চট্টগ্রামে শতাধিক রি-রোলিং মিল বন্ধ হয়ে গেছে

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০১৩, ২২:৪২
চট্টগ্রামে পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়ে গেছে শতাধিক রি-রোলিং মিল। এসব মিলে ৪০ গ্রেডের রড তৈরি হতো। বাজারে এ রডের চাহিদা কমে যাওয়ায় এসব মিল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও ব্যাংক ঋণের কারণে যেসব রি-রোলিং মিল বন্ধ হচ্ছে না তাদের লোকসান দিতে হচ্ছে। আবার রডের উত্পাদন খরচ চট্টগ্রামে বেশি হওয়ায় অনেক ব্যবসায়ী ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জে নতুন করে রি-রোলিং মিল নির্মাণ করছে। বাজারে ৬০ গ্রেডের রডের চাহিদা থাকলেও নির্মাণ শিল্পে মন্দার কারণে টন প্রতি দাম ৫/৬ হাজার টাকা কমেছে । সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ৪০ গ্রেডের রড দিয়ে সর্বোচ্চ ৪তলা ভবন ও ছোট ধরনের নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে বহুতল ভবন নির্মাণের হার বেড়ে যাওয়ায় বাজারে ৪০ গ্রেডের রডের চাহিদা ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ কমে গেছে। অথচ শুধু চট্টগ্রামে ৪০ গ্রেডের রড তৈরির প্রায় দেড় শতাধিক রি-রোলিং মিল ছিল। বর্তমানে ৪০টির মতো রি-রোলিং মিল রয়েছে। বাংলাদেশ রি-রোলিং মিলস অ্যাসোসিয়েশন চট্টগ্রামের সভাপতি জাফর আলম ইত্তেফাককে বলেন, বাজারে চাহিদা কম থাকায় ৪০ গ্রেডের রড তৈরির মিলগুলো চরম লোকসানে পড়েছে। এছাড়াও শ্রমিক, গ্যাস, বিদ্যুত্ ও কাঁচামালের দাম বেশি হওয়ায় উত্পাদন খরচ বেড়ে গেছে; কিন্তু বিপরীতে রডের দাম কমে গেছে। এছাড়া ৬০ গ্রেডের রডের দামও কমে গেছে। অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক কর্মকর্তা ও মিল মালিক আবু তাহের বলেন, ব্যাংক ঋণের কারণে অনেকেই ৪০ গ্রেডের লোকসানি এসব রি-রোলিং মিল চালু রাখতে বাধ্য হচ্ছে। সংশিষ্ট সূত্রে আরো জানা যায়, চট্টগ্রামে বর্তমানে ছোট-বড় প্রায় ৫০টি রি-রোলিং মিল চালু রয়েছে। গ্যাস সংকটের কারণে সপ্তাহে চারদিন গ্যাস পাওয়া যায়। এছাড়াও দিনের বেলায় এখন লোডশেডিং বৃদ্ধি পেয়েছে। এই শিল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের দৈনিক ৪ ঘণ্টার বেশি কাজ করানো যায় না। কারণ অতিরিক্ত কাজ করলে শারীরিকভাবে ক্ষতি হতে পারে। এছাড়াও ঘণ্টা হিসাবে শ্রমিকদের বেতন প্রদান করা হয়। এতে বেশি শ্রমিকের প্রয়োজন হচ্ছে। সব মিলিয়ে ৪০ গ্রেডের মিলগুলোতে দৈনিক ৪০ থেকে ৫০ টনের বেশি রড উত্পাদন করা যায় না। চট্টগ্রামের রি-রোলিং মিলের মালিকরা জানান, ঢাকার চেয়ে চট্টগ্রামে রডের উত্পাদন খরচ বেশি। এছাড়াও ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ এলাকায় স্থাপিত রি-রোলিং মিল থেকে বিক্রি পণ্যের রাজস্ব যাচাইয়ের কোনো তল্লাশি কেন্দ্র নেই। এতে ঢাকার চেয়ে চট্টগ্রামের রড ব্যবসায়ীদের প্রতি টনে ৩ হাজার ২০০ টাকা খরচ বেশি হয়। তাছাড়া চট্টগ্রামে গ্যাস ও বিদ্যুত্ সংকট বেশি। যার কারণে অনেকে ঢাকায় ইস্পাত শিল্প-কারখানা নির্মাণ করছে। ফলে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছে না।