বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন এর উচ্চশিক্ষা মানোন্নয়ন প্রকল্প (হেকেপ) এর আওতায় পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর উদ্যানতত্ত্ব বিভাগে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি সংস্থাপনের মাধ্যমে মানসম্মত গবেষণার ক্ষেত্র সৃষ্টি করা হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে ইতোমধ্যেই ‘প্লান্ট বায়োটেকনোলজি ল্যাব’ এবং ‘জার্মপ্লাজম সেন্টার’ স্থাপন করা হয়েছে। মানসম্পন্ন কৃষি গ্রাজুয়েট তৈরি এবং একইসাথে দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিক্ষেত্রে আধুনিক কলাকৌশল প্রয়োগের নিমিত্তে নব প্রতিষ্ঠিত গবেষণাগার যথেষ্ট সহায়ক ভূমিকা রাখবে। উপ-প্রকল্প ব্যবস্থাপক এবং উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. মাহবুব রব্বানীর বক্তব্য অনুযায়ী জাপানের সিনসু বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা মডেলের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশের উপযোগী করে এই গবেষণা পরিকল্পনা তৈরি করা হয়। প্লান্ট বায়োটেকনোলজি ল্যাবরেটরিতে ছাত্রছাত্রীরা হাতে-কলমে টিস্যু কালচার এবং ডিএনএ এনালাইসিস করার দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে। বর্তমানে ৪ জন এমএস এবং ২ জন পিএইচডি ছাত্র উক্ত ল্যাবে গবেষণা কর্মে নিয়োজিত আছেন এবং অধ্যয়নরত বিএসসিএজি (অনার্স) এর ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য শিক্ষার সহায়ক হিসেবে কাজ করবো। গ্রাজুয়েট লেভেলের ছাত্রছাত্রীরা টিসুকালচার এবং জেনেটিং ইঞ্জিনিয়ারিং এর ব্যবহারিক ক্লাসসমূহ হাতে-কলমে চর্চা করার সুযোগ পাচ্ছে। টিস্যু কালচারের মাধ্যমে অতি অল্প সময়ের মধ্যেই যে কোন গাছের লক্ষ লক্ষ চারা তৈরি করা সম্ভব। বাংলাদেশের উত্তর অঞ্চল তথা রাজশাহী জেলায় গোলআলু এবং স্ট্রবেরির চারা তৈরির ক্ষেত্রে বাণিজ্যিকভাবে টিস্যুকালচার প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে যা এখন থেকে দক্ষিণাঞ্চলে করার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের গবেষণা দলের বক্তব্য অনুযায়ী ইতোমধ্যেই বেশ কিছু প্রোটোকল তৈরি করা সম্ভব হয়েছে এবং অচিরেই বাণিজ্যিকভাবে চারা উত্পাদনের কাজ শুরু করা যাবে। বাণিজ্যিকভাবে চারা উত্পাদনের ক্ষেত্রে দক্ষিণাঞ্চলের জন্য আশাপ্রদ ফসলসমূহকে সর্বাধিক গুরত্ব দেয়া হবে বলে গবেষণা দল জানিয়েছেন। এক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি এবং ব্যক্তি উদ্যোক্তাদের আগ্রহকে বিবেচনায় এনে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে। ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শামসুদ্দিন এর মতে, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে চলমান হেকেপ কার্যক্রম একটি ফলপ্রসূ কর্মসূচি।
