কলাম্বিয়া কলেজ, শিকাগো
জেসিকা ফ্রান্সিস ২০১১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কলাম্বিয়া কলেজের ভ্যালেডিক্টোরিয়ান বক্তা হিসেবে নির্বাচিত হন। তিনি ওই কলেজের আর্টস এন্ড মিডিয়া থেকে ওই বছরই স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতিনিধি হিসেবে এই বক্তৃতা দেন—
মেহেদী হাসান
উপস্থিত বন্ধু, সতীর্থ, শিক্ষক সকলকে আন্তরিক অভিবাদন। আজকের এই সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যে ছাত্র-ছাত্রী বন্ধুরা আছো তারা আজকে এসে নিশ্চয় হিসাব করছো বিগত বছরগুলোতে আমরা কী করলাম, কী শিখলাম এই কলেজে। আমি আমার কথা বলতে পারি— ছবি নিয়ে কাজ করেছি, ডার্করুম এবং স্টুডিওতে কাজ করেছি, আলোকচিত্রের প্রদর্শনী করেছি, বন্ধু-বান্ধবের সাথে আড্ডা দিয়েছি। এগুলো আসলে গত চার বছরের এই কলেজ জীবনের হিসাবের বাইরে অতিরিক্ত পাওয়া। কারণ কলাম্বিয়া কলেজ শুধু কিছু দালানের সমষ্টি নয়। এটা শুধু এর ভৌত রূপ নিয়েই দাঁড়িয়ে নেই। কলাম্বিয়া কলেজ এর ছাত্র-ছাত্রীদেরকে উপস্থাপন করে। আমরা এই কলেজকে প্রতিনিধিত্ব করি। আমি জানি, এই কলেজের ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা কতোটা মেধাবী। আমি অত্যন্ত গর্বিত এই মেধাবীদের মধ্য থেকে এখানে এসে বক্তৃদা দান করতে পেরে। আমি আপনাদের সকলকে আবারো ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
আমাদের পরিবারের সদস্যরা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসেছেন তাদের পরিবারের সদস্যদের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে। আপনাদের অধিকাংশই আজ প্রথমবারের মতো এই ক্যাম্পাসে এসেছেন। এসে দেখছেন আপনাদের ছেলে-মেয়েরা কী কাজ করেছে। কিন্তু আমি জানি, আপনারা প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে ছিলেন আপনার পরিবারের সদস্যটির পাশে, আমাদের সকলের সাথে। আপনাদের দেখানো এবং শেখানো জীবনধারাই আমাদের পাথেয় ছিল জীবনের অন্যান্য সময়ের মতো এই বছরগুলোতেও। আপনাদের অনেকে আমাদের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন আমাদেরকে উচ্চ শিক্ষালাভের সুযোগ দেয়ার জন্য। আমরা এই কলেজে পড়তে এসে নিজেদের মেধা খুঁজে বের করতে সক্ষম হয়েছি, বুঝেছি নিজের প্যাশনটাকে। আমরা হয়তো আপনাদের এই সহযোগিতা ছাড়া এগুলোর কিছুই করতে পারতাম না। আজ আমরা যে যতোটুকু নিজের সফলতাকে উদযাপন করবো তার সমান অংশীদার আপনারাও।
শিক্ষক-অনুষদ মেম্বার এবং মেন্টর যারা আছেন তারা আমার কাছে সেরা। আমি কখনো কল্পনা করতে পারিনি এতো ভালো শিক্ষক পাবো এবং তাদের থেকে এতো বেশি সহযোগিতা পাবো। আপনাদেরকে এজন্য আরেকবার ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে চাই। এই কলেজে আমি এমন শিক্ষক পেয়েছি যিনি নিজের জীবনের সব সাধ-আহ্লাদ ত্যাগ করেছেন তার ছাত্র-ছাত্রীদের উন্নয়নের জন্য, এমন শিক্ষক পেয়েছি যিনি চব্বিশ ঘন্টা আমাদের পাশে থেকে সাহায্য করেছেন, এমন ডিন পেয়েছি যে শুধু কুশল বিনিময় করার জন্য তার অফিসে ঢুকতে পেরেছি! জানি না এটা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে হলে সম্ভব হতো কিনা। আপনারা আমাদেরকে শিখিয়েছেন কীভাবে জয়ী হতে হয়, নিজের স্বপ্নকে আপন করে নিতে হয়। আপনারা আমাদেরকে শিখিয়েছেন যতো বিপদই আসুক নিজের স্বপ্নকে বিসর্জন দিতে নেই।
এখানে আমার যে সতীর্থরা উপস্থিত আছো তাদের কথা, কাজ, চিন্তা, চেতনা থেকে আমি অনেক কিছু শিখেছি। আমরা আজ এই কলেজ থেকে ডিগ্রী নিয়ে বের হয়ে যাওয়ার সময় নিজেদেরকে যেমন দেখছি এখান থেকে চার বছর আগে যখন আমরা এই কলেজে ঢুকেছিলাম তখন এমনটা ছিলাম না। আমরা অনেক বেশি পরিপক্ব হয়েছি। আমরা বাক্সের ভিতর থেকে বেরিয়ে এসে বাইরের বিশ্বের সাথে নিজেদেরকে যাচাই করেছি একসাথে এখানে। এতে নিজেদের কাজের ক্ষেত্রকে বের করে নিতে পেরেছি। সঙ্কল্প নিতে পেরেছি নিজেদের কাজের মাধ্যমে বিশ্বে পরিবর্তন সাধন করবো। এই কারণেই আমি তোমাদের সকলকে অভিবাদন জানাতে চাই আরেকবার। ভবিষ্যত্ জীবনে আমি তোমাদেরকে দুটি কাজের সঙ্কল্প করার জন্য বলবো— এই কলেজের শিক্ষক, মেন্টর, ফ্যাকাল্টি মেম্বার যারা আমাদের গত চার বছরের পাথেয় ছিলেন তাদেরকে সারাজীবন সম্মান করে যাবো এবং নিজেদেরকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাবো যাতে মানুষ আমাদের কাছে শিখতে আসবে, আগামীর সৃষ্টিশীল তরুণ প্রজন্ম আমাদেরকে অনুসরণ করবে।
