খালেদার বক্তব্যে মন্ত্রিসভায় ক্ষোভ

প্রধানমন্ত্রী বললেন তার কথা তাকে বলতে দিন

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০১৩, ২২:২৮
প্রধান বিরোধী দল বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্যে ক্ষুব্ধ মন্ত্রিসভার সদস্যরা এর বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তারা বলেন, ‘বেগম জিয়ার বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল’ এ জন্য তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘তার ( বেগম জিয়ার) কথা তাকে দিতে দিন আপনারা আপনাদের কাজ করুন।’ গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার আনুষ্ঠানিক সভা শেষ হলে সকল মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী একযোগে দাঁড়িয়ে বেগম জিয়ার বক্তব্য উদ্ধৃত করে সমালোচনা শুরু করেন। প্রধানমন্ত্রী এ সভায় সভাপতিত্ব করছিলেন। গত রবিবার বগুড়ায় এক জনসভায় বিরোধী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, বিদেশে শান্তি প্রতিষ্ঠায় সেনাবাহিনী যেমন কাজ করছে তেমনি দেশেও শান্তি প্রতিষ্ঠায় যথাসময়ে তারা কাজ করবে’। গতকাল পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী আলোচনার সূত্রপাত করে বলেন, বিরোধী নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ‘সেনাবাহিনী সময়মতো কাজ করবে’ বলে বগুড়ায় যে বক্তব্য দিয়েছেন তা উস্কানীমূলক। এই বক্তব্য রাষ্ট্রদ্রোহের শামিল। এ জন্য তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। এ সময় দাঁড়িয়ে তার এই বক্তব্যকে সমর্থন জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকসহ প্রায় সকল সদস্য। তারা বলেন, জনবিচ্ছিন্ন হয়ে বেগম জিয়া অগণতান্ত্রিকভাবে সরকার উত্খাতের ষড়যন্ত্র করছেন। তিনি জনগণকে বিভ্রান্ত করার পাশাপাশি সেনাবাহিনীকে উস্কে দেয়ার কৌশল নিয়েছেন। যদিও গতকাল সোমবারই বিএনপি বগুড়ায় খালেদা জিয়ার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছে, সেনা হস্তক্ষেপের কথা বিরোধীদলীয় নেতা বলেননি। গণমাধ্যমে ওই বক্তব্য সঠিকভাবে উপস্থাপিত হয়নি দাবি করে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সেনা হস্তক্ষেপ বিএনপি সমর্থন করে না। সূত্র জানায়, বেশকিছু সময় ধরে মন্ত্রিসভার প্রায় সকল সদস্য একযোগে একইভাবে বক্তব্য দেন। এক পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের থামিয়ে দিয়ে বলেন, ‘তার যা বলার আছে তিনি বলুন। আপনারা বাধা দেন কেনো?। প্রজন্ম চত্বরসহ বিভিন্ন বিষয়ে খালেদা জিয়ার সাম্প্রতিক বক্তব্য খন্ডন করে আওয়ামী লীগের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে একটি সংবাদ সম্মেলন করার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে তিনি এ নির্দেশ দেন। এছাড়া সাংগঠনিকভাবে সভা-সমাবেশ করে খালেদা জিয়ার বক্তব্য সম্পর্কে দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেয়ারও নির্দেশ দেন তিনি।