কাতারের রাজধানী দোহায় গতকাল মঙ্গলবার থেকে আরব লিগের দুই দিনব্যাপী শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয়েছে। এবারই প্রথম সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরোধীরা এই সম্মেলনে দেশটির প্রতিনিধিত্ব করছে। আরব দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা রবিবার সম্মেলনের প্রস্তুতির জন্য বৈঠক করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে সিরিয়া যুদ্ধ এবং আফগানিস্তানে তালেবানের সঙ্গে সরকারের শান্তি আলোচনা এবারের সম্মেলনের প্রধান বিষয় হবে।
এদিকে পদত্যাগ করার একদিন পরই সম্মেলনে যোগ দেয়ার জন্য সিরিয়ান ন্যাশনাল কোয়ালিশনের প্রেসিডেন্ট মোয়াজ আল-খতিব দোহায় পৌঁছেছেন। জানা গেছে, সিরিয়ার বিরোধী জোট তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেনি। সম্মেলনে বক্তৃতা করবেন বলে খতিব নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি কখন বক্তব্য রাখবেন সেটা বলেননি। এক টুইটার বার্তায় তিনি লিখেছেন, আমি সিরীয় জনগণের পক্ষে দোহা সম্মেলনে কথা বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
প্রসঙ্গত সিরিয়ায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ-বিদ্রোহ শুরু হওয়ার পর আরব লীগ দেশটিকে বহিষ্কার করে। পরে বিভিন্ন পশ্চিমা ও আরব দেশগুলো সিরিয়ার বিরোধী জোটকে স্বীকৃতি দেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এবার আরব লীগের শীর্ষ সম্মেলনে তাদের যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়।
এদিকে সিরিয়ার সরকার বিরোধী আন্দোলনকারীরা সোমবার জানিয়েছে, দেশটির সেনাবাহিনী দামেস্কর নিকটবর্তী আদরা শহরের এক সেনাঘাঁটিতে বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে রাসায়নিক উপাদানযুক্ত রকেট হামলা চালিয়েছে। এতে দুই যোদ্ধা নিহত ও ২৩ জন আহত হয়েছেন। ওই সেনাঘাঁটিটি চারদিক থেকে বিদ্রোহীরা ঘিরে রেখেছে বলে জানা গেছে। মোহাম্মাদ আল-দোউমানি নামে দৌমা শহরের একজন আন্দোলনকারী জানিয়েছে, ওই রাসায়নিক অস্ত্রে যে উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে তাকে চিকিত্সকরা ফসফরাস বলে উল্লেখ করেছেন। এটি স্নায়ুতন্ত্রে আঘাত হানে এবং এতে মানুষ ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে এবং অজ্ঞান হয়ে যায়।
বিদ্রোহী দুই যোদ্ধার খুব কাছে এটি বিস্ফোরিত হওয়ার কারণে তারা দ্রুতই মারা যান। তবে নিরপেক্ষভাবে এই ঘটনার সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এর আগে গত সপ্তাহে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর আলেপ্পোর কাছে প্রাণঘাতী রাসায়নিক ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় ২৫ জন নিহত এবং ৮৬ জন আহত হয়েছিল বলে দেশটির রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত টেলিভিশন জানিয়েছিল। ওই হামলার জন্য বিদ্রোহীরা দায়ী বলে সিরীয় সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল।
