত। ধান ভাঙ্গানোর বৈদ্যুতিক মিল হওয়াই কৃষকদের বাড়ির বউদের আর কষ্ট করে ঢেঁকিতে পাড় দিয়ে ধান ভেঙ্গে চাল , আটা ও চিড়া তৈরি করা লাগছে না।
বর্তমানে গ্রামের এক-দুটি কৃষকের বাড়িতে ঢেঁকি দেখা যায়। আর কিছু দিন পরে গ্রামের কৃষকের বাড়িতে ঢেঁকি আর দেখা যাবে না বলে আশংকা এলাকাবাসীর। কালের আবর্তে হারিয়ে যাবে গ্রাম-বাংলার শত বছরের এই ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি।
উপজেলার ডালপট্টিপাড়া গ্রামের রেহেনা বেগম (৪৫) ঢেঁকি সম্পর্কে বলেন, তিনি এখনও এই ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি ধরে রেখেছেন। তিনি প্রায় ১০ বছর যাবত্ এই ঢেঁকিতে ধান, আটা ও চিড়া ভেঙ্গে আসছেন। এলাকার বিভিন্ন লোক আটা ভেঙ্গে নেয়ার জন্য তার কাছে আসে। এর বিনিময়ে তিনি প্রতি কেজি চালের আটার জন্য ৭-৮ টাকা করে নেন।
