বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া গতকাল বিকালে গুলশানের বাসভবন থেকে রওনা হয়ে গাড়িবহর নিয়ে গভীর রাতে বগুড়া পৌঁছেছেন। তিনি সার্কিট হাউজে উঠেছেন। বগুড়া ও জয়পুরহাটে পুলিশের গুলিতে নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানাতে এসেছেন তিনি। আজ তিনি বগুড়ায় দু’টি ও জয়পুরহাটে একটি শোকসভায় বক্তৃতা করবেন।
সার্কিট হাউজে রাতযাপন শেষে আজ রবিবার সকাল সাড়ে ১০টায় শহরতলীর মাটিডালী বিমান মোড়ে বগুড়া সদর ও শিবগঞ্জে পুলিশের গুলিতে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাত্ করে তিনি সমবেদনা জানাবেন এবং শোকসভায় বক্তৃতা করবেন। এরপর বেগম খালেদা জিয়া জয়পুরহাট যাবেন। জয়পুরহাট ও পাঁচবিবিতে পুলিশের গুলিতে নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানানোর পর এক শোকসভায় বক্তৃতা দেবেন তিনি।
সেখান থেকে বগুড়ায় ফিরে সার্কিট হাউজে মধ্যাহ্নভোজ শেষে গাবতলীর সোনারা ইউনিয়নে ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির পরিদর্শন এবং হিন্দু সমপ্রদায়ের লোকদের সঙ্গে কথা বলার শিডিউল রয়েছে তার। পরে বিকাল সাড়ে চারটায় শাজাহানপুরের আড়িয়া প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক শোকসভায় বক্তৃতা এবং শাজাহানপুর ও গাবতলীতে পুলিশের গুলিতে নিহতদের স্বজনকে সমবেদনা জানাবেন। আজ সন্ধ্যার পরই তিনি ঢাকার উদ্দেশে বগুড়া ছাড়বেন।
সম্প্রতি পুলিশ-র্যাব ও সরকারি দলের হাতে বগুড়ায় ১৩ জন এবং জয়পুরহাটে ছয়জন নিহত হন। জনগণের বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে এ পর্যন্ত ৩৬টি মামলা করেছে। আর এতে আসামি করা হয়েছে অর্ধলক্ষাধিক মানুষকে। বগুড়া জনপদে প্রতিরাতেই চলছে গ্রেফতার অভিযান। অভিযোগ রয়েছে বগুড়া, শাহজাহানপুর, গাবতলীর অধিকাংশ পুরুষ এখনো রাতে বাড়িতে থাকতে পারছে না। শাজাহানপুরের নিশ্চিন্তপুর, বেজোড়া ও শ্যামবাড়ীয়া এলাকায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে আসামিদের না পেয়ে বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ করেছে এলাকাবাসী।
গত শুক্রবার বেগম খালেদা জিয়ার বগুড়া ও জয়পুরহাট সফরে আসার কথা ছিল। কিন্তু রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর ঘটনায় শোক পালনের লক্ষ্যে এ সফর একদিন পিছিয়ে দেন তিনি। গতকাল শনিবার বিকালে গুলশানের বাসভবন থেকে তিনি বগুড়ার উদ্দেশে রওনা হন।
এ সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা, আবদুল্লাহ আল নোমান, সেলিমা রহমান, চেয়ারপার্সনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, বিএনপির সহ দপ্তর সম্পাদক শামীমুর রহমান শামীমসহ অঙ্গদলের নেতৃবৃন্দ। বগুড়ায় বিএনপি চেয়ারপার্সনকে স্বাগত জানান জেলা বিএনপির সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
উত্তরা থেকে বেগম খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানানো শুরু হয়। উত্তরা আসনে গত নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মেজর কামরুল ইসলাম এবং যুবদলের মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক এসএম জাহাঙ্গীরের সমর্থকরা ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে দলের নেত্রীকে অভিনন্দন জানান। এরপর টঙ্গী ও গাজীপুরে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হান্নান শাহ, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অধ্যাপক এম এ মান্নান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, নির্বাহী সদস্য হাসান উদ্দিন সরকারের সমর্থকরা, টাঙ্গাইলে দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টু, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, যমুনা ব্রিজ পার হয়ে নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিরুল ইসলাম খান আলিম, সিরাজগঞ্জে চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর সমর্থকরা গণজমায়েত করেন।
