সিএজি নিয়োগ নিয়ে জটিলতা কাটেনি

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৩, ২০:৪৭
ইত্তেফাক রিপোর্ট সরকারি ব্যয় সংক্রান্ত হিসাব যাচাইয়ের সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (কম্পট্রোলার এন্ড অডিটর জেনারেল-সিএজি) নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতা কাটেনি। সাংবিধানিক এই প্রতিষ্ঠানে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে একজন কর্মকর্তাকে ভারপ্রাপ্ত সিএজি হিসেবে পদায়ন করায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের দাবি, সাংবিধানিক পদ হওয়ায় এই পদে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগ দেয়ার বিধান রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় নিয়োগ দেয়ার ক্ষমতা রাখে না। সূত্র জানায়, গত ফেব্রুয়ারি মাসের ১১ তারিখে তত্কালীন সিএজি আহমেদ আতাউল হাকিমের মেয়াদ শেষ হয়। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয় এক আদেশ বলে বিসিএস নিরীক্ষা ও হিসাব ক্যাডারের কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে ডিঙ্গিয়ে একজনকে পদায়ন করে। একজন উপ-সচিবের স্বাক্ষর করা এই আদেশে রাষ্ট্রপতির কোন অনুমোদন নেয়া হয়নি। সংবিধানের ১৩০নং অনুচ্ছেন অনুযায়ী, সিএজি পদ শূন্য থাকলে অথবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্যকোন কারণে সন্তোষজনক ক্ষেত্রে সংবিধানের ১২৭ অনুচ্ছেদের অধীনে সিএজি নিয়োগদান না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি একজন অস্থায়ী সিএজি নিয়োগ দিতে পারেন। টিআইবি’র উদ্বেগ :এদিকে সিএজি নিয়োগ নিয়ে জটিলতায় উদ্বেগ জানিয়ে দ্রুত সিএজি নিয়োগের দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সিএজি নিয়োগের ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অযাচিত হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ জানিয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অনতিবিলম্বে নতুন সিএজি নিয়োগের জন্য অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে দাবি জানিয়েছে টিআইবি। এক বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘সিএজির অবর্তমানে নিরীক্ষা প্রতিবেদন চূড়ান্ত করে যথাযথভাবে পেশ করা সম্ভবপর হচ্ছে না। ফলে সংশ্লিষ্ট খাতে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সম্ভাব্য ঘাটতি ও অনিয়ম ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। যার ফলে সরকারি খাতে দুর্নীতি প্রসারের ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেই সাথে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অহেতুক দীর্ঘসূত্রিতা উদ্দেশ্যমূলক হলে তার তদন্ত করে তার প্রতিকারে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানানো হয়।