স্বাধীনতা দিবস উদযাপনে নানা কর্মসূচি

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৩, ২০:৪৯
গতকাল মঙ্গলবার দেশের বিভিন্ন স্থানে যথাযোগ্য মর্যাদায় ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়। আয়োজন করা হয় নানা কর্মসূচির। বরিশাল অফিস জানায়, নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এখানে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা দিবস পালিত হয়। ২৫ মার্চ কালোরাত্রি স্মরণে রাত সোয়া ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মোমবাতি প্রজ্বলন করে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম, ৭১’র ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটিসহ বিভিন্ন সংগঠন। স্বাধীনতা দিবসের প্রথম প্রহরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বিভাগীয় কমিশনার নূরুল আমিন, ডিআইজি ডা. আব্দুর রহিম, জেলা প্রশাসক শহীদুল আলমসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। গতকাল মঙ্গলবার সূর্যোদয়ের সাথে সাথে জেলা পুলিশ লাইন্স মাঠে ৩১ বার তোপধ্বনির মধ্য দিয়ে দিবসটির সূচনা করা হয়। এরপর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি সিটি মেয়র শওকত হোসেন হিরন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সংসদ সদস্য তালুকদার মো. ইউনুস, মুক্তিযোদ্ধা সেক্টর কমান্ডারস, মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা প্রশাসন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধ এবং বান্দ রোডের ত্রিশ গোডাউন সংলগ্ন বধ্যভূমিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। দিবসটি উপলক্ষে বিএনপিসহ বিভিন্ন সংগঠন শোভাযাত্রা বের করে। দুপুর ১২টায় মহানগর বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার এমপির নেতৃত্বে একটি শোভাযাত্রা নগর প্রদক্ষিণ শেষে স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। সকাল সাড়ে ৮টায় শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজে সালাম গ্রহণ করেন বিভাগীয় কমিশনার। এরপর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিশুরা নানান ডিসপ্লে ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে। রাজশাহী অফিস জানায়, গতকাল দিবসের প্রথম প্রহরে মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে জেলা ও মহানগরীর বিভিন্ন শহীদ মিনারে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, সরকারি-বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের মানুষ পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। শহীদ কামরুজ্জামান বিভাগীয় স্টেডিয়ামে কুচকাওয়াজ ও শারীরিক কসরত্ প্রদর্শন, রাজশাহী শিশু একাডেমীতে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চিত্রাঙ্কন, কবিতা আবৃত্তি, গান, রচনা লিখন প্রতিযোগিতা, মসজিদে বিশেষ দোয়া ও বিভিন্ন উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনা, মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা, আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। কারাগার, হাসপাতাল, সরকারি শিশুসদন ও এতিমখানায় উন্নত খাবার পরিবেশন, নগরীর প্রধান সড়ক রঙবেরঙের পতাকা দিয়ে সাজানো হয়। খুলনা অফিস জানায়, যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি ও অসাম্প্রদায়িক সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে ৪২তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস গতকাল যথাযথ মর্যাদায় খুলনায় পালিত হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল দিবসের প্রথম প্রহরে নগরীর গল্লামারীস্থ স্বাধীনতা স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, সকালে নগরীতে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনাসভা, দোয়া মাহফিল ও শিশুদের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা। বেলা ১২টায় খুলনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা প্রশাসক মেজবাহ উদ্দিন। প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল জলিল, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের জেলা আহ্বায়ক সরদার মাহবুবার রহমান ও মহানগর আহ্বায়ক অধ্যাপক আলমগীর কবীর। খুলনা মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান। খুলনা মহানগর ও জেলা বিএনপির উদ্যোগে কেডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপি। প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম নুরুল ইসলাম। সকালে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির উদ্যোগে শহরে পৃথকভাবে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। রংপুর সংবাদদাতা জানান, রংপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু এবং নগরীর মডার্ন মোড়ে স্বাধীনতা স্তম্ভ অর্জন-এ রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার জসীম উদ্দিন আহমেদের পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যদিয়ে কর্মসূচি শুরু করা হয়। স্বাধীনতা স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন পুলিশের রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি ইকবাল বাহার পিপিএম, জেলা প্রশাসক ফরিদ আহাম্মদ, পুলিশ সুপার আব্দুর রাজ্জাক পিপিএমসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষপমাল্য অর্পণ করে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি (এ), রংপুর চেম্বার অব কর্মাস, রংপুর প্রেসক্লাব, জেলা পরিষদ, রিপোর্টার্স ক্লাব, ফটো জার্নালিষ্ট অ্যাসোসিয়েশন, রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। এছাড়া রংপুর স্টেডিয়ামে পুলিশ, আনসার, ভিডিপি, স্কাউট গার্লস গাইডসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিশুদের কুচকাওয়াজ, টাউল হলে মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধকালীন শহীদ পরিবার এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সংবর্ধনা, মসজিদ ও মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। হাসপাতাল, এতিমখানা, জেলখানা, ভবঘুরে আশ্রয় কেন্দ্র ও শিশু কেন্দ্রে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়। শিশু একাডেমী প্রাঙ্গণে শিশুদের চিত্রাংকন, নৃত্য, সঙ্গীত, আবৃত্তি ও খেলাধূলা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, গতকাল মঙ্গলবার প্রথম প্রহরে শহীদ বেদীতে ফুল দিয়ে শহীদদের শ্রদ্ধা জানান গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. আব্দুল বাতেনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া জেলা প্রশাসন, জেলা পরিষদ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, গাজীপুর প্রেসক্লাব, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা জানানো হয়। স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর জানান, গতকাল প্রথম প্রহরে ভূমি প্রতিমন্ত্রী এ্যাড. মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার এমপি’র নেতৃত্বে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে শহীদ বেদীতে এসে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করা হয়। এরপর দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ইকবালুর রহিম, সুলতানা বুলবুল এমপি, দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আজিজুল ইমাম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক আহমেদ শামীম আল রাজীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন, স্কুল-কলেজের ছাত্র/ছাত্রীরা শহীদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। প্রায় ৫শ’ মুক্তিযোদ্ধাকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ফুল দিয়ে সম্বর্ধনা দেয়া হয়। এছাড়াও আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মসজিদ,মন্দিরে বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। বগুড়া প্রতিনিধি জানান, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ত্বরান্বিত করার দাবিতে বগুড়ায় উদযাপন করা হলো মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। দিবসের সূচনালগ্নে জেলা প্রশাসন ও জাতীয়তাবাদী সংগঠনগুলো শহরের ফুলবাড়ি এলাকায় অবস্থিত মুক্তির ফুলবাড়ী স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করে। আর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ প্রগতিশীল সংগঠনগুলো শ্রদ্ধা নিবেদন করে বগুড়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। শহরের কেন্দ্রস্থল সাতমাথা প্রজন্ম চত্বরে গণজাগরণ মঞ্চ আয়োজন করে দিনভর ছাত্র-যুব-জনতা সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের। ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, গতকাল সকাল সাতটায় শহরের গোয়ালচামটে শহীদ স্মৃতিফলকে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। পরে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। স্টেডিয়াম সংলগ্ন স্থানে গণকবরে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। পরে কুচকাওয়াজ ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়। চাঁদপুর প্রতিনিধি জানান, দিবসের প্রধান কর্মসূচির মধ্যে ছিল ৩১ বার তোপধ্বনি, অঙ্গীকারের পাদদেশে পুষ্পস্তবক অর্পণ, পুলিশ আনসার ও শিশু-কিশোরদের কুচকাওয়াজ, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারবর্গের সংবর্ধনা, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ প্রার্থনা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ইত্যাদি। রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দলগুলো পৃথক পৃথক কর্মসূচি পালন করে। স্থানীয় পত্রিকাসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে। গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গতকাল দিবসের প্রথম প্রহরে শহরের বধ্য ভূমি স্মৃতিস্তম্ভ ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। গোপালগঞ্জস্থ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডীন প্রফেসর দিলীপ কুমার নাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এম খায়রুল আলম খান। বেলা ১১টায় বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিসৌধের বেদীতে পুস্পস্তবক অর্পণ, ফাতেহাপাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করে তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। টুিঙ্গপাড়ার কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ.ফ.ম বাহাউদ্দিন নাছিম, বি.এম মোজাম্মেল হক এমপি, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী এমপি, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ানসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এরপর সমাধিসৌধ মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জানান, ময়মনসিংহে ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধে রাত ১২টা ১ মিনিটে পুস্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, জেলা প্রশাসক লোকমান হোসেন মিয়া, পুলিশ সুপার মঈনুল হক। এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন। ময়মনসিংহ প্রেসক্লাব পৃথকভাবে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, গতকাল মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার জাফর আহমদ চৌধুরী কলেজে এক আলোচনা সভা ও গুণীজন সংবর্ধনা অনুষ্ঠান হয়। কলেজ অধ্যক্ষ আবদুল মান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও মুন্সি আবদুর রউফের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন কলেজ পরিচালনা পরিষদের সদস্য ও বঙ্গবন্ধু ফাইন্ডেশনের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আহ্বায়ক এড. আহমদ সাইফুদ্দিন ছিদ্দিকী। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক মোঃ হামিদ হোসাইন, অধ্যাপক হারুনর রশিদ, অধ্যাপক তড়িত্ কুমার ভট্টাচার্য্য প্রমুখ। শিক্ষার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য রূপালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপক আলহাজ্ব মনির আহমদ চৌধুরী কলেজের পক্ষ থেকে সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। উল্লেখ্য, জাফর আহমদ কলেজ প্রতিষ্ঠাকালে মনির আহমদ ২৭ শতক (সাড়ে তের গন্ডা) জায়গা কলেজকে দান করেন। রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি জানান, গতকাল সকালে ৩১ বার তোপধ্বনীর ও শহীদ বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শহীদদের শ্রদ্ধা জানানোর মধ্যে দিয়ে দিবসের সূচনা করা হয়। সরকারের পক্ষে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রাঙ্গামাটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, জেলা প্রশাসক মোঃ মোস্তফা কামাল, পুলিশ সুপার আমেনা বেগম। পরে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি অঙ্গ সংগঠনসমূহ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন শহীদ বেদীতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানান, গতকাল সকালে খাগড়াছড়ি জেলা সদরের শহীদ স্মৃতিসৌধে স্থানীয় সংসদ সদস্য যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা, পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা, জেলা প্রশাসক মো. মাসুদ করিম ও পুলিশ সুপার শেখ মিজানুর রহমানসহ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনসহ সরকারি-বেসরকারি এবং রাজনৈতিক-সামাজিক এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি জানান, গতকাল সকালে জেলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে কুচকাওয়াজের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মূকেশ চন্দ্র বিশ্বাস। পরে স্কুল, কলেজ ও বিভিন্ন সংগঠনের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের ডিসপ্লেতে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনীর গণহত্যার বিভিন্ন চিত্র নাট্যাংশের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়। জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারকে সংবর্ধনা দেয়া হয়। সাতক্ষীরা প্রতিনিধি জানান, সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে গতকাল মঙ্গলবার ভোরে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির শুভ সূচনা হয়। সকাল ৮টায় জেলা প্রশাসক ড. মুহাঃ আনোয়ার হোসেন হাওলাদার সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পরে পুলিশ, বিএনসিসি ও বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের সমম্বয়ে দৃষ্টি নন্দন মার্চপাস্ট, শরীরচর্চা প্রদর্শনী ও ডিসপ্লে অনুষ্ঠিত হয়। শহরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করে জেলা আওয়ামী লীগ। টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, গতকাল সকালে শহীদ স্মৃতি পৌরউদ্যানে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এরপর টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে কুচকাওয়াজ ও শরীরচর্চা প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসক আনিছুর রহমান মিঞা ও পুলিশ সুপার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর এতে অভিবাদন গ্রহণ করেন। মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারদের সংবর্ধনা দেন জেলা প্রশাসন। এছাড়া নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, জয়পুরহাট, নীলফামারী, পটুয়াখালী, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার, পঞ্চগড়, গাইবান্ধা, বাগেরহাট, বরগুনা জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয়েছে।