পাকিস্তানের প্রখ্যাত সাংবাদিক হামিদ মির মনে করেন, ৪২ বছর পর বাংলাদেশ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছে। আমরা এই বিচার সমর্থন করি। কিন্তু বিচারটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ হওয়া দরকার। পশ্চিমা গণমাধ্যম ও এনজিও এ বিচার নিয়ে যাতে নেতিবাচক প্রচারণা না করতে পারে সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। হামিদ মিরের বাবা পাকিস্তানের প্রখ্যাত লেখক ও অধ্যাপক ওয়ারিস মিরের পক্ষে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা পদক নিতে শনিবার তিনি ঢাকায় আসেন। ইত্তেফাক প্রতিনিধির সঙ্গে আলাপকালে হামিদ মির আরো বলেন, বাংলাদেশে একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে তা পাকিস্তান অনুসরণ করতে পারে। একদিন আমরা পাকিস্তানী যুদ্ধাপরাধীদেরও বিচার করতে পারব।
একাত্তরে গণহত্যার জন্য বাংলাদেশের কাছে পাকিস্তানের নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া প্রসঙ্গে প্রখ্যাত এই সাংবাদিক বলেন, পাকিস্তানের সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম, তরুণ প্রজন্ম সর্বোপরি অধিকাংশ মানুষ বাংলাদেশের কাছে ক্ষমা চাওয়ার পক্ষে। নির্বাচনের মাধ্যমে শক্তিশালী সংসদ গঠনের পর আনুষ্ঠানিকভাবে সর্বসম্মত প্রস্তাব পাস হবে।
হামিদ মিরের বাবা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় একদল ছাত্রকে নিয়ে বাংলাদেশে এসে দেখেছেন কীভাবে মানুষ হত্যা চলছে, মানুষের লাশ কুকুরে খাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘বাবা দেশে ফিরে গিয়ে আমাদের এ দেশে গণহত্যার কথা বলেছিলেন। সেদিন বাবা ও মাকে কাঁদতে দেখেছি। তারা বলেছিলেন, পশ্চিম পাকিস্তানিরা কীভাবে পূর্ব পাকিস্তানে আমাদের বাঙালি ভাই-বোনদের উপর গণহত্যা চালিয়েছিল।’
হামিদ মির বলেন, ‘১৯৭১ সালে এ দেশে যা হয়েছিল তা অবশ্যই গণহত্যা। আমার বাবা ও তার সফর সঙ্গীরা পাকিস্তানে ফিরে গিয়ে এ কথা তুলে ধরার পর তাদের গ্রেফতার, নির্যাতন করা হয়। তাঁদের দেশদ্রোহী হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।’
তিনি বলেন, ‘এ বিচার সুষ্ঠুভাবে হলে প্রমাণ হবে সেদিন আমার বাবা ও তার সফরসঙ্গীরা ভুল করেননি। এ বিচার আমাদের জন্য বড় দৃষ্টান্ত হিসেবে দাঁড়াবে। আমাদের দেশে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরা ধীদের বিচারের জন্য আমরা সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারবো।’
হামিদ মির মনে করেন, পাকিস্তানের অনেকেই বাংলাদেশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমা চাওয়ার পক্ষে। কেবল জামায়াতের মতো কিছু দল এর বিরুদ্ধে। ইমরান খানের মতো ব্যক্তি যারা এখন পার্লামেন্টে নেই তাদেরও ক্ষমা চাওয়ার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব আছে। সদ্যবিদায়ী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিনা রাব্বানি খারের সঙ্গেও আমি কথা বলেছি। তিনি বলেছেন যে, এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার মতো একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাদের দলের নেই।
বাংলাদেশে জামায়াত নিষিদ্ধ করার দাবি প্রসঙ্গে হামিদ মির বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার বিপক্ষে। এটি করলে ওই দলটি রাজনৈতিকভাবে শহীদের মর্যাদা পাবে।
হামিদ মির মনে করেন, রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ না করে নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে প্রত্যাখ্যান করা উচিত। এতে দলটি আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।
