সুন্দরবন ও সাগর উপকূলে বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর অপতত্পরতা অব্যাহত রয়েছে। র্যাব, পুলিশ, নৌ-বাহিনী ও কোষ্টগার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকলেও তাদের দমন করা যাচ্ছে না। সুন্দরবনে বনদস্যু গ্রুপগুলোর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই ও আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী র্যাব ও কোস্টগার্ডের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নানা সময়ে বিভিন্ন দস্যু নিহত ও গ্রেফতারসহ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হলেও দস্যুদের রাম রাজত্ব কায়েম চলছেই। গত ১৮ জানুয়ারি মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) জিয়া উদ্দিনের উপর দস্যুদের হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনার প্রায় দু’মাসের মাথায় সুন্দরবনের অভ্যন্তরে দস্যুদের গুলিতে অপর এক মুক্তিযোদ্ধা নিহত হয়েছে।
সুন্দরবনে সাধারণত মৌসুমভিত্তিক বন ও জলদস্যুদের উত্পাত বৃদ্ধি পায়। এর মধ্যে গোলপাতা, মধু আহরণ এবং মাছ ধরা মৌসুম উল্লে¬খযোগ্য। এসব মৌসুমকে সামনে রেখেই দস্যুরা সুন্দরবনে জড়ো হয়ে ডাকাতি ও অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের প্রস্তুতি নেয়। দস্যু গ্রুপগুলোর এ তত্পরতা নিয়ন্ত্রণে র্যাব, কোস্টগার্ড ও পুলিশ বিভিন্ন সময় অভিযান চালায়। কিন্তু তাদের অপতত্পরতা থেমে নেই। সুন্দরবনের চাঁদপাই, শরণখোলা, নলিয়ান ও বুড়িগোয়ালিনী এ ৪ রেঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় এখনও প্রায় এক ডজন বনদস্যু বাহিনী সক্রিয় রয়েছে। তবে এদের মধ্যে বর্তমানে সবচেয়ে শক্তিশালী হচ্ছে মর্তুজা, শীর্ষ ওরফে রেজাউল, ফরহাদ, বাকি বিল্লাহ, শহিদুল, জাহাঙ্গীর ও রুবেল বাহিনী। এসব প্রতিটি বাহিনীতে প্রায় অর্ধশতাধিক করে সক্রিয় সদস্য রয়েছে। গোটা সুন্দরবনের মধ্যে স্ব-স্ব এলাকা তারা নিয়ন্ত্রণ করছে। কোস্টগার্ড পশ্চিম (মংলা) জোনের অপারেশন কর্মকর্তা লে. কমান্ডার এম শফিকুল আলম জানান, সুন্দরবনে দস্যু দমনসহ এ ঘটনায় জড়িতদের আটকে কোস্টগার্ড সদস্যরা আরো বেশি তত্পর রয়েছে। দস্যুদের বিরুদ্ধে শিগগিরই বড় ধরনের অভিযান চালানো হবে বলে তিনি জানান।
