১৮ দলের ডাকা ৩৬ ঘণ্টার হরতাল প্রত্যাখ্যান করে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় ১৪ দল বলেছে, শুধু যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা নয়, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া পিছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য গণতন্ত্র হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন। জনগণের ওপর তার কোন আস্থা নেই বলেই সম্প্রতি বগুড়ায় সমাবেশে তিনি সেনাবাহিনীসহ কিছু বিষয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত, রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত উস্কানিমূলক বক্তব্য রেখেছেন যা জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেত্রীর পদের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ও দায়িত্ব জ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড।
গতকাল বিকালে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের বৈঠকে নেতৃবৃন্দ এ কথা বলেন। বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, ওয়ান ইলেভেনের পর খালেদা জিয়া তার মনোনীত সেনা কর্মকর্তা দিয়ে গণতন্ত্র হত্যা করতে চেয়েছিলেন। আজ আবারো তিনি একই ষড়যন্ত্রে মাঠে নেমেছেন। দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ যখন দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তখন বিএনপি দেশকে অতীতের অন্ধকার যুগে ফিরিয়ে নিতে চায়। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য বিএনপি-জামায়াত জোটের ন্যায় সেনাবাহিনীকে ব্যবহার এবং সেনাবাহিনীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার মতো কোন কর্মকাণ্ড আমরা হতে দেব না।
১৪ দলের পক্ষে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিএনপি-জামায়াত-শিবিরের যুুদ্ধাপরাধীরা ভীত ও তাদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতারা শংকিত হয়ে এতদিন বেসামাল কথাবার্তা বলতো। আজ তারা বেপরোয়া আচরণ করছে। পবিত্র বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের অভ্যন্তরে তারা অগ্নিসংযোগ করেছে। জাতীয় পতাকা পুড়িয়ে দিয়েছে। শহীদ মিনার ভাংচুর করেছে।
মোহাম্মদ নাসিম বলেন, বিএনপি-জামায়াতিদের ঘোষিত কার্যকলাপ দেশদ্রোহিতার সামিল। গণতন্ত্রের ছদ্মাবরণে এরা দেশের প্রচলিত সংবিধানের মৌলিক বিষয়াবলীর সঙ্গে স্পষ্ট বিরোধিতা করছে। সবুজ জমিনে লাল রক্ত সূর্য পতাকার বিপরীতে চাঁদতারা পতাকা উড়ানোর স্বপ্নে বিভোর থাকে। তাই ১৪ দল সরকার ও প্রশাসনের কাছে দেশবাসীর পক্ষ থেকে আহ্বান জানাতে চাই বোমাবাজ, অস্ত্রবাজ, সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আরো কঠোরভাবে অভিযান পরিচালনা করুন।
মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত এমপি, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক কমরেড দিলীপ বড়ুয়া, গণআজাদী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুস সামাদ, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়া, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান মল্লিক, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবীর নানক এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মিজবাউদ্দিন সিরাজ, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, উপ-দপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য সুজিত রায় নন্দী, আমিনুল ইসলাম আমিন, সাম্যবাদী দলের লুত্ফর রহমান, আবু হামেদ শাহাবউদ্দিন, ধীরেন সিংহ, ন্যাপের সহ-সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন, কমিউনিস্ট কেন্দ্রের আহ্বায়ক ডা. ওয়াজেদুল ইসলাম, যুগ্ম-আহ্বায়ক ডা. অসীত বরণ রায়, গণআজাদী লীগের আব্দুল জব্বার, এস কে শিকদার, গণতন্ত্রী পার্টির শহীদুল ইসলাম বাবু প্রমুখ। বৈঠকে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়। তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
বৈঠকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টর্নেডোতে ৩২ জনের প্রাণহানিতে গভীর শোক ও আহতদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়। আগামী ২৯ মার্চ গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে, বগুড়া ও চট্টগ্রামে কেন্দ্রীয় ১৪ দলের ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসাবে জনসভা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এই জনসভাগুলোতে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় ১৪ দলের নেতৃবন্দ বক্তব্য রাখবেন।
