‘শেখ মুজিব জানাজা পায়নি, তার কন্যা হাসিনাও পাবে না!’

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০১৩, ২২:৪০
‘১৯৭৫ সালে শেখ মুজিব জানাযার নামাজ পায়নি। একইভাবে তার কন্যা শেখ হাসিনাও জানাযা পাবে না।’ উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের মনখালী উত্তর পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে শুক্রবার জুমার নামাজের খুতবা পাঠকালে সংশ্লিষ্ট ঈমাম এই বক্তব্য রাখেন। এ ধরনের বক্তব্য প্রদানকে কেন্দ্র করে এলাকায় শান্তিপ্রিয় মুসল্লিদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ব্যাপারে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে গতকাল রবিবার উখিয়া থানায় ওই ঈমামসহ সাতজনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগে বলা হয়, গত ২২ মার্চ শুক্রবার জুমার নামাজের পূর্বে খুতবা পাঠকালে মসজিদের পেশ ঈমাম মৌলভী শামসুল আলম আকস্মিকভাবে জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের প্রসঙ্গ টেনে নামাজে আগত মুসল্লিদের উদ্দেশে উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান শুরু করেন। এ সময় তিনি বর্তমান সরকারের আমলে সরকার বিরোধী আন্দোলনে নিহতদের ‘শহীদ’ এবং সরকারকে ‘ইসলাম ও ওলামা বিদ্বেষী’ উল্লেখ করে সরকারের বিরুদ্ধে জিহাদে শরীক হওয়ার আহ্বান জানান। তার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন মনখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও উক্ত মসজিদের খতিব হাফেজ মৌলভী আকরামুল হুদা। খুতবা পাঠকালে মুসল্লিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার ইসলাম ও আলেম সমাজকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি আরো বলেন, সাঈদীকে চাঁদে দেখা গেলেও তাকে হত্যার জন্য এ সরকার মরিয়া হয়ে উঠেছে। সুতরাং শেখ মুজিবুর রহমানের যে পরিণতি হয়েছিল তারচেয়েও ভয়াবহ পরিণতির স্বীকার হবে তার মেয়ে শেখ হাসিনা। এ সময় স্থানীয় মুসল্লিরা খুতবা পাঠকালে ঈমামদের সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানালে ঈমামদ্বয় অন্য মুসল্লিদের আহ্বান করেন তাদের মারধর করতে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় স্থানীয় মুসল্লিদের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ক্ষুব্ধ মুসল্লি মোহাম্মদ মুছা (৪৫) বাদী হয়ে গতকাল উখিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে। উখিয়ার অফিসার ইনচার্জ গিয়াসউদ্দিন মিয়া অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।