অসমাপ্ত একটি ব্রিজের কারণে ২৫ বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে রানীশংকৈল উপজেলার ১২ গ্রামের প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে। সীমান্ত ঘেঁষা এ উপজেলার রাউতনগর গ্রামের এসব মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে ২৫ বছর আগে স্থানীয় কুলিক নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। কিন্তু উদ্বোধনের ১২ দিনের মাথায় ব্রিজটি ভেঙ্গে যায়। এরপর আর ব্রিজটি পুনঃনির্মাণ করা হয়নি। শুধু তাই নয়, ব্রিজটি পুনঃনির্মাণ না করায় ওই এলাকার মানুষকে প্রায় ১০ কিলোমিটার ঘুরে রাউতনগর ও কাঠালডাঙ্গী বাজারে যাতায়াত করতে হয়। অথচ এর দূরত্ব মাত্র ১ কিলোমিটার। অন্যদিকে, স্থানীয় এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে ওই নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে পারাপার হচ্ছে। ফলে ২৫ বছর ধরে এসব মানুষের ভোগান্তি দিনের পর দিন আরও তীব্রতর হচ্ছে। ১৯৮৭ সালে ঠাকুরগাঁও পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়নে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে রাউতনগর গ্রামের ফতুয়া খাল ঘাটনামক স্থানে কুলিক নদীর উপর স্লুইস গেট-কাম ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে উদ্বোধনের ১২ দিনের মাথায় ব্রিজটির অর্ধেক অংশ ভেঙ্গে পড়ে যায়। স্থানীয় ফয়জুল ইসলাম জানান, ব্রিজের অভাবে বর্ষার সময় পানির নিচে সাঁকোটি তলিয়ে যায়। এর ফলে পথচারীদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। তিনি আরও জানান, ওই নদীতে নৌকা থাকলেও রাতেরবেলা রোগিকে হাসপাতালে নিতে স্বজনদের বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। একই কারণে চিকিত্সকরাও যেতে চায় না ওইসব এলাকায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ প্রতিবার নির্বাচনের সময় চেয়ারম্যান ও এমপি প্রার্থীরা এ নদীর ব্রিজটি সংস্কারের আশ্বাস দিয়ে ভোট নেয়ার পর সব কিছু ভুলে যায়।
এ ব্যাপারে রানীশংকৈল উপজেলার ৩নং হোসেনগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান জানান, ব্রিজটি নির্মাণ করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি আরও জানান, ব্রিজটির ব্যাপারে স্থানীয় ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের এমপি হাফিজ উদ্দিনকে জানানো হয়েছে। তিনি বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
