জাতীয় পতাকায় যারা আগুন দিয়েছে সরকার তাদের ধরছে না কেন?

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০১৩, ২২:২৭
সম্প্রতি জাতীয় পতাকায় অগ্নিসংযোগ ও ছিঁড়ে ফেলা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা ও মন্দির ভাংচুরের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ছাত্রলীগের প্রাক্তন নেতারা। তারা বলেছেন, এই দুইটি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কাউকেই কেন সরকার এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি? কেন এসব ঘটনাকে গুরুত্ব দিয়ে থানায় মামলা দায়ের ও তদন্ত করা হয়নি? এসব প্রশ্ন রেখে তারা বলেন, যারা স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্বে ও এদেশের স্বাধীনতার প্রতীক জাতীয় পতাকায় বিশ্বাস করে না, মুক্তিযুদ্ধের চেনতায় যারা অসাম্প্রদায়িক দেশ দেখতে চায় না তারাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। জাতীয় পতাকা রক্ষায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আবারও দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ পল্টন ময়দানে স্বাধীন বাংলা কেন্দ ীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ‘সর্বপ্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে’ স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন দিবস উপলক্ষে গতকাল শনিবার রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে প্রাক্তন ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশন আয়োজিত আলোচনাসভায় তারা এই আহ্বান জানান। সভায় সভাপতির বক্তব্যে প্রাক্তন ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ ঐতিহাসিক পল্টন ময়দানে জয়বাংলা বাহিনীর কুচকাওয়াজের মাধ্যমে সর্বপ্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন করে স্বাধীন বাংলা কেন্দ ীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। সেদিন পল্টন থেকে মিছিল নিয়ে বঙ্গবন্ধুর বাড়িতে গিয়ে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষে আমিই তার হাতে স্বাধীন বাংলার পতাকা তুলে দিই। এটা কোনো কল্পকাহিনী নয়। এ নিয়ে বিভ্রান্তিরও কোনো সুযোগ নেই। তিনি বলেন, সেই পতাকা হাতেই আমরা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনি। এই পতাকা আমাদের প্রাণ। সে কারণে পতাকার ওপর কোনো আঘাত এলে আমাদের হূদয়ে রক্তক্ষরণ হয়। যারা স্বাধীন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকায় আগুন দিয়েছে তাদের এদেশে বসবাসের কোনো অধিকার নেই। ছাত্রলীগের সাবেক নেতা ও প্রাক্তন মন্ত্রী কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, জামায়াত এখনও পতাকা ধরে টান দেয়; কিন্তু তাদের ধরা হয় না, সরকারের কী এমন দুর্বলতা? সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, জামায়াতের সঙ্গে গাঁটছড়া করবেন না। সামনে মহাদুর্দিন। শাহবাগ নিয়ে যে খেলা খেলছেন এর পরিণাম ভালো হবে না। যুদ্ধাপরাধীদের উপযুক্ত বিচার ও জামায়াত নিষিদ্ধের আন্দোলন ব্যর্থ হলে এর দায় বর্তমান সরকারকেই নিতে হবে। সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরী বলেন, পতাকা শুধু একটি জাতির পরিচয় বা প্রতীক নয়, এটি একটি জাতির প্রাণ। সাবেক ছাত্রলীগ নেত্রী রাফিয়া আক্তার ডলি বলেন, ‘একাত্তরের ২৩ মার্চ ছিল পতাকা উত্সব। এখন স্বাধীনতা দিবসে আমরা দেখি পতাকাহীন লাঠি। প্রজন্ম ’৭১-এর সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদক শাহীন রেজা নূর বলেন, বাংলাদেশ এই মুহূর্তে ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। পাকিস্তানের গোড়াপত্তনের পর বারবার এরকম ক্রান্তিকাল এসেছে। জনগণ অকুতোভয়ে সেসব মোকাবিলাও করেছে। সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- প্রাক্তন ছাত্রলীগ নেতা খালেদ মোহাম্মদ আলী, মোস্তফা মহসীন মন্টু, আবুল কাশেম, মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, সুধীর কুমার হাজরা, সৈয়দ আহমদ ফারুক, খন্দকার হারুনুর রশীদ, এমএ রশীদ ও এজাজ আহমেদ মুক্তা প্রমুখ। সভার শুরুতে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সবাই এক মিনিট দাঁড়িয়ে নীরবতা পালন করেন।