গাইবান্ধা প্রতিনিধি
৭১-এর ‘মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাক হানাদার বাহিনী গাইবান্ধার বিভিন্ন স্থানে টর্চারসেল বানিয়ে পৈশাচিক নির্যাতন চালিয়ে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করে। গাইবান্ধা জেলায় ৩০টিরও বেশি এমন টর্চারসেলের সন্ধান পাওয়া গেছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্নগুলোতে স্বাধীনতার ৪২ বছরেও নির্মাণ করা হয়নি কোন স্মৃতিসৌধ। এই টর্চারসেলগুলো সংরক্ষণের কোন উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়নি।
তত্কালীন মহকুমা শহর গাইবান্ধার অন্যতম টর্চারসেল ছিল গাইবান্ধা স্টেডিয়াম সংলগ্ন কফিল শাহর নির্মাণাধীন গুদাম। প্রতিরাতেই বিভিন্ন স্থান থেকে নিরীহ লোকজন ধরে এনে পাক হানাদার বাহিনী নৃশংসভাবে তাদের হত্যা করে মাটিচাপা দিয়ে রাখতো। বিভিন্ন স্থান থেকে মেয়েদের ধরে এনে সেখানে দিনের বেলা বেঁধে রাখা হতো। আর রাতে তাদের ওপর চলতো পাশবিক নির্যাতন। এক সময় যখন তারা নির্যাতন আর বর্বরতার শিকার হয়ে মরণাপন্ন হয়ে পড়তো তখন গুলি করে নয়তো বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হতো। অনেক মুক্তিযোদ্ধাকে আটক করে অমানুষিক নির্যাতন চালিয়ে তাদের হত্যা করে সেখানে পুঁতে রাখা হয়।
শুধু কফিল শাহর নির্মাণাধীন গুদাম চত্বরই নয় হেলালপার্ক সংলগ্ন লাইনের ধারে শত শত নারী-পুরুষকে গুলি অথবা বেয়োনেট চার্জ করে হত্যার পর মাটি চাপা দিয়ে পুঁতে রাখা হয়। ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে কুখ্যাতি অর্জন করা এই টর্চারসেলটি এখনো বধ্যভূমির মর্যাদা পায়নি।
এছাড়া পলাশবাড়ির সড়ক ও জনপদ বিভাগের রেস্ট হাউসের পেছনের গুদাম ছিল গাইবান্ধার আরেকটি টর্চারসেল (বধ্যভূমি)। জেলার সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া রেলওয়ে জংশনে পাকসেনারা ঘাঁটি গেড়ে ওই এলাকায় টর্চারসেল গড়ে তোলে।
এভাবে গাইবান্ধা জেলায় ৩০টিরও বেশি এমন টর্চারসেল ও বধ্যভূমির সন্ধান পাওয়া গেছে। যেখানে মুক্তিযোদ্ধাসহ নিরীহ নারী-পুরুষকে নির্মমভাবে নির্যাতনের পর হত্যা করে মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়। কিন্তু ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধের এসব স্মারক চিহ্নগুলো আজও অবহেলিত হয়ে কালের করাল গ্রাসে হারিয়ে যাচ্ছে।
