উপজেলার ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল কমপ্লেক্সে চিকিত্সক সংকট এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে চিকিত্সাসেবা ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে। ২১ জন চিকিত্সকের পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ৭ জন। প্রায় ৪ বছর থেকে এক্স-রে মেশিনটি বিকল, অপারেশন থিয়েটার (ওটি) বন্ধ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। স্বাস্থ্য সহকারীদের দিয়ে কোনরকমে জোড়াতালি দিয়ে চলছে চিকিত্সাসেবা। নানা সমস্যায় জর্জরিত হাসপাতালটি নিজেই যেন অসুস্থ হয়ে পড়েছে। প্রায় ৬ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত দেশের বৃহত্তম এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি রোগীদের চিকিত্সার একমাত্র ভরসাস্থল। কিন্তু চিকিত্সক সংকট, এক্স-রে মেশিন বিকল, অপারেশন থিয়েটার বন্ধ থাকা এবং কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে চিকিত্সাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এখানে মানসম্পন্ন অপারেশন থিয়েটার থাকলেও কোনো প্রকার অপারেশন করা হয় না। প্রসূতি মায়েরা এখানে সেবা নিতে এলে দালালদের মাধ্যমে কৌশলে তাদের ব্যক্তিগত প্রসূতি সেবাকেন্দ্রে পাঠিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। সরকারিভাবে ওষুধ সরবরাহের কথা থাকলেও বেশিরভাগ রোগীকে ওষুধ কিনতে হয় বাইরে থেকে। হাসপাতালটির এসব অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ম-দুর্নীতির কারণে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন চিকিত্সাসেবা নিতে আসা গরিব মানুষ। এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প. কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, এ সমস্যা শুধু মিঠাপুকুরে নয়, অন্যান্য হাসপাতালেও। চিকিত্সক সংকটের কারণে চিকিত্সাসেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না।
