অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই দেশের মানুষের কাম্য

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৩, ২০:৪৪
বিরোধী দল রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুতে এক কাতারে এসে দাঁড়িয়েছে। এটাই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের শক্তি। এ চেতনাবোধই আমাদের প্রয়োজন ছিল। এখান থেকেই আমরা কি পারি না দেশটাকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে? সকল রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব-বিভেদ ভুলে দেশের স্বার্থে এক কাতারে দাঁড়াতে? সরকারি দলও যদি বিরোধী দলের প্রতি সম্মান দেখাতে তাদের কিছু ন্যায্য দাবি মেনে নেয় তাহলে তারা ছোট হবে না। একটি দেশ এগিয়ে যেতে বিরোধী দলের ভূমিকাকে খাটো করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। এক দিনের হরতালে দেশের ২ হাজার কোটি টাকা ক্ষতি। শুধু গার্মেন্টস সেক্টরেই তিনশ ষাট কোটি টাকা ক্ষতি হয়। বিদেশি অনেক ক্রেতা রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা বিরাজ করায় দেশের পোশাকখাতের অর্ডার দিতে অনীহা প্রকাশ করেন। তার কারণ সময়মতো যদি মাল সরবরাহ না করতে পারেন তাহলে তার ক্ষতি গুনতে হবে বহুগুণ। বিশ্বের অনেক ক্রেতা অন্যান্য দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা থাকায় বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন। এখন এখানে এসেও যদি বৈরী পরিবেশ দেখতে পান তাহলে তাঁরাও অন্য কোনো দেশে পোশাকখাতের ক্রেতা হবেন। তাতে দেশের অর্থনীতি আরো নাজুক দশায় উপনীত হবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আমাদের সত্যিকার অর্থেই প্রয়োজন। এ দেশের কর্মসংস্থানের বড় জোগানটাই দেয় গার্মেন্টস সেক্টর। এ খাতের কল্যাণে দেশের অর্থনীতির ভিত অনেকটা শক্তিশালী রয়েছে। দেশের সমস্যার গভীরে প্রবেশ করে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের রাজনীতি করবে। একে অপরের সঙ্গে শত্রু ভাবাপন্ন না হয়ে সত্যিকার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মতো কার্যকর ভূমিকায় অবতীর্ণ হবে সেটাই হবে সঠিক গণতন্ত্র চর্চা। রাজনৈতিক দলগুলো একে অপরের ভালো কাজের মূল্যায়ন করবে। খারাপ কাজেরও গঠনমূলক সমালোচনা করতে হবে। আগামী নির্বাচন কীভাবে হবে সেটা নিয়েই মূলত রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে। সরকারি দলের কাজ হবে সংলাপে বিরোধী দলকে আমন্ত্রণ করে তাদের মতামত জানা। তারা যদি দেশের স্বার্থে কোনো ভালো প্রস্তাব দেয় সেটা মেনে নেয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। নইলে রাজপথের আন্দোলনে দেশের মানুষের ক্ষতি হবে। সে ধরনের কোনো সুযোগ যাতে তারা না পায় সেটাই বিবেচ্য বিষয়। একটি ইতিবাচক সংলাপই পারে রাষ্ট্রের সকল অনাচার দূর করতে। বিরোধী দলেরও কাজ হবে সংলাপ ফলপ্রসূ করা। তারা এ ক্ষেত্রে নৈরাজ্যের পথ পরিহার করে গঠনমূলক দাবি পেশ করলে অবশ্যই সরকারি দল তা মেনে নিতে বাধ্য হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে মনে রাখতে হবে কোনো কূটকৌশল করে নির্বাচনের বৈতরণী পার হওয়া যাবে না। অবাধ, সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনই দেশের মানুষের কাম্য। স্বাধীন বাংলাদেশে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল বা জাসদ প্রথম হরতালের সূচনা করে। সে আবহ এখনো কাজ করছে। এ অপসংস্কৃতি থেকে রাজনৈতিক দলগুলোকে বের হতে হবে। পরিশেষে রাজনৈতিক দলগুলো যেভাবে রাষ্ট্রপতির মৃত্যুতে এক কাতারে দাঁড়িয়েছে তা বজায় থাকুক। সরকারি দল বিরোধী দলের গঠনমূলক প্রস্তাব মেনে নিয়ে সত্যিকার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভূমিকায় অবতীর্ণ হোক— সে প্রত্যাশাই দেশবাসী করেন। মুন্সীগঞ্জ