ফরিদপুরের সালতা উপজেলার আটঘর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মলয় কুমার বোস হত্যা মামলায় নয় জনের মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে ১২ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মো. মোতাহার হোসেন গতকাল রবিবার এই রায় দেন। অপরাধ প্রমাণিত না হওয়ায় আট জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছে আদালত। আসামিরা সবাই সালতা থানার অধিবাসী।
রায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: ইমামুল হোসেন তারা মিয়া (৬৫), বকুল মাতুব্বর (৩২), মিজানুর মোল্লা (২২), মামুন মাতুব্বর (২৩), হাশেম মোল্লা (৪৭), মোশারফ হোসেন মোল্লা (৩২), মনিরুজ্জামান শেখ (২৮), উজ্জ্বল বেপারী (২৮) ও বেলায়েত হোসেন বেলা (২২)। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন: আজাদ মোল্লা (৩৮), সোহেল মিয়া (২৬), আমিনুর মাতুব্বর (৩৬), সত্তার মোল্লা (২৫), নজরুল শেখ (২৮), নসরু খান (২৯), হাতেম মোল্লা (৪৫), অলিয়ার রহমান অলি (২৬), ইমরান মাতুব্বর (২৫), আক্কাস শিকদার (২৪), মিরাজ সরদার (২৮), সেন্টু মাতুব্বরকে (২২)। আসামিদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। এছাড়া পলাতক আসামি জাহাঙ্গীর ফকিরকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। খালাসপ্রাপ্তরা হলেন: ওমর শেখ (৩০), আসাদ মাতুব্বর (৪৫), বাবুল ফকির (৩২), দেলোয়ার মোল্লা (৩৮), সলেমান খান (২৮), সাহিদ মোল্লা (৩৫), ফিরোজ খান (৪২), আমিনুর মোল্লা।
মামলার ৩০ আসামির মধ্যে গ্রেফতারকৃত ২৭ জনের উপস্থিতিতে জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন বিচারক। রায় শুনে কাঠগাড়ায় দাঁড়ানো আসামিরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। কাউকে কাউকে চিত্কার করে কাঁদতে দেখা যায়।
আটঘরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মলয় (৪৫) গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি ফরিদপুর শহরের কোতয়ালি এলাকার রণকাইল গ্রামের নিমাই দাসের বাড়ির সামনে প্রতিপক্ষের হাতে খুন হন। সে সময় ওই হত্যাকাণ্ড গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন তোলে। ঘটনার দুই দিন পর নিহতের স্ত্রী ববিতা বোস ফরিদপুরের কোতয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার বিবরণে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সমর্থক স্থানীয় দুইটি পক্ষের দ্বন্দ্বের জেরে মলয়কে হত্যা করা হয়। হত্যার আগে মলয়কে বার বার হুমকি দেয় আসামিরা। বিষয়টি নিয়ে নিহতের পরিবারের সদস্যরা এলাকায় সংবাদ সম্মেলনও করে ।
ঘটনার দিন মলয় তার অনুসারী মো. সোহাগের মোটর সাইকেলে করে যাওয়ার সময় আসামিরা তাকে ঘেরাও করে কুপিয়ে হত্যা করে। গ্রেফতারের পর আসামি বেলায়েত ও মনিরুজ্জামান হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। এতে অন্য আসামিদের নামও প্রকাশ করে তারা। গত বছরের ২০ জুন এ মামলায় ৩০ জনকে অভিযুক্ত করে ফরিদপুর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। তবে মামলার বিচার চলাকালে জামিনে থাকা আসামি মনিরুজ্জামান, জাহাঙ্গীর, আক্কাস পালিয়ে যায়। রাষ্ট্রপক্ষে ৩৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে আদালত। গত বছরের নভেম্বর মাসে মামলাটি ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ পিপি এস এম রফিকুল ইসলাম, সৈয়দ রেজাউর রহমান ও কাজী নজিবুল্লাহ হীরু এবং আসামি পক্ষে টিএম আকবর ও শরফুদ্দিন খান মুকুল মামলা পরিচালনা করেন।
