যার দুটো হাতই নেই, পুনরায় কীভাবে আবার হাত কাটবে তার। জাতীয় আর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিত্সাধীন রবিউল ইসলাম শান্ত এভাবেই আর্তনাদ করে মাকে চেপে ধরে, যখন কোন কর্তব্যরত চিকিত্সক বা নার্সের হাতে চিকিত্সার সরঞ্জাম দেখে ভয় পাওয়ারই কথা। কারণ সে এখনো ছোট্ট শিশু। বয়স মাত্র ৮ বছর। বনানী থানা এলাকার কড়াইল বস্তিতে ৪ সন্তান নিয়ে থাকেন নাসিমা বেগম। প্রথম স্বামী মো. কামাল মারা যাওয়ার পর জাহাঙ্গীর নামক এক হোটেল মেসিয়ারের সাথে দ্বিতীয় বিয়ে হয় নাসিমার। কিছুদিন বাদেই জাহাঙ্গীর নাসিমাকে ফেলে চলে যায়। অন্যের বাসায় কাজ করে, এবং বড় ছেলের উপার্জনে চলে নাসিমার সংসার। নাসিমা জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় রবিউল। বিভিন্ন জায়গায় খুঁজে ছেলেকে না পেয়ে বনানী থানায় পুলিশের শরণাপন্ন হন নাসিমা। গত ২১ তারিখ সন্ধ্যায় প্রায় দেড় মাস পর বনানী থানার সহায়তায় শিশু সন্তান রবিউলকে ফিরে পান তার মা। ছেলের করুণ পরিণতি দেখে শোকে-দুঃখে পাগলপ্রায় মা নাসিমা বেগম। রবিউল জানায়, তার সত্ বাবা জাহাঙ্গীরসহ ৩-৪ জন লোক তাকে ধরে রেললাইন সংলগ্ন একটি জঙ্গলে নিয়ে বটি দিয়ে তার দুটো হাতই কেটে দেয়। এছাড়া মাথা এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন রয়েছে রবিউলের। উল্লেখ্য, এই খবর জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কর্মরত রোকসানা নামের একজন হূদয়বান নারী নিজ দায়িত্বে রবিউলের চিকিত্সার ব্যবস্থা করেন।
