হলমার্ক গ্রুপের দায়-দেনা নিয়মিত করতে সোনালী ব্যাংককে অর্থ মন্ত্রণালয়ের চিঠি

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৩, ২০:৪৭
ইত্তেফাক রিপোর্ট হলমার্ক গ্রুপের বন্ধ থাকা সবগুলো কারখানা চালু করতে ওই গ্রুপের দায়-দেনা নিয়মিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। এজন্য সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) বরাবর একটি চিঠি দিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। কারখানা চালু করার জন্য সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে চিঠি দিয়েছে ওই গ্রুপ। তারই পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ মন্ত্রণালয় সোনালী ব্যাংকে এ অনুরোধ জানিয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের ওই চিঠিতে হলমার্ক গ্রুপের যাবতীয় সম্পদ ও আয়-ব্যয়ের একটি বিবরণী এবং হলমার্ক গ্রুপের সম্পদ থেকে কিভাবে সোনালী ব্যাংকের দায়-দেনা নিয়মিত করে ব্যাংকিং কার্যক্রম চালুসহ ওই গ্রুপের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পুনরায় চালু করা যা সে বিষয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ একটি প্রতিবেদন ওই বিভাগে জরুরি ভিত্তিতে পাঠানোর অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়া শতভাগ রফতানিমুখী তৈরি পোশাক রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান হলমার্ক গ্রুপের বন্ধ কারখানগুলো চালু, ৪০ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান রক্ষা ও সোনালী ব্যাংকের সকল দায়-দেনা নিয়মিত করার জন্য কি সুযোগ দেয়া যায় সে বিষয়েও জানতে চাওয়া হয়েছে। হলমার্ক গ্রুপের কারখানা চালুর বিষয়ে হলমার্ক গ্রুপের চিঠিতে বলা হয়েছিল, হলমার্ক গ্রুপের ৫০টি তৈরি পোশাক কারখানায় রফতানি আদেশ থাকা সত্ত্বেও শুধু ব্যাংকগুলো ঋণপত্র (এলসি) না খোলার কারণে এসব কারখানার প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ছেন। কারখানাগুলো বন্ধ থাকার কারণে এসব কারখানায় ব্যবহূত প্রায় ৫০০ কোটি টাকা মূল্যমানের যন্ত্রপাতিসহ প্রায় ৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। এ অবস্থায় বন্ধ থাকা কারখানাগুলো চালু করা সম্ভব হলে চাকরি হারানো ৪০ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে। এতে দেশের রফতানি আয়ও বাড়বে। ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, হলমার্ক গ্রুপের এমডি তানভীর মাহমুদসহ অন্যদের গ্রেফতার করার সময়ও কোম্পানির কাছে বিদেশি নামী-দামী ব্রান্ডগুলোর প্রায় ৩০০ কোটি টাকার রফতানি অর্ডার ছিলো। সেগুলো রফতানি করতে গিয়ে ব্যাংকে ঋণপত্র খুলতে গেলে ব্যাংকগুলোর অসহযোগিতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। এতে ওইসব অর্ডার বাতিল হয়ে গেছে। তা সত্ত্বেও হলমার্ক ৪০ হাজার শ্রমিকের কর্মসংস্থান বিবেচনায় সাব-কন্ট্রাক্টের ভিত্তিতে কারখানাগুলো চালু রাখার চেষ্টা করে। তবে এতো বিশাল কারখানা এভাবে চালু রাখতে গিয়ে বিপুল লোকসানের মুখে পড়তে হয়। এ কারণে গত ঈদ উল আযহার সময় থেকেই কারখানাগুলো বন্ধ রয়েছে। এখনো এ গ্রুপের কাছে প্রায় এক কোটি ডলারের রফতানি আদেশ রয়েছে। কারখানাগুলো চালু করে সঠিকভাবে রফতানি করতে পারলে গ্রুপটির পক্ষে বছরে প্রায় দুই হাজার ৪০০ কোটি টাকার পণ্য রফতানি করা সম্ভব হবে। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদী কিস্তির মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের বকেয়া ঋণও পরিশোধ করা সহজ হবে। সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে ভুয়া কাগজপত্রে রূপসী বাংলা শাখা থেকে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয় হলমার্ক গ্রুপ। ব্যাংকিংখাতের এ চাঞ্চল্যকর অনিয়মের ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর দায়ের করা মামলায় এমডি তানভীর মাহমুদসহ হলমার্ক গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সোনালী ব্যাংকের বেশ কিছু কর্মকর্তা বর্তমানে আটক রয়েছেন।