১৯৭৪ সালে স্থাপিত হয় খিলগাঁও গভ: কলোনী হাইস্কুল। ১৯৯৫ সালে সরকারিভাবে স্কুলের নামে জমি বরাদ্দ হয়। ১৯৯৬ সালে স্কুলটি স্বীকৃতি লাভ করে। ২০০৪ সালে স্কুলটি দোতলা হয়েছে। এখানে মানবিক, বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষাসহ তিনটি বিভাগ চালু আছে। ২০১১ সালে স্কুলের পাঠ সহজবোধ্য এবং দক্ষতা অর্জনের জন্য মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে শিক্ষাদান করা হয়। স্কুলের কম্পিউটার সমৃদ্ধ ল্যাবে শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার শিক্ষা প্রদান করা হচ্ছে। এই স্কুলের শিক্ষক মো: জহিরুল ইসলাম সরকারের মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টের প্রশিক্ষণে ঢাকা জেলার মধ্যে ২য় স্থান লাভ করে। স্কুলের পিএসসি পরীক্ষায় পাসের হার শতভাগ এবং এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ৯৫ ভাগ। স্কুলে বর্তমানে ৯শ শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে স্কুলের নিজস্ব খেলার মাঠ না থাকায় বিপাকে আছে শিক্ষার্থীরা। স্কুলটির অবকাঠামো ও পরিবেশ যেকোন পথিকের নজর কাড়ে। খেলাধুলা ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় জেলায় কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করে চলেছে। এ স্কুলে আছে একটি চৌকস স্কাউট ও গার্লস গাইড দল। স্কুলের এ ঐতিহ্যের পেছনে রয়েছে অভিজ্ঞ শিক্ষকমণ্ডলীর প্রচেষ্টা, পরিচালনা পরিষদ ও এলাকার অভিভাবকদের সহযোগিতা। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কৃতিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে এই স্কুলের বহু ছাত্র-ছাত্রী। বর্তমানে প্রধান শিক্ষক মো: মোকলেছুর রহমানের পরিচালনায় একদল দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক-শিক্ষিকার স্নেহের পরশে ছাত্র-ছাত্রীরা অধ্যয়নরত আছে।
মো: নিজাম উদ্দীন
১০ম শ্রেণি, রোল নং-১
১৯৭৪ সাল থেকে ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি জ্ঞানের আলো ছড়াচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করে অনেকে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। প্রতিষ্ঠানটি সামনের দিকে আরো সুনামের সঙ্গে ভালো ফলাফলে অবদান রাখবে এটা আমার প্রত্যাশা। আমি আমার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে দেশের প্রথম সারির উচ্চ বিদ্যালয় হিসাবে দেখতে চাই।
মানছুরা আক্তার
৯ম শ্রেণি, রোল নং-১
বর্তমান যুগের সাথে তাল মিলিয়ে কম্পিউটার শিক্ষা গ্রহণ করা খুবই জরুরি। আমি চাই আমাদের বিদ্যালয়ের কম্পিউটার ল্যাবে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকুক। যার মাধ্যমে ইন্টারনেট সেবাগুলো পেতে সহজ হবে। আমার বিদ্যালয়টি ভালো ফলাফলের ধারা অব্যাহত রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। আমি চাই বিদ্যালয়টি দেশের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
তাছমিয়া সুলতানা
৮ম শ্রেণি, রোল নং-১
আমি আমার বিদ্যালয়টি সবদিক থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ দেখতে চাই। শিক্ষা, বিনোদন, সাহিত্য-সংস্কৃতি, খেলাধুলাসহ সকল দিক থেকে সমভাবে কৃতিত্বের সঙ্গে এগিয়ে যাক এবং সামাজিক দায়িত্ববোধ সৃষ্টির মাধ্যমে দেশ ও জাতি গঠনে শিক্ষার্থীরা অবদান রাখুক এটাই আমার প্রত্যাশা। আমি এই বিদ্যালয়টিকে ঢাকাবাসীর অহংকার হিসাবে দেখতে চাই।
আয়শা আক্তার বিথী
৭ম শ্রেণি, রোল নং-১
ফলাফলের দিক থেকে আমাদের স্কুল সবসময় ভালো করে। আমরা বিদ্যালয়টিকে সবসময় ভালো ফলাফলের সেরা বিদ্যালয় হিসাবে দেখতে চাই। সেইসাথে বিদ্যালয়ের সকল ধরনের সামাজিক কর্মকাণ্ড ও খেলাধুলার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিক্ষা সফর প্রভৃতি কর্মকাণ্ড দেখতে চাই। নিয়মিত বিতর্ক চর্চার দাবি জানাই।
সাকিব আহমেদ
৬ষ্ঠ শ্রেণি, রোল নং-১
আমি আমার বিদ্যালয়ে ক্যান্টিন, ফুল বাগান, পাঠাগার ও বিজ্ঞানাগারের আরো উন্নয়ন চাই। এছাড়া প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ ও শিক্ষা সহায়ক পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে একটি আদর্শ বিদ্যালয় হিসাবে দেখতে চাই। সেইসাথে বিদ্যালয়টি এই অঞ্চলের সেরা স্কুল হিসাবে গড়ে উঠুক যাতে করে আমরা আমাদের এই স্কুলকে নিয়ে গর্ব করতে পারি।
মো: মোকলেছুর রহমান
প্রধান শিক্ষক
বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সুনামের সঙ্গে সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করে যাচ্ছে। এটি ঢাকা মহানগরীর ছেলে-মেয়েদের অন্যতম বিদ্যাপীঠ হিসাবে পরিচিত। তবে স্কুলের নিজস্ব খেলার মাঠ নেই। ক্লাস রুমেরও সংকট রয়েছে। তাই স্কুলের নিজস্ব খেলার মাঠ ও ক্লাস রুমের সংকট কাটানোর দাবি জানাচ্ছি। আশা করছি সরকারের কাছ থেকে এসব সহযোগিতা পেলে বিদ্যালয়টি দেশের শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত করা সম্ভব হবে। বিদ্যালয়টির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও সাধারণ জ্ঞান চর্চার মাধ্যমে প্রতিভা বিকাশের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়।
