ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে আলোচিত স্কুল ছাত্র পরাগ মণ্ডল অপহরণের ৪ মাস ১০ দিন পরে ১২ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা। পুলিশের তদন্তে শুভাঢ্যা ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি হাজি আমিনুল হক জুয়েল, রিজভী আহমেদ অনিক ও আলফাজ হোসেন অপহরণের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট না থাকায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। যুবলীগ নেতা হাজি আমিনুল হক জুয়েল, সন্ত্রাসী মোক্তার হোসেন আমীর, মোহাম্মদ আলী রিফাত, জাহিদুল হাসান, আল-আমীন, কালাচান, আমীরের স্ত্রী বিউটি আক্তার, মো. সাকিল, মো. মামুন, আমীরের দুলাভাই আবুল কাসেম, রিজভী আহমেদ অনিক, আলফাজ হোসেন জেলা হাজতে রয়েছেন। মামলার অপর আসামি মো. আকাশ, মো. ওয়াসিম ও মো. সুলতান আহমেদ পলাতক রয়েছেন।
জানা গেছে, ২০১২ সালের ১১ নভেম্বর সকাল ৭টায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা ব্যবসায়ী বিমল মণ্ডলের স্কুল পড়ুয়া পুত্র পরাগ মণ্ডলকে স্কুলে যাওয়ার পথে অপহরণ করে সন্ত্রাসীরা। এসময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে পরাগের মা লিপি মণ্ডল, বড় বোন পিনাকী মণ্ডল ও গাড়ি চালক নজরুল ইসলাম আহত হন। অপহরণের ঘটনায় পরাগ মণ্ডলের দাদী সাবিত্রী মণ্ডল বাদী হয়ে অজ্ঞাত পরিচয় সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলার ৪ দিন পরে ১৪ নভেম্বর রাত সাড়ে ১২টার দিকে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার আটি নয়াবাজার সড়কের পাশ থেকে অচেতন অবস্থায় পরাগ মণ্ডলকে উদ্ধার করে পুলিশ। মূল নায়ক মোক্তার হোসেন আমীরকে গ্রেফতার করার জন্য ২৪ নভেম্বর রাতে টংগী থানার মুদাফা এলাকার মো. মনির হোসেনের বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় পুলিশকে লক্ষ্য করে সন্ত্রাসী আমীর গুলি করলে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায়। এই ঘটনায় সন্ত্রাসী আমীর গুলিবিদ্ধ হলে তাকে মেডিক্যালে ভর্তি করা হয়। আমীরের কাছ থেকে ২টি পিস্তল ও ৮৭ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। আমীরের স্বীকারোক্তিতে পরাগ মণ্ডলকে যে দুইটি মটর সাইকেল দিয়ে অপহরণ করা হয় তা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পরাগ মণ্ডলের মা লিপি মণ্ডল গতকাল শনিবার সকালে সাংবাদিকদের বলেন, অপরাধীদের সুষ্ঠু বিচার চাই। অপহরণের সময় জুয়েলকে তো আমি দেখিনি। পুলিশ তদন্তে যা পেয়েছে তাই দিয়েছে।
মামলার তদন্ত অফিসার মো. মনিরুল ইসলাম জানান, পরাগ মণ্ডল অপহরণের মামলাটি ৪ মাস ১০ দিন ধরে তদন্ত করেছি। যারা অপহরণের সঙ্গে জড়িত তাদের নামে চার্জশিট দেয়া হয়েছে। শুভাঢ্যা ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি হাজি আমিনুল হক জুয়েল অপহরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না থাকায় তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
