মায়াবী চোখের পাখি লাল পা পিউ

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০১৩, ২২:৩৩
মূলত এদের বাস মধ্য-পূর্ব এশিয়া থেকে বৈকাল হ্রদ পর্যন্ত। শীতকালে পরিযায়ী হয়ে আসে বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, দক্ষিণ চীন, মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনে। এরা জলচর পাখি। স্বভাবে শান্ত। গায়ে পড়ে ঝগড়া-ফ্যাসাদ বাধানো এদের স্বভাব নয়। সুন্দর একজোড়া মায়াবী চোখ। চেহারাও মন্দ নয়। শীত মৌসুমে আমাদের দেশের সব এলাকাতেই এদের দেখা মেলে। জলাশয়ে ছোট-বড় দল বেঁধে শিকার খুঁজে বেড়ায়। বেশি দেখা যায় উপকূলীয় এলাকায়। ভাটার সময় নদীর চড়ায় নেমে খাবার খোঁজে। এদের কণ্ঠস্বর বেশ চমত্কার। অনেকটা বাঁশির আওয়াজের মত। ‘টিইউ-টিইউ-টিইউ’ সুরে ডাকে। হঠাত্ শুনলে যে কেউ বাঁশির আওয়াজ বলে ভুল করেন। বিশেষ করে নির্জনে সুরটা শুনলে মন উতলা করে। এরা ভয় পেলে বা উড়তে উড়তে পিউ-পিউ সুরেও ডাকে। পাখিটার বাংলা নাম: ‘লাল পা পিউ’, ইংরেজি নাম: ‘কমন রেডশ্যাঙ্ক’, বৈজ্ঞানিক নাম: Tringa totanus, গোত্রের নাম: ‘স্কোলোপাসিদি’। এদের অন্য একটি প্রজাতির নাম সবুজ পা পিউ। লাল পা পিউ লম্বায় ২৭-২৯ সেন্টিমিটার। মাথা, ঘাড়, বুক, শরীরের উপরের পালকে বাদামি-ধূসর রেখা। ডানার পেছনের পালক সাদা। তলপেট থেকে বস্তিপ্রদেশ পর্যন্ত সাদাটে। ঠোঁট লম্বা সোজা। ঠোঁটের গোড়া কমলা-লাল, অগ্রভাগ কালচে। শরীরের তুলনায় পা খানিকটা লম্বা। পায়ের বর্ণ কমলা-লাল, নখ কালো। চোখের বলয় সাদা। প্রজনন সময়ে রঙ কিছুটা গাঢ় দেখায়। এ পাখির প্রধান খাবার ছোট মাছ, জলজ পোকামাকড়। প্রজনন সময় বসন্তকাল। প্রজননের আগ মুহূর্তে নিজেদের বসতভিটায় চলে যায়। এরা বাসা বাঁধে ভাসমান জলদামের ওপর। বাসা বানাতে ব্যবহার করে জলজ ঘাস লতাপাতা। ডিম পাড়ে ৩-৫টি। স্ত্রী-পুরুষ পালা করে ডিমে তা দেয়। ডিম ফুটতে সময় লাগে ২৩-২৫ দিন।