মিউজিক

ব্রুনো মার্সের সুর

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৩, ১৮:১৩
সুর দিয়ে সবাইকে মাতিয়ে রাখেন সুরের জাদুকরেরা। তেমনই একজন এ প্রজন্মের জাদুকর ব্রুনো মারস। প্রযোজক হিসেবে মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে আসা এই তরুণ তার গায়ক হওয়ার পথটি পাড়ি দিয়েছেন সাহসের সাথে। সংগীতের জগতে তার পদচারণায় মুখরিত চারিদিক। সুরের এ জাদুকরকে নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জে জন্ম এবং সেখানেই তার বেড়ে উঠা। তিনি আর কেউ নন, বিখ্যাত গায়ক ব্রুনো মারস। তার নামের সাথে মারস শব্দটি তার নিজের যোগ করা। এই প্রজন্মের হার্টথ্রব গায়ক ব্রুনো মনে করেন, তিনি এই পৃথিবীর কেউ না, তিনি ‘মারস’ অর্থাত্ মঙ্গলগ্রহ থেকে এসেছেন। তাই তিনি তার নিজের নামের সঙ্গে ‘মারস’ লাগিয়ে নিয়েছেন। সংগীতানুরাগী পরিবারে জন্ম নেওয়া ব্রুনোর আসল নাম হলো পিটার জেনে হারনান্দেজ। ব্রুনোর শৈশব শৈশব থেকেই তার দিন কেটেছে সংগীতের সুরে সুরে। বাবার ব্যান্ডের সঙ্গে হাওয়াইয়ের বিভিন্ন স্থানে পারফর্ম করে তার সংগীত চর্চা শুরু হয়। তখন থেকেই ফিউশন র্যাপ, রক, হিপ হপ এবং আরঅ্যান্ডবি ঘরানার মিউজিকের বিচিত্র সমন্বয়ের সঙ্গে পরিচয় ঘটে তার। তার পরিবারের সবাই একটি ব্যান্ডদলের সদস্য ছিলেন এবং প্রত্যেকেই কোনো না কোনো ইনস্ট্রুমেন্ট বাজাতেন। সেখান থেকেই ড্রামস, গিটার, পিয়ানো এবং হারমোনিকা বাজাতে শেখেন মারস। ব্যক্তিগত জীবনে এলভিস প্রিসলিকে নিজের আদর্শ মানেন তিনি। ছোটবেলা থেকে বিভিন্ন ধরনের সংগীতের সঙ্গে পরিচিত মারসের গানের মধ্যে তাই পাওয়া যায় পপ, সোল এবং আরঅ্যান্ডবির অন্যরকম মিশ্রণ। ব্রুনো মারসকে অনেকেই বর্তমান সংগীত জগতের অন্যতম প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব হিসেবে মনে করেন। অবশ্য তার গান শুনলে কথাটা সত্যিই মনে হবে সবার। একাধারে গায়ক, গীতিকার, সংগীত প্রযোজক ব্রুনোর আমেরিকান সংগীত জগতে প্রবেশ একটু ভিন্নভাবে। তার এই সংগীতজগতে আসা হয় মূলত প্রযোজক হিসেবে। তারপর তিনি অনেক বিখ্যাত শিল্পী, যেমন শন কিংস্টন, ফ্লো-রিডা প্রমুখ শিল্পীর জন্য গান লেখেন এবং গীতিকার হিসেবে পরিচিতি পেয়ে যান। কিন্তু সেইসময় থেকেই তার প্রধান ইচ্ছা ছিল একজন গায়ক হওয়ার। একজন একক শিল্পী হিসেবে ব্রুনোর সংগীত জগতে অভিষেক ঘটে তার প্রথম স্বল্পদৈর্ঘ্য অ্যালবাম ‘ইটস বেটার ইফ ইউ ডোন্ট আন্ডারস্ট্যান্ড’-এর মাধ্যমে, যা ২০১০ সালের মে মাসে প্রকাশিত হয়। অ্যালবামটি ‘বিলবোর্ড হট ২০০’ টপ চার্টে ৯৯তম স্থান দখল করে। তারপর সে বছরই অক্টোবরে প্রকাশিত হয় মারসের দ্বিতীয় এবং পূর্ণাঙ্গ অ্যালবাম ‘ডুঅপস অ্যান্ড হুলিগানস’। অ্যালবামটি প্রকাশিত হওয়ার আগেই এর কয়েকটি গান সিঙ্গেলস আকারে বাজারে আসে এবং ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তার মধ্যেই অন্যতম হলো ‘জাস্ট দি ওয়ে ইউ আর’। এই গানটি প্রকাশিত হয় ২০১০ সালের জুলাইতে। গানটি বিশ্বব্যাপী বিপুল জনপ্রিয়তা পায় এবং ‘বিলবোর্ড হট ১০০’ চার্টের শীর্ষে অবস্থান করে। এই গানটির জন্য তিনি অর্জন করেন ‘বেস্ট মেল ভোকাল পারফর্মেন্স’ ক্যাটাগরিতে একটি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড। একই অ্যালবাম থেকে প্রকাশিত আরেকটি সিঙ্গেলস ‘গ্রেনেড’ মারসকে এনে দেয় ছয়টি ক্যাটাগরিতে গ্র্যামির মনোনয়ন। তবে একই বছর গায়িকা ‘অ্যাডেল’-এর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে আর টিকতে পারেননি মারস। উল্লেখ্য, তিনি হলিউডের মুভি সিরিজ ‘টোয়াইলাইট সাগা :ব্রেকিং ডন ১’-এ ‘ইট উইল রেইন’ নামে একটি গান গেয়েছেন।