সরিষাবাড়ীতে পুলিশ বিএনপি ও আওয়ামী লীগের সংঘর্ষে নিহত ১

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৩, ২২:৩২
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে মহান স্বাধীনতা দিবসে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধে ফুল দেয়াকে কেন্দ করে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষে এক বিএনপি কর্মী নিহত হয়েছে। দফায় দফায় সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত হয়েছে শতাধিক। এ সময় এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১৭৫ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে। গতকাল সকালে আরামনগর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৭টার দিকে জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীমের নেতৃত্বে বিএনপি মিছিল নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধে ফুল দিতে রওয়ানা করে। মিছিলটি আরামনগর বাজার ট্রাক সমিতি পর্যন্ত পৌঁছলে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা মিছিলে বাধা দেন। এ সময় বিএনপির সাথে তাদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ লাগে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ ও ফাঁকা গুলি করে। এ সময় আওয়ামী লীগ-বিএনপি ও পুলিশের মধ্যে ত্রিমুখী সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৭ রাউন্ড টিয়ার শেল ও ১৬৮ রাউন্ড শটগানের গুলিবর্ষণ করে বলে থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আসলাম উদ্দিন মিয়া জানান। দফায় দফায় সংঘর্ষ, পুলিশের গুলি, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইট পাটকেল নিক্ষেপে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। দুপুর পর্যন্ত সরিষাবাড়ী-জামালপুর সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। সংঘর্ষে বেলাল হোসেন (৫০) নামে এক বিএনপি কর্মী নিহত হন। এ সময় ওসি একেএম কামরুল আহসান, ইন্সপেক্টর (তদন্ত) আসলাম উদ্দিন মিয়া, তারাকান্দি তদন্ত কেন্দে র ইনচার্জ এসআই বসিরুল আলম, এএসআই কবির, কনস্টেবল তৌহিদসহ ১২ জন পুলিশ আহত হন। এছাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিম উদ্দিন আহমেদসহ বিএনপির শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক দেলওয়ার হায়দার, পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এএসপি (সদর সার্কেল) ইয়াসিন আলীর নেতৃত্বে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মেতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ নেতা প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান হেলালের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করা হয়। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ এ ঘটনায় পরস্পরকে দায়ী করেছে। জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করেন, স্থানীয় এমপির নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও পুলিশ যৌথভাবে বিএনপির মিছিলে হামলা করেছে। হামলায় পৌর বিএনপি’র এক কর্মী নিহত হন। তিন শতাধিক নেতা-কর্মী আহত হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জামালপুর জেলা বিএনপি আগামী শনিবার জামালপুর জেলায় অর্ধবেলা হরতালের ঘোষণা দেয় বলে জানা গেছে। তাত্ক্ষণিক অভিযোগ অস্বীকার করে পৃথক সাংবাদিক সম্মেলনে স্থানীয় এমপি ডা. মুরাদ হাসান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন বাদশা বলেন, বিএনপি-জামায়াত সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিতভাবে স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে বিশৃংখলা করতে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এই সময় বিএনপি নেতা-কর্মীদের হামলায় আওয়ামী লীগের প্রায় ৪০ জন নেতা-কর্মী আহত হয় বলে তারা দাবি করেন। সরিষাবাড়ী থানার ওসি একেএম কামরুল আহসান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ গুলি করেছে। ৩ প্লাটুন পুলিশ, ১ প্লাটুন র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে আরও ৫ প্লাটুন পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে থানা সূত্রে জানা গেছে। আরামনগর বাজার এলাকা থমথমে ও জনগণের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ জানায়। পরশুরামে ৬ জন আহত পরশুরাম সংবাদদাতা জানান, সোনাগাজীতে উপজেলা বিএনপি শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে পুষ্পস্তব অর্পণ করে ফেরার পথে বোমা নিক্ষেপকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সংঘর্ষে ৬ জন আহত হয়েছে। এসময় ৩টি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ১ রাউন্ড টিয়ারসেল নিক্ষেপ ও ১২ রাউন্ড শটগানের গুলিবর্ষণ করে।