মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে জাতিগত দাঙ্গা

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০১৩, ২১:১৩
মিয়ানমারের মধ্যাঞ্চলে জাতিগত দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার রাতে প্রশাসনিক রাজধানী নাইপাইদাউ-এর কাছে ইয়েমেথিন শহরতলীতে বৌদ্ধ ও মুসলমানদের মধ্যে নতুন করে সহিংসতায় অর্ধশত বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও মসজিদের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করা হয়। এ সংঘর্ষ পার্শ্ববর্তী তিনটি স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। খবর ডন অনলাইনের । সরকারি কর্মকর্তারা জানান, ওইদিন রাতে বৌদ্ধ ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে ওই ডজনখানেক বাড়িঘর ভাংচুর ও মসজিদের ব্যাপক ধ্বংস সাধন করা হয়। ইয়েমেথিন শহরের একজন ওয়ার্ড কর্মকর্তা বলেন, জাতিগত দাঙ্গা বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, এরই মধ্যে এই সহিংসতা এই অঞ্চলের তিনটি গ্রামে বিস্তার লাভ করেছে, যা ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অপর এক কর্মকর্তা জানান, যে সকল ঘর-বাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে তাদের মধ্যে বেশিরভাগই মুসলমানদের। তবে এতে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এর আগে বুধবার রাজধানী নাইপাইদাউ-এর ১৩০ কি.মি. উত্তরে মিকতিলা নামক স্থানে এই সংঘর্ষের প্রথম সূত্রপাত হয়। এতে তখন ৩৫জনের মৃত্যু এবং ৯ হাজারেরও বেশি লোক অন্যত্র পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এ অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে মিকতিলায় সেসময়ে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। গত বুধ ও বৃহস্পতিবার বৌদ্ধ ও মুসলমানদের মধ্যে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটে। উল্লেখ্য, গত বছর জুনে রাখাইন প্রদেশে বৌদ্ধ ও মুসলমানদের মধ্যে এ ধরনের সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৮০ জন নিহত ও ১ লাখেরও বেশি লোক বাস্তুচ্যুত হয়। মিয়ানমারের মোট জনসংখ্যার পাঁচ শতাংশেরও কম মুসলমান। মিকতিলা শহরে মুসলমানের সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার এবং বৌদ্ধদের সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার মিকতিলা মিয়ানমারের সেই অল্প কয়েকটি শহরের অন্যতম, যেখানে জনসংখ্যার একটা বড় অংশই মুসলমান।