জামালপুরে ১শ’ টাকার পাট বীজ ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি জাতের পাট বীজ সংকটে পাট চাষ ব্যাহত হওয়ার আশংকায় কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়ছেন। জানা যায়, জামালপুর জেলার কৃষি সমপ্রসারণ বিভাগ এ বছর ৭টি উপজেলায় প্রায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে। পাট উত্পাদন চাহিদা পূরণের জন্য ২১ টন দেশীয় জাতের পাট বীজ এবং ১শ’ ১৪ টন তোষা জাতের পাট বীজ বিক্রয়ের জন্য দায়িত্ব দেয় স্থানীয় বিএডিসি’র বীজ বিপণন কেন্দ্রের উপর। এসব দেশি পাট বীজের সরকারি মূল্য ধরা হয়েছে প্রতি কেজি ১শ’ টাকা। কৃষকদের হাতে পৌঁছে দেয়ার জন্য নির্ধারিত প্রতি ডিলারকে ৬০ থেকে সর্বোচ্চ ৮০ কেজি করে দেশি জাতের পাট বীজ বিক্রয়ের কথা রয়েছে। অথচ এ বছর জামালপুর বিএডিসি’র বীজ বিপণন বিভাগ ওই বীজ প্রকৃত ডিলারদের না দিয়ে কালোবাজারীদের হাতে তুলে দিয়েছে। কালোবাজারী ১শ’ টাকা মূল্যে পাট বীজ ২শ’ টাকায় অন্যত্র বিক্রয় করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। ফলে ১শ’ টাকা মূল্যের উন্নতমানের বীজ না পেয়ে নিম্নমানের পাট বীজ প্রতি কেজি ২শ’ ২০ টাকা দরে ক্রয় করে সাধারণ কৃষকরা প্রতারিত হচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলার বেশ ক’জন বীজ ডিলারের অভিযোগ, জামালপুরের বিএডিসি’র বীজ বিপণন বিভাগে দেশীয় পাট বীজের জন্য গেলে, বিপণন কেন্দ্রে কর্মকর্তারা দেশীয় পাট বীজ না দিয়ে বর্তমানে চাহিদা নেই তোষা জাতের পাট বীজ ও আউশ ধানের বীজ ধরিয়ে দেয়া হয়। নিতে অপারগতা প্রকাশ করলে প্রকৃত ডিলারদের পাট বীজ দেয়া হয় না। এ ব্যাপারে জামালপুর বিএডিসি’র বীজ বিপণন বিভাগের উপ-পরিচালক হাসমত আলী মিয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সরিষাবাড়ী উপজেলার জন্য আড়াই টন বীজ বরাদ্দ ছিল। কিন্তু সরিষাবাড়ী আসনের এমপি ডাঃ মুরাদ হাসান ক’জন ডিলারকে ৬ টন দেশি জাতের পাট বীজ দেয়ার জন্য একটি ডিও লেটার দিয়েছেন। তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত ৭ টন দেশি জাতের পাট বীজ জেলার বিভিন্ন ডিলারদের মাঝে সরবরাহ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে এমপি ডাঃ মুরাদ হাসানের সাথে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দলীয় কিছু ডিলাররা দেশি পাট বীজ উত্তোলনের জন্য আবেদন করায় আমি একটি সুপারিশ করেছি মাত্র। তবে তারা পাট বীজ তুলে কালোবাজারে বিক্রি করেছে কি না বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।
