কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলা প্রশাসনের অভ্যন্তরে অবস্থিত সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ক্রেতা-বিক্রেতাদের প্রতারণার মাধ্যমে অবৈধভাবে বছরে দেড় কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিবছর এই সাব-রেজিস্ট্রি অফিস থেকে খোশ কবলা, দানপত্র, হেবাদান, ওসিয়তনামা ও বন্টকনামায় বছরে সর্বনিম্ন ৫ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৬ হাজার দলিল সম্পাদন হয়ে থাকে। এরমধ্যে সর্বাধিক দলিল সম্পাদন হয় খোশ কবলা শ্রেণীর। পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নের ১১৮টি মৌজার মিরপুর উপজেলায় মৌজাওয়ারী সরকার নির্ধারিত ভিন্ন ভিন্ন মূল্য তালিকা রয়েছে। দলিল সম্পাদনে পৌরসভার মধ্যে ভূমির মূল্য তালিকা অনুযায়ী (স্ট্যাম্প ৩%, ডিসিট্যাক্স ২%,রেজিস্ট্রেশন ফিস ২% ও পৌর উত্সকর ২%) শতকরা ৯ টাকা এবং পৌরসভার বাইরে(স্ট্যাম্প ৩%, ডিসিট্যাক্স ২% ও রেজিস্ট্রেশন ফিস ২%) শতকরা ৭ টাকা হারে রশিদের মাধ্যমে গ্রহণ করে ভূমি রেজিস্ট্রেশন করার সরকারি বিধান রয়েছে। অথচ মিরপুর সাবরেজিস্ট্রি অফিসে সরকারি নিয়মের তোয়াক্কা না করে সরকারি রশিদ সরবরাহ ছাড়াই ভূমি ক্রেতাদের সাথে প্রতারণা করে পৌরসভা ও পৌরসভার বাইরে জমির দলিল রেজিস্ট্রেশন করতে সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে দ্বিগুণ, আবার কখনো কখনো ৩ গুণ হারে দীর্ঘদিন যাবত্ আদায় করা হচ্ছে। অবৈধভাবে হাতিয়ে নেয়া এই বিপুল পরিমাণ টাকার বড় ভাগটা যায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রার এবং এই অফিসের আওতাধীন দলিল লেখক সমিতির মাধ্যমে ৫৮ জন দলিল লেখকদের পকেটে। উপজেলার বিভিন্ন মহল থেকে মিরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ওপেন সিক্রেট দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়ার পর সমপ্রতি মিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজাদ জাহান লেলিন তার অফিসে ডেকে পাঠান সাব রেজিস্ট্রার গোলাম এলাহী, দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আবুল হাশেম, সেক্রেটারী কোরবান আলীসহ দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দকে। সে ঘটনার পর একদিন সরকার নির্ধারিত মূল্যে জমির দলিল সম্পাদন হতে দেখা গেলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজরদারি না থাকায় পরদিন থেকে আবার একই অবস্থায় দলিল সম্পাদন হতে দেখা যায়। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু জানান, মিরপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের অনিয়ম দুর্নীতি অবশ্যই প্রতিরোধ করতে হবে। তবে অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রসঙ্গে মিরপুর সাব-রেজিস্ট্রার গোলাম এলাহী ও হেডক্লার্ক স্বপন দত্ত কোন তথ্য প্রদান ও মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
