তালেবান হুমকি উপেক্ষা করে দেশে ফিরলেন মোশাররফ

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০১৩, ২২:৩১
তালেবানদের হত্যার হুমকি উপেক্ষা করে এবং চার বছরের স্বেচ্ছা নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে অবশেষে দেশে ফিরলেন পাকিস্তানের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেনারেল (অব:) পারভেজ মোশাররফ। অল পাকিস্তান মুসলিম লীগের (এপিএমএল) প্রধান মোশাররফ দেশটির আগামী মে মাসের জাতীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এদিকে নিউইয়র্ক ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এক বিবৃতিতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে মোশাররফকে গ্রেফতারের আহ্বান জানিয়েছে। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও ডন-এর। দুবাই থেকে একটি বিমানে করে গতকাল রবিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে করাচি বিমান বন্দরে অবতরণ করেন পারভেজ মোশাররফ। বিমান বন্দরে অবতরণের পর তাকে অস্ত্রসজ্জিত একটি দল নিরাপত্তা দেয়। এসময় তার সমর্থকরা উল্লাস প্রকাশ করে। বিমান বন্দরজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়। গতকাল করাচিতে যে সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল তা বাতিল করা হয়। এর আগে বিভিন্ন সময় দেশে ফেরার ঘোষণা দিলেও নিরাপত্তার কারণে ফিরতে পারেননি বলে দাবি মোশাররফের। শনিবার পাকিস্তানের তেহরিক-ই-তালেবান এক ভিডিও বার্তায় দেশে ফিরলে মোশাররফকে হত্যা করে দোযখে পাঠানোর হুমকি দেয়। এর আগে মোশাররফে তিনবার হত্যার চেষ্টা করেছিল আল-কায়েদা। বিমান বন্দরে মোশাররফ বলেন, অনেকে বলেছিল, আমি দেশে ফিরতে পারবো না; কিন্তু এখন তারা কোথায়? আমি আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় পাই না। তিনি পাকিস্তানকে নিরাপদ করারও ঘোষণা দেন। পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোকে নিরাপত্তা দেয়ার ব্যর্থতার মামলাসহ বেশ কয়েকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। তবে গত শুক্রবার তাকে সুরক্ষামূলক জামিন দেয় আদালত। এর ফলে তার দেশে ফেরার পথ সুগম হয়। ১৯৯৯ সালে এক রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন মোশাররফ। ২০০৮ সালে ক্ষমতা ছাড়েন। ২০০৯ সালে তিনি স্বেচ্ছা নির্বাসনে যান। এসময় তিনি লন্ডন এবং দুবাই অবস্থান করেন।