যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে হিংস্র হয়ে উঠেছেন খালেদা জিয়া :আশরাফ

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০১৩, ২২:৩৫
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেছেন, যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সবচেয়ে বেশি হিংস ভূমিকা নিয়েছেন। রাজনীতি, শাসনব্যবস্থা ও সংবিধানে সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ আহ্বানের মাধ্যমে তিনি নজিরবিহীন কাজ করেছেন। পৃথিবীর কোনো গণতান্ত্রিক দেশে এ ধরনের কোনো ঘটনা অতীতে ঘটেছে কি না, আমার সন্দেহ আছে। বাংলাদেশ ছাড়া অন্য কোনো দেশ হলে আজ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা হতো। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে একাত্তরের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর বিচারের রায়কে কেন্দ্র করে সারাদেশে সংঘটিত সহিংসতার জন্য খালেদা জিয়াকে দায়ী করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, জামায়াতের এত শক্তি নাই যে তারা পুলিশ হত্যা করবে, সংখ্যালঘুদের হত্যা করবে বা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করবে। এই শক্তি হলো বেগম খালেদা জিয়ার শক্তি। তিনি সব শক্তি দিয়ে যুদ্ধাপরাধীর বিচার বানচাল করার জন্য আজকের সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন। জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে সৈয়দ আশরাফ বলেন, পৃথিবীতে এমন কোনো দেশ নাই, যেখানে যুদ্ধে পরাজিত বাহিনী রাজনীতির সুযোগ পায়। যারা যুদ্ধ করে পরাজিত হয়েছে, যাদের হাত থেকে আমরা যুদ্ধ করে স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিয়ে এসেছি, ৪২ বছর পরে তারা রাজনীতি করে; এটা একমাত্র বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর কোথাও সম্ভব নয়। সৈয়দ আশরাফ বলেন, বগুড়ার সমাবেশে খালেদা জিয়ার দেয়া বক্তব্য পত্রিকা ও টেলিভিশনের মাধ্যমে সবাই জানতে পেরেছে। কিন্তু বিএনপির পক্ষ থেকে এখন দাবি করা হচ্ছে, খালেদা জিয়া এটা বলেননি। তবে এসব করে ‘শাক দিয়ে মাছ ঢাকা’ সম্ভব নয়। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি অদ্ভুত দেশ। সবকিছু বলেই পার পেয়ে যাবেন। মামলার বিষয়টা আসবে না। কারণ তিনি সব আইনের ঊর্ধ্বে অথচ পৃথিবীর আর কেউ সব আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সমগ্র জাতিকে যুদ্ধাপরাধের বিচার প্রক্রিয়া শেষ করতে আরেকবারের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।