কুমিল্লার আদালতে বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে ১০ সহস্রাধিক মামলা। জাস্টিস সেক্টর ফ্যাসিলিটি প্রকল্পের কর্মশালায় গত শুক্রবার কুমিল্লার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মীর শফিকুল আলম এ তথ্য জানিয়ে বলেন, কুমিল্লায় বর্তমানে ১০ হাজার ১১৪টি মামলা বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মধ্যে জি.আর মামলা ৩ হাজার ৯২৫টি, সি.আর মামলা ১ হাজার ৮২০টি এবং সি.জে.এম মামলা রয়েছে ৩ হাজার ৯৮২টি। এসব মামলা বিচারকাজে দীর্ঘসূত্রতার কারণ হিসাবে দক্ষ তদন্ত কর্মকর্তার অভাব, তদন্ত কাজে কর্মকর্তা নিয়োগ না দেয়া, জনসংখ্যা ও এলাকা অনুপাতে পুলিশ স্বল্পতা, পুলিশের আইন শৃংখলা রক্ষার কাজে প্রাধান্য দেয়া, অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, প্রভাবশালীদের চাপ, ভুল ঠিকানা, আদালত কক্ষ ও বিচারক স্বল্পতাকে চিহ্নিত করা হয়। সেই সাথে মামলা জট কমাতে বিচারক বৃদ্ধি, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে তার অধীনস্থ সকল ম্যাজিস্ট্রেটদের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল ও রিভিশন শোনার ক্ষমতা অর্পণ, পুলিশ সাক্ষীর সমন যথাসময়ে যথাযথভাবে জারি, তদন্ত কর্মকর্তাকে সাক্ষীদের আদালতে আনার ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভিন্ন জেলায় কর্মরতদের সাক্ষ্য প্রদান নিশ্চিত করা।
চিকিত্সা সনদ প্রদানকারী চিকিত্সকদের যথাসময়ে সাক্ষ্য প্রদান নিশ্চিত করা, মামলার আলামত যথাযথভাবে সংরক্ষণ, সরকারি কৌশলীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, বিচারকদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়। এসব বিষয়ে কুমিল্লার বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ এ.আর মাছউদ বলেন, বিচার সংশ্লিষ্ট সকলকে এবং সকল সংস্থাকে সবার আগে সততার অভাব দূর করতে হবে এবং সকলকে আন্তরিকতা ও সততার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তবেই মামলা জট বা বিচারকাজের দীর্ঘসূত্রতা কমে আসবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
