নতুন চমক নিয়ে আসছে

ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস সিক্স

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৩, ১৮:১১
আমাদের মধ্যে যারা রেসিং ও অ্যাকশন ছবি পছন্দ করেন, তাদের কাছে খুব প্রিয় সিনেমা ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’। ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’-প্রেমীদের জন্য সুখবর যে একমাস পরেই আসছে এই সিরিজের ৬ষ্ঠ সিক্যুয়েলটি। সিনেমাটির নায়িকা জর্ডানা ব্রিউস্টার ও সিনেমাটির গল্প নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম ভিন ডিজেল, পল ওয়াকার, জর্ডানা ব্রিউস্টার—এই তিন তারকা নিয়েই সিনেমা হিট। তার সাথে পঞ্চম সিক্যুয়েলে যোগ হয়েছেন ‘দ্য রক’। পঞ্চমটির কাহিনী ছিল মাফিয়া ও ড্রাগ লর্ডের গাড়ি চুরিকে নিয়ে। ১৩০ মিনিটের এ ছবিটির বাজেট ছিল সাড়ে ১২ কোটি ডলার। আর এ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী ‘ফাস্ট ফাইভ’ আয় করেছে প্রায় ৬১ কোটি ডলার। ৫ম পর্বের যেখানে শেষ ঠিক সেখান থেকেই শুরু করা হয়েছে এবারের সিক্যুয়েলটি। চেরিস মর্গানের লেখা এবং জাস্টিন লিনের পরিচালনায় নতুন সিনেমাটিতে নতুন বেশ কিছু চমক রাখা হয়েছে। ২০১০ সালে প্রথম গাড়ির রেস দিয়ে শুরু হয় ‘ফ্যাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’-এর পথচলা। পৃথিবীর বড় বড় দেশে এই ছবির শুট করা হয়। ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’-এর নতুন সিক্যুয়েলে ক্রিমিনাল ডোমিনিকের সাহায্য চাইতে আসে পুলিশ। শহরে একটা নতুন দল এসেছে যারা গাড়ি ও টাকা-পয়সা চুরি করে। তাদের পদ্ধতি অনেক বেশি আধুনিক। পাশাপাশি তারা ব্যবহার করে হাই স্পিড রেসিংকার। আর এ জন্যই ডমিনিকের সাহায্য চাওয়া। অনেক শর্ত দেওয়ার পর অবশেষে তারা সাহায্য করতে রাজি হয়। কিন্তু কেঁচো খুড়তে গিয়ে সাপ বেড়িয়ে পরে। ডমিনিক এমন এক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয় যার জন্য সে কোনোভাবেই প্রস্তুত ছিল না। আর সিনেমার শেষ চমকটা সিনেমাটা দেখার অপেক্ষাতেই তোলা থাক। অন্যান্য পর্বের মতো ভিন ডিজেল, ডিয়ানে রক জনসন, টাইরিস গিবসন এবং পল ওয়াকার আবারও একসঙ্গে হচ্ছেন। সেইসঙ্গে থাকছে গতি এবং টানটান উত্তেজনায় ভরপুর ‘কার ক্র্যাশ’। ফাস্ট সিরিজের এবারের পর্বটির সম্পূর্ণ শুটিং হয়েছে ইংল্যান্ডে। অর্থাত্ ব্রিটিশদের রাস্তায় এলোপাথাড়ি গাড়ি ছুটাবেন এবারের ‘ফাস্ট অ্যান্ড দ্য ফিউরিয়াস’-এর তারকারা। নতুন আকর্ষণের মধ্যে রয়েছে সাবেক ‘মিক্সড মার্শাল আর্ট’ ও তারকা জিনা কারানোর গ্ল্যামারাস উপস্থিতি। সিনেমাটি উপভোগ করার জন্যও ভক্তদের অপেক্ষা করতে হবে মে মাসের ২৪ তারিখ পর্যন্ত। জিনা কারানোর জিনা গ্র্যাজুয়েশন করেছেন লাসভেগাসের ট্রিনিটি ক্রিশ্চিয়ান হাই স্কুল থেকে। ছাত্রজীবন বাস্কেটবল দলের টিম লিডার ছিলেন। ভলিবল ও সফট বল খেলতেও সমান পারদর্শী তিনি। পরবর্তী সময়ে নেভাদা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোবিজ্ঞানে উচ্চতর পড়াশোনা করেন। অ্যাথলেট হিসেবে বহু প্রতিযোগিতায় বড় খেলোয়াড়দেরও হারিয়েছেন তিনি। আর এই সুবাদে ২০০৮ সালে ইএসপিএন ম্যাগাজিনে প্রচ্ছদেও আসেন সেরেনা উইলিয়ামসের সঙ্গে। ২০০৫ সালে প্রথম লাসভেগাসের পাঁচজন নারী থাই ফাইটারকে নিয়ে ‘রিং গার্লস’ নামক এক রিয়েলিটি শোতে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ক্যামেরার জগতে তার আবির্ভাব। এরপর কিছুদিন ‘ডব্লিউডব্লিউই’তে কুস্তি করেছেন। সর্বশেষ যোগ দেন আমেরিকান গ্লাডিয়েটরে। আর সেখানেই তার ফাইট দেখে তাকে নির্বাচন করেন পরিচালক সোডারবার্গ। ২৯ বছরে পা দেওয়া এই তরুণীর হলিউডে ক্যারিয়ার শুরু তার হাত ধরেই। তার সম্পর্কে সোডারবার্গ বলেন, ‘টিভিতে জিনাকে দেখে মনে হয়েছে, আরে এ তো নারী জেমস বন্ড, তবে অবশ্যই ভিন্নমাত্রার। আরও একটা কথা বলে নেওয়া প্রয়োজন, ‘হেওয়্যার’ ছবিতে জিনার জন্য কোনো স্টান্ট ডাবল কাজ করেনি। সবগুলো স্টান্ট ওর নিজেরই করা। হেওয়্যার পুরোটাই জিনার একক ছবি।’ উল্লেখ্য, ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’-এ জিনা এরকম অনেক অ্যাকশন রয়েছে, যে দৃশ্যগুলোতে কোনো স্টান্ট ব্যবহার করা হয়নি।