রিজভী ফারুকসহ বিএনপির ১৪৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০১৩, ২২:৩৩
জনমনে ত্রাস, রাজপথে বিশৃঙ্খলা ও আতংক সৃষ্টির অভিযোগে রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের করা দ্রুত বিচার মামলায় বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও দপ্তর সম্পাদক রুহুল কবির রিজভী, বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নাল আবদিন ফারুক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আমান-উল্লাহ আমানসহ ১৪৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযাগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। তদন্তে ও সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৬ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে। গতকাল রবিবার দ্রুত বিচার আইনে দায়ের করা এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহবুবুল হাসান ঢাকার সিএমএম আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি আদালতে পুলিশের অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী উপ-পুলিশ কমিশনার আনিসুর রহমান নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ মামলার ধার্য তারিখ সোমবারই অভিযোগপত্রটি সংশ্লিষ্ট ঢাকার দ্রুত বিচার হাকিমের আদালতে উপস্থাপন করা হবে। অভিযোগপত্রে উল্লিখিত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন:বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব মো. শাহজাহান, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জেডএম জাহিদ হোসেন, অ্যাডভোকেট এএনএম আবেদ রাজা, বিএনপি নেতা হাবিবুর রহমান হাবিব, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, ফোরকান ই আলম, সাইফুদ্দিন আহমেদ, জামাল শরিফ হিরু, তাজুল ইসলাম, নাজমুল হোসেন রাসেল, মনজুর হোসেন, এহসানুল হক, আজিজুল ইসলাম মুনির, আলাউদ্দিন মানিক, ইকবাল মোর্শেদ খান, কামাল আহমেদ প্রমুখ। সাক্ষ্য প্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সোহেল রানা, মো. শাকিল, নাঈম আহমেদ, এম এ সোবহান, মাহবুবুর রহমান ছানা ও জোনায়েদ ওসমানকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এর আগে গত ২০ মার্চ এ মামলার ১৫১ আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। অভিযোগপত্রে আসামিদের বিরুদ্ধে গত ১১ মার্চ বেলা ৩টার দিকে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে উল্লেখিত আসামিসহ ৫০/৬০ জন হঠাত্ করেই ইটপাটকেল, লোহার রড, শাবল, লাঠি, হকিস্টিক ইত্যাদি হাতে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তার ওপর, টপ কালেকশনের গলি ও নয়াপল্টন মসজিদ গলির সামনের রাস্তায় যানবাহন চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে, সরকারি বেসরকারি অফিস ও যানবাহন ভাঙচুর করে। পরপর ১৮/২০টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় ও রাস্তার ওপর ৭টি স্থানে টায়ার, চট, কাগজ দিয়ে আগুন ধরিয়ে ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়। পুলিশ এতে বাধা দিলে তারা পুলিশের ওপর ককটেল নিক্ষেপ করে, কর্তব্যরত পুলিশের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। পরে পুলিশ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের ভিতরে ঢুকে পড়ে। সেখান থেকেও তারা পুলিশের ওপর আরো দুটি ককটেল নিক্ষেপ করে। এ সময় পুলিশ বিএনপি কার্যালয়ের ভিতরে প্রবেশ করে তল্লাশি চালিয়ে ৩য় তলায় দাপ্তরিক রুমের বাথরুম থেকে ২টি, কনফারেন্স রুমের বাথরুম থেকে ২টি, ৪র্থ তলায় যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির অফিসের পূর্বকোণের বারান্দায় নির্মাণ সামগ্রীর সঙ্গে রাখা ৪টিসহ মোট ১০টি তাজা হাতবোমা উদ্ধার করে। উল্লেখ্য, গত ১১ মার্চ বিকালে নয়াপল্টনে ককটেল বিস্ফোরণ ও সহিংসতার ঘটনায় বিএনপির কেন্দ্রীয় অফিসে অভিযান চালিয়ে ১৫৪ জন নেতকর্মীকে আটক করে পুলিশ। পরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সাদেক হোসেন খোকা ও আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে ছেড়ে দেয়া হয়।