‘ক্লাসটা মাঝে মাঝেই মিস হতো। এ নিয়ে যে আমি একেবারেই টেনশন মুক্ত থাকতাম তা নয়। কারণ নিয়মিত ক্লাস না করলে অ্যাটেন্ডেন্স মার্ক, ক্লাস টেস্ট হাত ছাড়া হওয়ার আশঙ্কা সব সময়ই আমাকে তাড়া করত। তাছাড়া মায়ের আদর ভরা শাসন আমাকে জড়িয়ে থাকতো সব সময়।’
কথাগুলো বলছিলেন স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী আহানাফ মোস্তাফিজ ওয়াশিক। তবে আজ ওয়াশিক শুধু সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র নয়। সে এখন ক্যাম্পাস তারকা। খুব অল্প সময়ে বেশ কিছু শর্ট ফিল্ম, নাটক ও বিজ্ঞাপনের কাজ করে ক্যাম্পাসে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। আরো কিছু নাটক ও বিজ্ঞাপনের কাজ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তিনি। এরই ফাঁকে গল্প হচ্ছিলো ওয়াশিকের সাথে।
কিভাবে এ জগতে আগমন? জানতে চেয়েছিলাম তার কাছে। তিনি জানান, ‘ভার্সিটিতে আসা-যাওয়ার মাঝে এক ভাইয়ের সাথে পরিচয় হয়। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি তিনি একজন নাটক নির্মাতা। আমি তাঁর কাছে আমার অভিনয়ের অভিপ্রায় তুলে ধরলে তিনি আমাকে এ জগতে যাওয়ার সুযোগ করে দেন। আর সেখান থেকেই আমার কাজ শুরু হয়।’
ছাত্র অবস্থায় অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয় তাহলে লেখাপড়ার সমন্বয় করেন কিভাবে? উত্তরে ওয়াশিক, ‘আসলে সত্যি কথা বলতে কি লেখাপড়ার ক্ষতি যে হয় না তা নয়। তবে আমার বন্ধু ও শিক্ষকরা যথেষ্ট আন্তরিকতার সাথে আমাকে সাহায্য করেন। তা নাহলে তো আমাকে আদু ভাই হয়েই থাকতে হতো। তাছাড়া আমার মা ও বড় ভাইয়া আমাকে যথেষ্ট উত্সাহ ও অনুপ্রেরণা দিয়ে সহযোগিতা করেন।
ওয়াশিক একজন অভিনয় শিল্পী হিসেবে নিজেকে তৈরি করতে চাইলেও তিনি একজন ভালো ক্রিকেটারও বটে। লেখাপড়ার ও অভিনয়ের ফাঁকে বন্ধুদের সাথে ক্রিকেট খেলেন।
অভিনয় নিয়ে পরিকল্পনার কথা ওয়াশিক জানান এভাবে-‘নাটকের জগতে নিজেকে একজন ভালো চরিত্রের অভিনয় শিল্পী হিসেবে তৈরি করতে চাই। বাংলাদেশের সংস্কৃতি জগতে অপসংস্কৃতির কালো ছাঁয়াকে সরিয়ে আলোকিত করতে চাই। ভালো নির্মাতা, ভালো গল্প ও ভালো চরিত্র পেলে অভিনয়টা নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
