জামায়াতকে বর্জন করলে খালেদা জিয়ার জন্য দ্বার খোলা

আপডেট : ২৩ মার্চ ২০১৩, ২২:২৮
‘নাস্তিক’ আখ্যা দিলেও যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি এবং জামায়াতে ইসলামী নিষিদ্ধের আন্দোলনে বিরোধীদলীয় নেতার সমর্থন এখনো প্রত্যাশা করছেন গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠকরা। তারা বলছেন, জামায়াতকে বর্জন করে যদি বিএনপি চেয়ারপারসন এই আন্দোলনে শামিল হতে চান, তবে তার জন্য দরজা খোলা রয়েছে। শনিবার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম আয়োজিত আলোচনাসভায় আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে এ কথা উঠে আসে। শাহবাগ আন্দোলন এবং এতে তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোর ভূমিকা নিয়ে এই আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন আন্দোলনের সংগঠক এবং অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের নেতৃস্থানীয় ১০ জন। তারা হলেন- মারুফ রসুল, মাহমুদুল হক মুন্সী, আরিফ জেবতিক, অমি রহমান পিয়াল, শারমিন রেজোওয়ানা, বাকী বিল্লাহ, আফসানা কিশোয়ার, পিনাকী ভট্টাচার্য, নাহিদ সুলতানা ও সিমু নাসের। আলোচনায় সঞ্চালনা করেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী। বিরোধী দলকে নিয়ে গণজাগরণ মঞ্চের অবস্থান জানতে চাইলে নেতৃস্থানীয়দের অন্যতম মাহমুদুল হক মুন্সী বলেন, “বিএনপির অবস্থান শুরুতে এক রকম ছিল; কিন্তু কয়েকদিন পর অন্য অবস্থান দেখা যায়। আমার মনে হয়, এত বড় একটা আন্দোলন নিয়ে তাদের অবস্থানটি তারা ঠিক করতে পারছিল না।” খালেদা জিয়া শাহবাগের আন্দোলনকে ‘নাস্তিকদের’ আন্দোলন আখ্যা দেয়ার পরও মাহমুদুল বলেন, “তিনি যদি ক্ষমা চেয়ে জামায়াতকে ছেড়ে আসতে পারেন তার জন্য দরজা খোলা রয়েছে। বিএনপি নিজেদের বৃহত্ রাজনৈতিক দল বলে দাবি করে। তাদের দলে অনেক মুক্তিযোদ্ধা রয়েছেন বলেও তারা দাবি করেন। তাছাড়া দলের প্রধান একজন মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী।” তবে বিরোধীদলীয় নেতার ক্ষমা চাওয়ার প্রসঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন আরিফ জেবতিক। আফসানা কিশোয়ার এক্ষেত্রে জামায়াতের জোটসঙ্গী বিএনপির কাছে কোনো প্রত্যাশা নেই বলে মত প্রকাশ করেন। এক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের আমলে গোলাম আযমের দেশে ফেরা, খালেদা জিয়ার আমলে তার নাগরিকত্ব পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। তবে তাতে ভিন্নমত পোষণ করে আরিফ জেবতিক ও পিনাকী ভট্টাচার্য জামায়াতকে বর্জন করে বিএনপিকে আন্দোলনে আসার প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন। শাহবাগ নিয়ে অপপ্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে জানিয়ে কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমকেও দায়ী করেন তারা । অপপ্রচারের বিষয়ে আরিফ জেবতিক তার নামে ভুয়া ফেইসবুক একাউন্ট করে তাতে ধর্মবিদ্বেষী লেখা প্রকাশের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তাদের এই আন্দোলনের সঙ্গে ধর্মবিরোধিতার কোনো সম্পর্ক নেই, যুদ্ধাপরাধী দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধের দাবি তাদের। অপপ্রচারের এই বিষয়টি পিনাকী ভট্টাচার্যও তুলে ধরেন। অপপ্রচার প্রতিরোধে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারকারীদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন সিমু নাসের। সেইসঙ্গে সরকারেরও দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি। গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনারীরা উস্কানি তুলে রামুর বৌদ্ধ বসতিতেও হামলার কথা তুলে ধরেন। গত ৫ ফেব্রুয়ারি আব্দুল কাদের মোল্লার রায়ের পর শাহবাগে যারা প্রথম প্রতিবাদ জানান তাদের একজন নাহিদ সুলতানা বলেন, “৫ ফেব্রুয়ারি যে স্থান থেকে আমরা শুরু করেছিলাম এখনো সেখানেই আছি।”