দেশে বর্জ্য থেকে বিদ্যুত্ উত্পাদনের প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। খবরটি সত্যিই ইতিবাচক। বিদ্যুত্ স্বল্পতার কারণে যেখানে অনেক মিল-কারখানা বন্ধের পথে সেখানে ফেলে দেওয়া বর্জ্য থেকে বিদ্যুত্ উত্পাদন বড় ধরনের ভূমিকা রাখবে। বিদ্যুতের জন্য আমাদের অর্থনীতির চাকা শ্লথ হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে জ্বালানি দিয়ে বিদ্যুত্ উত্পাদন করার কারণে সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যাংকিং সেক্টরকে বেসামাল করে দিয়েছে বলে অভিযোগ শোনা যায়। সে পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বর্জ্য বিদ্যুত্ কিছুটা আশার সঞ্চার করবে নিঃসন্দেহে। স্বল্প মূল্যে বিদ্যুত্ দিতে গেলে আমাদের বিকল্প পন্থায় বিদ্যুত্ উত্পাদনের চিন্তা সরকারকে করতে হবে। সৌর বিদ্যুত্ হতে পারে আরেকটি স্বল্প মূল্যের বিদ্যুতের উপকরণ। তাছাড়া সরকার পারমাণবিক বিদ্যুতের প্রকল্প হাতে নেওয়ায় বিদ্যুত্ অনেকটাই দেশের মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে আশা করা যায়।
দেশে প্রথমবারের মতো বর্জ্য থেকে বিদ্যুত্ উত্পাদনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ইটালির একটি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। দেশে বিদ্যুত্ সংকট এবং বিদ্যুত্ উত্পাদনে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দুষ্প্রাপ্যতার সময়ে এ পদক্ষেপকে একটি শুভ সংবাদ বলা যেতে পারে। আমরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। যদিও বর্জ্য বিদ্যুত্ প্রকল্পে উত্পাদিত বিদ্যুতের পরিমাণ খুবই কম। তারপরেও ভবিষ্যতে তা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। উন্নত বিশ্বে এজন্য নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও হবে। তখন কম বর্জ্যে বেশি বিদ্যুত্ উত্পাদন সম্ভবপর হবে। দেশে এ ধরনের অনেক প্রকল্প গড়ে উঠলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। তাছাড়া এর ফলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজটি অধিকতর সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে। দেশে প্রতিদিন যে বিপুল পরিমাণ আবর্জনা জমা হয় তার এখন সদ্ব্যবহারের একটি সুযোগ তৈরি হবে। বর্জ্য বিদ্যুত্ প্রকল্পের একটি সুবিধা হলো, এ ধরনের প্রকল্প স্থাপনে খুব বেশি অর্থের প্রয়োজন হয় না। এতে সরকারকে কোনো বিনিয়োগ করতে হবে না। শুধু এ কোম্পানিই বিনিয়োগ করবে ৩০ কোটি মার্কিন ডলার। প্রকল্পটি থেকে প্রথম পর্যায়ে ৫০ মেগাওয়াট এবং পরে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদিত হবে। প্রকল্পে ২ হাজার লোকের কর্মসংস্থান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ২০ বছর পর্যন্ত এ বিদ্যুত্ ব্যবহার করতে পারবে।
দেশে গ্যাসের মজুদ ফুরিয়ে আসছে। কয়লা উত্তোলনের বিষয়টি পদ্ধতিগত বিতর্কের মাঝে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পারমাণবিক বিদ্যুত্ প্রকল্পের বাস্তবায়ন একটি দীর্ঘমেয়াদি ব্যাপার। আমদানিকৃত ব্যয়বহুল জ্বালানি তেলচালিত রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল প্রকল্পের ওপর বেশিদিন নির্ভর করা সম্ভব নয়। দেশের আবহাওয়া ও পরিবেশ-প্রকৃতি জলবিদ্যুত্ উত্পাদনের খুব বেশি উপযোগী নয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুত্ উত্পাদনে বিকল্প জ্বালানির উেসর সন্ধান করতে হবে বৈকি। স্থানীয় পর্যায়ে সৌরবিদ্যুত্, বায়ুচালিত বিদ্যুত্, বর্জ্য বিদ্যুত্ ইত্যাদির ছোট ছোট প্রকল্প স্থাপন করে প্রত্যন্ত এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা অনেকাংশে পূরণ করা যেতে পারে। এক্ষেত্রে চীন ও জাপানের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানো উচিত। চীনে ৫০টি বর্জ্য থেকে জ্বালানি প্রকল্প গড়ে উঠেছে বলে জানা যায়। দেশটি এ ধরনের প্রকল্পের সম্প্রসারণে আমাদের সহযোগিতা করতে পারে। একটি দেশের উন্নতির শিখরে পৌঁছতে যেটা প্রয়োজন সেটা হলো বিদ্যুত্। দেশে বিদ্যুত্ স্বল্পতার কারণে অনেক কল-কারখানা বন্ধ হওয়ার উপক্রম। বসে বসে তারা ব্যাংকের ঋণ শোধ করছে। বর্জ্য বিদ্যুত্ দিয়ে এবার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছা তেমন কোনো জটিল ব্যাপার হবে না। শুধু দরকার একটু শুভ উদ্যোগ।
মুন্সীগঞ্জ
