রেজাউল হক কৌশিক
ব্যাংক আমানত বীমা তহবিলে গত ডিসেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংকগুলো প্রায় ১০৬ কোটি টাকার প্রিমিয়াম জমা দিয়েছে। এতে এ তহবিলের পরিমাণ বেড়ে দুই হাজার ৫৪৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি প্রিমিয়ার হারে পরিবর্তন করে কিছুটা বাড়িয়ে দেয়ার কারণে গত প্রান্তিকে সর্বোচ্চ প্রিমিয়াম আদায় হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
ব্যাংকের আমানতকারীদের আমানতের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য সব ব্যাংককে ইন্সুরেন্স করতে হয়। অর্থাত্ কোনো ব্যাংক যদি অবসায়িত (দেউলিয়া) হয় তখন আমানাতকারীদের গচ্ছিত অর্থ যাতে ফেরত দেয়া যায় সেজন্য ব্যাংকগুলো ওই তহবিলে আগে থেকেই অর্থ সংরক্ষণ করা হয়। এ তহবিলের সার্বিক ব্যবস্থাপনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ব্যাংকগুলোকে প্রতি ৬ মাস পর-পর মোট আমানতের ওপর নির্দিষ্ট হারে প্রিমিয়াম জমা দেয়। আর জমা দিতে ব্যর্থ হলে বাংলাদেশ ব্যাংকে তার রক্ষিত হিসাব থেকে প্রিমিয়ামের অর্থ কেটে রাখা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী এর আগে প্রতি একশ’ টাকা আমানতের বিপরীতে ব্যাংকগুলোকে ৭ পয়সা হারে প্রিমিয়াম জমা দিতে হতো। তবে এবারই প্রথম প্রতি একশ’ টাকায় ৮ পয়সা হারে প্রিমিয়াম জমা দিতে হয়েছে। এছাড়া আরলি ওয়ার্নিংয়ে থাকা ব্যাংকের ক্ষেত্রে ৮ পয়সার পরিবর্তে ৯ পয়সা হারে এবং সমস্যাগ্রস্ত (প্রবলেম) ব্যাংক থেকে ৯ পয়সার পরিবর্তে ১০ পয়সা হারে প্রিমিয়াম জমার বিধান করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, আমানত বীমা তহবিলে জমা করা অর্থের মধ্যে বর্তমানে দুই হাজার ৪৩৬ কোটি টাকা সরকারের পাঁচ ও দশ বছর মেয়াদী বন্ডে বিনিয়োগ রয়েছে। এই বীমা তহবিল থেকে ন্যূনতম ৫ কোটি টাকা এক সঙ্গে বিনিয়োগের বিধান রয়েছে। তাই শিগগিরই বাকী অর্থও বিনিয়োগ করা হবে।
