পৃথিবীব্যাপী পর্বোতারোহী বলতে মূলত পুরুষদেরকে বোঝানো হয়। এই ধারনায় পরিবর্তন আনার জন্য এবং নারীও যে পর্বতারোহণে পটু তা প্রমাণের কাজ করছেন পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্টের দেশ নেপালের নারীরা। এই দলটি পৃথিবীর সাত মহাদেশের সাত সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ জয় করার অভিযানে নেমেছে।
এই দলের সদস্যদের বয়স ২১ থেকে ৩২ এর মধ্যে। ইতোমধ্যে তারা এশিয়া মহাদেশের এভারেস্ট, অষ্ট্রেলিয়া মহাদেশের কজিকিউজকো এবং ইউরোপের এলব্রুসের চূড়ায় আরোহণ করেছেন। বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষে তারা গত ৮ মার্চ আফ্রিকার কিলিমানজারো পর্বতশৃঙ্গে আরোহণ করেন। এই মিশনের আসল লক্ষ্য হলো নারীদেরকে শিক্ষা গ্রহণে উত্সাহিত করা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং পরিবেশ দূষণ রোধ— এমনটাই বলছিলেন এই দলের নেতা ২৯ বছর বয়সী সাহালী বাসনেত। তিনি আরো বলেন, হিমালয়ান এই জাতির নারীরা এখনো সেভাবে পর্বতারোহণ শিখতে পারেনি।
১৯৯৩ সালে পাসাং লাহমু প্রথম নেপালি নারী হিসেবে ৮৮৫০ মিটির উচ্চতায় আরোহণ করেন। নেপাল মাউন্টেনিয়ারিং এ্যাসোসিয়েশনের এ্যাং তেসেরিং বলেন, আগে নেপালের নারীদের মধ্যে পর্বতারোহণ নিয়ে খুব একটা উত্সাহ দেখা যেত না। কিন্তু এখন এই চিত্র বদলাচ্ছে। ২০০৮ সাল থেকে স্কুলে গিয়ে এদেশে মেয়েদেরকে পর্বতারোহণের ব্যাপারে উত্সাহ প্রদানের লক্ষে প্রচারাভিযান চালানো হচ্ছে। এই অভিযানে যেভাবে সাড়া মিলছে তাতে আমরা আশাবাদি। এভারেস্ট জয়ের পর আমরা উপলব্দি করলাম এবার দেশের সীমা ছাড়িয়ে বেরিয়ে পড়তে হবে, জয় করতে হবে অন্যান্য মহাদেশের পর্বতমালা। ‘আমরা আরো বেশি বেশি করে নারীদেরকে পর্বতারোহণে উত্সাহিত করছি এবং আশা করি নারীদের অংশগ্রহণ আরো বাড়বে’ বলেন, ঐ দলের ২৫ বছর বয়স্ক পেমা দিক্কি। বাসনাত আরো জানান, পর্বতারোহণের জন্য এই নারীরা নিজেদের গাটের টাকা খরচ করছেন, নিজেদের জমানো অর্থ খরচ করছেন। শুধু তাই-ই নয় আফ্রিকা মহাদেশসহ অন্যান্য যে মহাদেশগুলোতে তারা গিয়েছেন সেখানে তারা পর্বতারোহণের জন্য নারী এবং তরুণীদেরকে উত্সাহিত করছেন। এই দলে আরো দু’জন নারী আরোহী যোগদান করবেন অতিসত্তর।
