বিশ্বমানের বিনিয়োগ নীতি প্রণয়নের পাশাপাশি বিনিয়োগবান্ধব আইন ও ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন ঘটিয়ে বাংলাদেশ দ্রুত এশিয়া অঞ্চলে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্টকারী দেশের তালিকায় শীর্ষে ওঠে আসতে পারে। গত এক দশক ধরে অর্জিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির টেকসই ধারা বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের বিরাট সুযোগ এনে দিয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে আঙ্কটাড-এর বিনিয়োগ নীতি নির্দেশনার আলোকে বাংলাদেশে পণ্যের মূল্য সংযোজন, রপ্তানি পণ্য বৈচিত্র্যকরণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের কার্যকর উদ্যোগ নেয়া জরুরি।
গতকাল রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের বিনিয়োগ নীতি পর্যালোচনা শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা একথা বলেন। জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (আঙ্কটাড) এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের যৌথভাবে এ কর্মশালা আয়োজন করে। শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া এতে প্রধান অতিথি ছিলেন।
শিল্পসচিব মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ্র সভাপতিত্বে কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো, ফরহাদ উদ্দিন। এতে পৃথকভাবে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আঙ্কটাড-এর বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ হ্যান্স বামগার্টেন ও কিওসি আদাচি। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশে ইউএনডিপি‘র সহকারী কান্ট্রি ডিরেক্টর পলাশ কান্তি দাস, আঙ্কাটাডের অর্থনীতি বিষয়ক কর্মকর্তা কালমান কালটাই ও বিনিয়োগ বোর্ডের নির্বাহী সদস্য নাভাস চন্দ্র মন্ডল আলোচনায় অংশ নেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, অধিক হারে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে নমনীয় বিনিয়োগ ও আর্থিক নীতি প্রয়োজন। এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত বিদ্যুত্, গ্যাস, যোগাযোগ অবকাঠামো ও বন্দর সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এসব শর্ত পুরোপুরি পূরণ না করায় বাংলাদেশে এখনো কাঙ্ক্ষিত পরিমাণে বিদেশি বিনিয়োগ আসেনি। তারা এসব সমস্যার সমাধানে দ্রুত বিদেশি বিনিয়োগ আইন, দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি, কর্পোরেট আয়কর কাঠামো, শ্রম ও পরিবেশ সম্পর্কিত আইন ও নিয়ম-কানুন ঢেলে সাজানোর পরামর্শ দেন।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে মহাজোট সরকার উদ্যোক্তাদের কর অবকাশ, শিল্প যন্ত্রপাতি আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক ছাড়, লভ্যাংশ পুনর্বিনিয়োগসহ বিভিন্ন প্যাকেজ সুবিধা দিচ্ছে। এর ফলে সৃষ্ট বিনিয়োগ পরিবেশ ইতিমধ্যে বিশ্বের বিনিয়োগ সুবিধা সম্পর্কিত বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বাংলাদেশে বিনিয়োগ সহায়ক আইন, নীতি ও অবকাঠামোর উন্নয়নে আঙ্কটাড প্রণীত প্রতিবেদনের আলোকে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের জন্য একটি যুগোপযোগী বিনিয়োগ নীতি প্রণয়নের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মতামতের ভিত্তিতে আঙ্কটাড ইতিমধ্যে একটি খসড়া প্রতিবেদন প্রণয়ন করেছে। গতকাল এ প্রতিবেদনের ওপর কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, চেম্বার ও ট্রেড বডি, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের প্রায় শতাধিক প্রতিনিধি অংশ নেন।
