জীবন বাজি রেখে যারা স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তাদের খবর এখন আর কেউ রাখে না। এদের অনেকেই আজ অনাহারে-অর্ধাহারে জীবনযাপন করছেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে জয়ী হলেও জীবনযুদ্ধে আজ তারা পরাজিত সৈনিক। বয়সের ভারে কর্মক্ষমতা হারালেও জীবনযুদ্ধে হার মানতে চান না রায়পুরা উপজেলার দুই মুক্তিযোদ্ধা। একজন রিক্সা চালিয়ে, অন্যজন কুলির কাজ করে জীবিকা নির্বাহের পথ বেছে নিয়েছেন। উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের রিক্সাচালক হিসেবে পরিচিত বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আহাম্মদ আলী জানান, স্বাধীনতা যুদ্ধের আগে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে কাজ করতেন। যুদ্ধ শুরু হলে পালিয়ে যান ভারতের আগরতলায়। সেখানে ৩ নং সেক্টর কমান্ডার মেজর শফিউল্লার নেতৃত্বে প্রশিক্ষণ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। যুদ্ধে অংশগ্রহণের খবর পেয়ে পাক হানাদার বাহিনী তার বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়। যুদ্ধ শেষে বাড়ি ফিরে স্ত্রী ও ৫ সন্তানের ভরণ-পোষণের তাগিদে কোন উপায় না পেয়ে জীবিকা নির্বাহের পথ হিসেবে বেছে নেন রিক্সা। সেই থেকে অদ্যাবধি রিক্সা চালিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। কিন্তু বার্ধক্যজনিত কারণে এখন আর আগের মতো রিক্সা চালাতে পারেন না। ফলে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে অর্ধাহারে-অনাহারে দিনাতিপাত করছেন তিনি।
এদিকে উপজেলার মানিকনগর গ্রামের আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আতর মিয়ারও একই অবস্থা। তিনিও ৩ নং সেক্টর কমান্ডার মেজর শফিউল্লার নেতৃত্বে আগরতলা থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। সিলেটের কাতলমারা বিলের পাশে পাক হানাদারদের সাথে যুদ্ধ করেন তিনি। এ যুদ্ধে সেদিন ২ জন রাজাকার ও ৫ জন পাক হানাদার নিহত হয়। যুদ্ধের পর স্ত্রী ও ৬ সন্তানের ভরণ-পোষণের তাগিদে বাড়ির পাশে আলগী বাজারে মেঘনা নদীর ঘাটে কুলির কাজ শুরু করেন। এতটা বছর কুলির কাজ করে আজ তিনি হাঁপিয়ে উঠেছেন। তিনি বলেন, এখন আর আগের মতো বোঝা টানতে পারি না। কিন্তু কি করবো পেটের ক্ষুধা তো মেটাতে হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের ২ হাজার ভাতার টাকায় সংসার চালানো কষ্টসাধ্য। তাছাড়া অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধা বৃদ্ধ হয়ে পড়ায় কাজ করতে পারেন না।
