পৃথিবীতে অনেক প্রাণী আছে যারা মানুষের খুব উপকারী, আবার অনেক ধরণের প্রাণী আছে যারা খুবই বিষধর। আসরের বন্ধুরা, গত দিনের আসরে তোমাদেরকে পৃথিবীর পাঁচটি বিষধর প্রাণীর গল্প শুনিয়েছিলাম। আজ আরও পাঁচটি বিষধর প্রাণী নিয়ে আলোচনা করবো। এসো জেনে নিই।
ইনল্যান্ড তাইপ্যান (Inland Taipan)
পৃৃথিবীর সবচে বিষধর সাপ হচ্ছে- ইনল্যান্ড তাইপ্যান, পাওয়া যায় অস্ট্রেলিয়ায়। তাইপ্যানের বিষ সাধারণ গোখরো সাপের চেয়ে ২০০-৪০০ গুণ বেশি বিষাক্ত। এরা এতটাই বিষধর যে, এক কামড়ে যতোটুকু বিষ বের হয়, তাতে প্রায় ১০০ জন লোকের মৃত্যু হতে পারে। এই সাংঘাতিক বিষ যে কোন প্রাণীর স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত হানে। এর ফলে মাত্র ৪৫ মিনিটেই একজন মানুষ মারা যেতে পারে। তবে স্বস্তির ব্যাপার হলো, এরা খুবই লাজুক, মানুষের সামনে আসেই না সাধারণত।
বিষধর সোনালী ব্যাঙ (Golden poison frog)
মধ্য বা দক্ষিণ আমেরিকার জঙ্গলে তোমরা যদি কখনও বেড়াতে যাও, অনেক সুন্দর প্রাণীর মাঝে কিছু সুন্দর ব্যাঙও দেখতে পাবে। দেখতে যতোই সুন্দর হোক না কেনো ওগুলো কিন্তু ভয়ানক বিষধর। সেখানকার জঙ্গলে পাওয়া যায় এমনই কিছু ব্যাঙ। যাদের আবার পয়জন ডার্ট ব্যাঙও (Poison dart frog) বলা হয়। কারণটা কী বলো তো? আমেরিকার আদিবাসীরা এদের বিষকে শিকারের কাজে ব্যবহার করতো। গায়ে আগুনের আঁঁচ দিলেই এরা বিষ নিঃসরণ করে। আর সেই বিষ আদিবাসীরা তীরের ডগায় লাগিয়ে শিকার করতো। এদের গায়ে যথেষ্ট পরিমাণে বিষ থাকে। এতো বেশি পরিমাণ বিষ থাকে যে ২০,০০০ টি ইঁদুরের এর ফলে নিশ্চিত মৃত্যু হতে পারে। এদের বিষের মাত্র ২ মাইক্রোগ্রাম (এক গ্রামের দশ লক্ষ ভাগের মাত্র ২ ভাগ) একজন মানুষের মৃত্যুর জন্য যথেষ্ট। দুই মাইক্রোগ্রাম কতটুকু হতে পারে? একটা সুঁই বা আলপিনের মাথার বিন্দুর সমান। ভাবতে পারো!
পটকা মাছ (Puffer Fish)
পটকা মাছ হয়তো তোমরা অনেকেই চেনো। এরাও কিন্তু বিষাক্ত। এদের বিষক্রিয়ায় প্রায়ই মানুষ আক্রান্ত হয়। এই মাছ খেতে গিয়ে প্রায়ই বিষাক্রান্ত হয় মানুষ। মানুষ এই মাছ বিষাক্ত জেনেও খায়। জাপান এবং কোরিয়ার লোকেরা এদের খুব মজা করে খায়। অবশ্য এদের সব অঙ্গ কিন্তু বিষাক্ত নয়। মস্তিষ্ক এবং চামড়ায় সবচে বেশি বিষ থাকে। জাপানে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত রাধুঁনিই (Cheff) আছে, যারা জানে এই মাছের কোন কোন অংশ খাওয়া যায়। জাপানি’রা এই মাছ দিয়ে তৈরী স্যুপকে বলে “ফুগু (Fugu)” আর কোরিয়ান’রা বলে “বক-উহ (Bok-Uh)”। ঠিকমতো প্রক্রিয়াজাত করা না হলেই সেগুলো বিষক্রিয়া সৃষ্টি করে।
নীল চাকতির অক্টোপাস (Blue Ringed Octopus)
গলফ খেলার কথা শুনেছ নিশ্চয়ই? এই নীল চাকতির অক্টোপাস (Blue Ringed Octopus) আকারে অত্যন্ত ছোট, বড়জোর একটা সেই গলফ বলের আকৃতির হয়ে থাকে। কিন্তু এর বিষকে মোটেও ছোট করে দেখলে হবে না। এটি যে পরিমাণ বিষ বহন করে সেটি দিয়ে ২৬ জন পূর্নবয়স্ক মানুষকে একমিনিটের মাঝে মেরে ফেলা সম্ভব। এবং এই বিষের কোন প্রতিষেধক নেই। এটির কামড় যন্ত্রণাহীন হলেও এর মারাত্বক নিউরোটক্সিন বিষ সাথে সাথে কাজ করতে শুরু করে। মাংশপেশীর অসারতা এবং গা গোলানো থেকে এর বিষের লক্ষণ শুরু হয় এবং পরিণামে মৃত্যু নিয়ে আসে। জাপান এবং অষ্ট্রেলিয়ার শান্ত সমুদ্রে জোয়ারের সময় এদের দেখতে পাওয়া যায়।
বাক্স/বাকসো জেলিফিস (Box Jellyfish)
পৃথিবীর সবচে বিষাক্ত প্রাণীর মুকুটটি পরে বসে আছে এই অদ্ভুত সুন্দর প্রাণীটি। দেখতে অপরূপ হলেও এটি সাক্ষাত মৃত্যুদুত। এর বিষ পৃথিবীতে সবচে শক্তিশালী। সাধারণত এশিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার সাগরে এদের দেখা মেলে। সাধারণত গভীর সমুদ্রে থাকলেও মাঝে মাঝে খাবারের সন্ধানে সমুদ্র তীরের কাছাকাছি এসে পরে। তখন মানুষ এদের দ্বারা আক্রান্ত হয়। এরা বেশিরভাগ সময়ে মানুষের পায়ে আক্রমন করে এদের বিষাক্ত হুল দ্বারা। এর বিষের সবচে ভালো প্রতিষেধক হচ্ছে ভিনেগার। বিষক্রিয়ার কমপক্ষে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে ভিনেগার দিতে হবে। ভিনেগারে আছে acetic acid যা জেলি ফিসের বিষকে রক্তে মিশে যেতে বাধা প্রদান করে এবং সেই সাথে ব্যথাও উপশম করে।
