রকের দুনিয়ায় নবীন একটি নাম ‘রঙ’। এরই মাঝে যারা ব্যান্ডপ্রেমীদের মনে রঙ ছড়িয়েছে। ব্যান্ডের ধারায় নতুনত্বের অঙ্গীকার নিয়েই তাদের পথচলা শুরু হয়েছে। তাদের সময় ও সম্ভাবনার গল্প নিয়ে লিখেছেন মুহম্মদ কবীর
চোখ খুললেই রঙ। বোবা আর নির্বাক সব রঙ, যা আটকে থাকে শুধু চোখের সীমানায়। তবে আমাদের আলোচ্য রঙটি খুব শব্দময়। এর অস্তিত্বের পুরোটা জুড়ে আছে গান। এই রঙ সময়কে অনুবাদ করে চিন্তায় আর তা ছড়িয়ে দেয় শব্দে ও সুরে। ব্যান্ডের দুনিয়া নবীন এ রঙ এরই মাঝে নিজের অমিত সম্ভাবনার প্রমাণ দিয়েছে। এই রঙের উেস আছে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইতিহাস। আর তা হলো, দেশের মেধাবী মিউশিয়ানের খোঁজে ২০১১ সালে নেসক্যাফের আয়োজনে ‘গেট সেট রক’ শিরোনামের একটি অনুষ্ঠান হয়েছিল। সেই নতুন সংগীত প্রতিভাদের সমন্বয়ে গড়া ব্যান্ডদলগুলোর পরস্পরের সংগীত প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে ২০১২ সালে নির্ধারিত হয় চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ। সেই রানার্সআপ দলটির নামই রঙ। এই রঙকে বলা যায় প্রতিভা নির্যাস। কারণ এর প্রতিটি সদস্যকে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিতে হয়েছে। প্রত্যেকেরই আছে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি। তাই যখন রঙের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল এই মেধাবীদের আন্তঃসম্পর্কের কথা তখন যেন রঙই বিচ্ছুরিত হলো। কারণ, তাদের ভাষ্য ছিল, ‘আমরা প্রত্যেকেই তীব্র প্রতিযোগিতার ভেতর দিয়ে এসেছি। তাই একে অন্যের সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ধারণা পেয়েছি। আর এ কারণেই পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের জায়গাটা খুব পরিষ্কার। নিজেদের সাধ ও সাধ্য সম্পর্কেও আমরা ওয়াকিবহাল। তাই আমাদের সম্পর্কটা স্রেফ প্রফেশনাল নয়। আমরা একে অপরের যেমন ভক্ত তেমনি বন্ধুও। এর কাজের বাইরেও ব্যক্তিগত জীবনে একে অন্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছি। তাই রঙ শুধু ব্যান্ড নয়, আমাদের কাছে এরচেয়েও বেশি কিছু বলে মনে হয়।’ এই দলীয় ঐক্যই ‘গেট সেট রক’-এ সাফল্য এনে দিয়েছে বলে দাবি করে রঙ। এরপর রঙের কাছে ‘গেট সেট রক’-এর অভিজ্ঞতার কথা জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘আমাদের আজকের অবস্থানের মূল কৃতিত্ব এই অনুষ্ঠানটির। এই অনুষ্ঠানটি আমাদের শুধু একটা ব্যান্ড দেয়নি, আমাদের নানা অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ করেছে। এখানে অনেক কিছুই শিখেছি। বিশেষ করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার শিক্ষাটা এখানে খুব ভালোভাবে পেয়েছি।’ উল্লেখ্য, ‘গেট সেট রক’ প্রোগ্রামের অঙ্গীকার অনুযায়ী নেসক্যাফে চ্যাম্পিয়ন ব্যান্ড সিক্স ও রানার্সআপ ব্যান্ড রঙের গান নিয়ে গত ২৩ জানুয়ারি একটি অডিও অ্যালবাম প্রকাশ করে। এই অ্যালবামে সিক্সের পাঁচটি এবং রঙের চারটি গান রয়েছে। রঙের গানগুলো হলো—‘নীল খাম চিঠি’, ‘আল্লাহু ভগবান’, ‘অতৃপ্তি’ ও ‘বৃষ্টি’। গানগুলো লিখেছেন নুসরাত, রিপম, রাতুল ও ইমতিয়াজ; আর কম্পোজিশন করেছে রঙ নিজেই। শ্রোতাদের কাছে দেওয়া এই পরীক্ষাতেও রঙ সাফল্য পেয়েছে। এরই মাঝে তাদের গানগুলো বেশ সাড়া ফেলেছে। এই সাফল্যই রঙকে অনুপ্রাণিত করেছে একক অ্যালবাম প্রকাশে। রঙ জানায় আগামী বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ একটি অ্যালবাম তারা শ্রোতাদের হাতে তুলে দিতে পারবে বলে আশা করছেন। তাই হয়তো রঙের বর্তমান ব্যস্ততা জুড়ে আছে অধ্যবসায়—নিয়মিত প্র্যাকটিস। এর পাশাপাশি টিভি লাইভ শো ও কনসার্ট নিয়েও কাটছে তাদের সময়। সবশেষে গান নিয়ে রঙের ভাবনা হলো, ‘গান যেহেতু আমাদের অতীত ও বর্তমান, তাই ভবিষ্যতও বটে। আমরা পিউর রক করতে চাই। ছুঁতে চাই রকের আকাশ, তবে অবশ্যই শেকড়টা বাংলার মাটিতে রেখে।’
যাদের নিয়ে ‘রঙ’
হাসিব (ভোকাল), রাজিব (গিটার), মিঠুন (বেজড গিটার), ফুসি (ড্রামস), জুলফিকার (কিবোর্ড) ও শ্যামল দাস (ভায়োলিন)।
