আসছে ২০১৩-১৪ অর্থবছরের বাজেটে নতুন করের চাপ আসছে না বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন। আয়কর, শুল্ক ও ভ্যাট ফাঁকি রোধ করার মাধ্যমে বাড়তি রাজস্বের চাপ মেটানোর চিন্তা করছেন তারা। গতকাল বুধবার এনবিআরে অর্থমন্ত্রীর সাথে বৈঠক শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আগামী বাজেটে নতুন কোন কর চাপিয়ে দেয়া ঠিক হবে না। আমরা অর্থমন্ত্রীকে বিষয়টি বলেছি। তিনি সেভাবে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, আয়কর, আমদানি শুল্ক ও মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) ক্ষেত্রে বিদ্যমান অসঙ্গতি যুক্তিসঙ্গত করা গেলে রাজস্ব আদায় বাড়ানো সম্ভব হবে। বন্ডেড ওয়্যারহাউজের সুবিধার অপব্যবহার রোধ করা, বাড়ি ও গাড়ির মালিকদের করের আওতায় আনা সম্ভব হলে কর আদায় বাড়বে। কিছু আমদানি পণ্যে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক বাড়তে পারে। সেই সাথে চলতি অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য কেবল অর্জন নয়, অতিক্রম করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি। এছাড়া পদ্মা সেতুর জন্য বাজেটে বাড়তি সারচার্জ (কর) আরোপ হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
এছাড়া এখন থেকে এনবিআরের সকল অফিস শুক্র ও শনিবার খোলা থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, যতদিন রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকবে ততদিন এনবিআরের সকল অফিস খোলা থাকবে। বর্তমানে রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্ক স্টেশন খোলা থাকে। রপ্তানির ক্ষেত্রে শুক্র ও শনি দুই দিন আর আয়কর ও আমদানির ক্ষেত্রে শনিবার বাধ্যতামূলক এবং শুক্রবার প্রয়োজন হলে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুসারে (কাজ থাকলে) খোলা থাকবে। কাজ ফেলে রাখা যাবে না। এছাড়া ব্যাংকসহ আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্টদের কাছে খোলা রাখার অনুরোধ যাচ্ছে। সিএন্ডএফ এজেন্টদের নিয়ে সমস্যা আছে। সেটা নিয়ে আলোচনা হবে। বাড়তি কাজ করানোর জন্য ব্যবসায়ীরা বাড়তি খরচ করতে না চাইলে প্রয়োজনে সরকারের দায়িত্বে খোলা রাখা হবে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) রাজস্ব আদায়ে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা পিছিয়ে আছে এনবিআর। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ বছর রাজস্বের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে না। এ বক্তব্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করে গোলাম হোসেন বলেন, বছরের শেষ মাসগুলোতে রাজস্ব আদায়ের গতি বাড়ে। সিগারেট কোম্পানি, সিমেন্ট কোম্পানির রাজস্ব আদায় বাড়ছে। সেই সাথে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি), তিতাস, বাখরাবাদসহ সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা বকেয়া পড়ে আছে। এসব টাকা আদায়ে অর্থমন্ত্রীর সাথে আলাপ হয়েছে। এসব টাকা পাওয়া যাবে। নতুন ৪০ হাজার বাড়ির মালিকদের চিহ্নিত করা হয়েছে যাদের কর সনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) নেই, অনেক গাড়ির মালিক আয়কর রিটার্ন জমা দেন না। তাদের করের আওতায় আনা হবে। এর ফলে রাজস্ব আদায় বাড়িয়ে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা যাবে বলে মনে করেন তিনি।
সাংবাদিকদের সাথে অনির্ধারিত এ আলোচনায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনবিআর সদস্য বশির উদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ আমিনুল করীম, নাসির উদ্দিন, রাহেলা বেগম, কালিপদ হালদার, ফিরোজ শাহ আলম, ব্যারিস্টার জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।
