দেশের বিভিন্ন স্থানে হরতাল পালন

আপডেট : ২৭ মার্চ ২০১৩, ২১:৩১
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের টানা ৩৬ ঘণ্টার হরতালের প্রথম দিন গতকাল বুধবার বড় কোন ঘটনা ছাড়াই অতিবাহিত হয়। খবর আমাদের অফিস, স্টাফ রিপোর্টার, প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের। যশোর: বুধবার যশোরে ঢিলেঢালা ও শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালিত হয়েছে। তবে হরতাল চলাকালে যশোরে এক কলেজ শিক্ষকের মোটরসাইকেল ভাংচুর ও আওয়ামী লীগের এক নেতাকে লাঞ্ছিত করেছে হরতাল সমর্থক পিকেটাররা। এছাড়া হাসপাতাল মোড়ে রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইকে আসা রোগীদেরও হরতাল সমর্থকরা নাজেহাল করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কামরুজ্জামান আজাদ জানান, তার গর্ভবতী স্ত্রী বিএফ শাহীন কলেজের শিক্ষক সুরাইয়া পারভীন অসুস্থ হয়ে কুইন্স হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। জরুরি রক্ত প্রয়োজন হওয়ায় তিনি সাড়ে ১০টার দিকে মোটরসাইকেলে হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। কিন্তু হাসপাতালের কাছাকাছি পৌঁছালে পিকেটাররা তার মোটরসাইকেল ভাংচুর করে চাবি ছুঁড়ে ফেলে দেয়। এতে তাকে চরম বিপাকে পড়তে হয়। এদিকে, হরতালে জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও যশোর চেম্বারের সাবেক সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন লাঞ্ছিত হয়েছেন। শহিদুল ইসলাম মিলন জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তিনি শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডে একটি গ্যারেজে তার মোটরসাইকেল মেরামত করার জন্য বাড়ি থেকে রওনা দেন। পথে জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির বাড়ির সামনে পৌঁছালে যুবদল ক্যাডার ও হাসপাতালের দালাল খালিলের নেতৃত্বে তাকে লাঞ্ছিত করা হয়। এছাড়াও শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে মাঝে-মধ্যেই পিকেটিং করেছে হরতাল সমর্থকরা। তবে কোথাও বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। গোটা শহরে পুলিশি টহলের পাশাপাশি নতুন পোশাকে শহরের দড়াটানায় পুলিশের সার্বক্ষণিক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। ময়মনসিংহ:হরতালের প্রথম দিন বুধবার ময়মনসিংহে বিচ্ছিন্ন দুই-একটি ঘটনা ছাড়া শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়। পুলিশ জানায়, নাশকতার অভিযোগে ৩ জনকে আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে বঙ্গবন্ধু সেতুগামী ২৫৩ নং লোকাল ট্রেনের বগিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় হাবিলদার বিশ্বাস নবীনচন্দ্র ও আনসার সেলিম রেজাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত এবং ট্রেনের বগিতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় রেলের ট্রাফিক ইন্সপেক্টর হামিদুল ইসলাম বিএনপি, জামাত-শিবিরের ১৮ জনকে আসামি করে বিশেষ ক্ষমতা আইনে রেলওয়ে থানায় মামলা করেছেন। রেলওয়ে ঢাকা বিভাগীয় ম্যানেজার সরদার সাহাদাত হোসেনকে প্রধান করে ৪ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার সকালে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবকদল আলাদা আলাদা মিছিল করে। তবে পুলিশের বাধার মুখে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে নতুন বাজার মোড় পর্যন্ত মিছিল সীমাবদ্ধ থাকে। অন্যদিকে ইসলামী ছাত্রশিবির শহরের মাদ্রাসা কোয়ার্টার এলাকায় মিছিল করে। রাস্তায় অগ্নিসংযোগ করে ও ইট-পাটকেল দিয়ে রাস্তা অবরোধ করে। শহরের রামবাবু রোড়ে ১টি অটোরিকশায় অগ্নিসংযোগ করে। শহরে রিকশা, অটোরিকশা, টেম্পো চলাচল স্বাভাবিক ছিল। আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার কোন গাড়ি ছেড়ে যায়নি। রেল সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ রেলওয়ে জংশন থেকে সবক’টি লাইনে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। দিনাজপুর:কোন ধরনের সহিংসতা ছাড়াই দিনাজপুরে বুধবার হরতাল ঢিলেঢালভাবে পালিত হয়। ৪ জন পিকেটারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শহরে পুলিশের কড়া টহল থাকায় হরতালকারীরা কোন ধরনের পিকেটিং ও মিছিল করতে পারেনি। তবে বিক্ষিপ্তভাবে কোথাও কোথাও স্বল্প সময়ের জন্য পিকেটিং হয়েছে। কোতোয়ালী পুলিশ পিকেটিং করার সময় শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ৪ জনকে গ্রেফতার করে। দোকানপাট, ব্যাংক-বীমা, অফিস-আদালত বন্ধ থাকলেও হালকা যানবাহন ও ট্রেন চলাচল ছিল স্বাভাবিক। বান্দরবান:বান্দরবানে হরতালের সমর্থনে মিছিল করে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে বান্দরবানের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে বিপুল পরিমাণ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়। গতকাল সকাল থেকেই বিএনপিসহ অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অবস্থান নেয়। পিকেটিং এবং খণ্ড খণ্ড মিছিল করে অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা। হরতালের কারণে জেলা সদরসহ অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচাল বন্ধ থাকে। শহর ছেড়ে যায়নি দূরপাল্লার কোনো যানবাহনও। জেলা সদরসহ উপজেলা শহরগুলোতে দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁওয়ে হরতাল ঢিলেঢালাভাবে পালিত হয়। হরতালের সমর্থনে বিএনপি নেতাকর্মীরা সকাল ৮টায় শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে খণ্ড খণ্ড মিছিল করে। পিকেটাররা সদর উপজেলা ভেলাজান নামক স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে সড়ক অবরোধ করে রাখে। হরতালের প্রথম দিনে শহরে সকল দোকানপাট ও যান চলাচল বন্ধ ছিল। দূরপাল্লার কোনো যানবাহনও ছেড়ে যায়নি। হবিগঞ্জ: হবিগঞ্জে শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালিত হয়েছে। বুধবার ভোর থেকে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়ে পিকেটিং করে। হরতালের সমর্থনে খণ্ড খণ্ড মিছিল ও পথসভা করেছে নেতাকর্মীরা। দোকানপাট এবং যানবাহন চলাচল দুপুর পর্যন্ত বন্ধ ছিল। দুপুরের পর থেকে হালকা যানবাহন চললেও ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। ব্যাংক-বীমা, অফিস-আদালতে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হয়। তবে কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। জেলা শহরসহ সর্বত্র অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পৃথক পথসভায় বক্তৃতা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জি কে গউছ, যুগ্ম সম্পাদক আমিনুর রশিদ এমরান, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট এনামুল হক সেলিম, অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম, শ্রমিক দল সভাপতি শফিকুর রহমান চৌধুরী, আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, অ্যাডভোকেট ফরিদুল হক, শাহ আলম চৌধুরী মিন্টু, কাউন্সিলর আব্দুল আওয়াল মজনু, তাজুল ইসলাম চৌধুরী ফরিদ, আমিনুল ইসলাম বাবুল, শাহাব উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। নীলফামারী: শহরে বেশিরভাগ দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। অল্প সংখ্যক রিকশা চলাচল করলেও কোন ভারী যানবাহন চলাচল করেনি। বিএনপি নেতাকর্মীরা মিছিল-সমাবেশ করে। দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশে বক্তৃতা করেন জহুরুল আলম, মীর সেলিম ফারুক, মোস্তফা হক প্রধান বাচ্চু, মোস্তফা সারওয়ার পলব, মোর্শেদ আজম, এনাম প্রমুখ। খাগড়াছড়ি: খাগড়াছড়িতে রাস্তায় রাস্তায় হরতাল সমর্থকদের পিকেটিং, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, যানবাহন ভাংচুরের ঘটনার মধ্য দিয়ে প্রথম দিন অতিবাহিত হয়েছে। হরতাল চলাকালে বুধবার সকালে জেলার মানিকছড়ি উপজেলার গচ্ছাবিল এলাকায় পিকেটাররা ২টি ট্রাক ও ১টি পিকআপ ভাংচুর করে। এখানে বড় বড় গাছের গুঁড়ি ফেলে পিকেটাররা খাগড়াছড়ি-চট্টগ্রাম সড়ক অবরোধ করে রাখলে মানিকছড়ি থানা পুলিশ পিকেটারদের ধাওয়া করে ছত্রভংগ করে দেয়। হরতালের কারণে জেলার সকল দূরপাল্লার ও অভ্যন্তরীণ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও বন্ধ ছিল কক্সবাজার:বুধবার কক্সবাজারে শান্তিপূর্ণ ও ঢিলেঢালাভাবে হরতাল পালিত হয়েছে। হরতাল চলাকালে অধিকাংশ দোকানপাট, অফিস-আদালত ও ব্যাংক-বীমা খোলা ছিল। তবে স্বাভাবিক কার্যক্রম চলেনি। শহরে দূরপাল্লার বাস ছাড়া অন্যান্য যানবাহন বিনা বাধায় চলাচল করেছে। তবে যানবাহনের সংখ্যা ছিল কম। নাটোর: নাটোরে হরতাল শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়। শহরে দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। ভারি যানবাহন চলেনি। অফিস আদালতে লোকজনের উপস্থিতি ছিল কম। কোথাও পিকেটিং হয়নি। মৌলভীবাজার: কোন ধরনের সংঘর্ষ এবং ভাংচুরের ঘটনা ছাড়াই মৌলভীবাজারে ১৮ দলীয় জোটের ডাকে বুধবার হরতাল শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতিদিনের মতো জামায়াত-শিবির মাঠে থাকলেও বুধবার তাদের মাঠে দেখা যায়নি। শহরের ভিতরে কিছু কিছু রিকশা-অটোরিকশা চলাচল করলেও দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। হরতালে স্কুল, কলেজ ও অনেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। হরতালের কারণে দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ কর্মজীবী মানুষ। তবে বেলা বাড়ার সাথে সাথে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন রয়েছে। এছাড়াও জেলার সকল উপজেলায় শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। জয়পুরহাট:জয়পুরহাট শহরে হরতালের সমর্থনে ১৮ দলের নেতাকর্মীরা বুধবার বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এ সময় রাস্তার বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে ও গাছের গুঁড়ি ফেলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে হরতালকারীরা। হরতালে জয়পুরহাটে অধিকাংশ দোকান পাট বন্ধ ছিল। দূরপাল্ল¬ার কোন যান চলাচল করেনি। তবে ট্রেন যথারীতি চলাচল করেছে। এছাড়া শহরে রিকশা ভ্যান চলাচল স্বাভাবিক ছিল। গাজীপুর : গাজীপুর সদর উপজেলার চান্দনা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে মঙ্গলবার রাতে একটি যাত্রীবাহী বাসে এবং বুধবার সকালে চান্দনা চৌরাস্তা গোল চ্ক্করের কাছে গাজীপুর-ঢাকা সড়কে একটি গ্লাস ভর্তি পিকআপে অগ্নিসংযোগ করেছে হরতাল সমর্থকরা। টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলে শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালিত হয়। বুধবার হরতালের প্রথমদিন সকালে শহরের আশিকপুরে রাস্তায় গাছের গুঁড়িতে আগুন ধরিয়ে পিকেটিং করে শিবির কর্মীরা। অন্যদিকে জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম হরতালের সমর্থনে কোর্ট চত্বরে মিছিল বের করে। হরতাল চলাকালে দূরপাল্লার কোন যানবাহন টাঙ্গাইল ছেড়ে যায়নি। টাঙ্গাইলের ওপর দিয়ে উত্তরবঙ্গসহ বৃহত্তর ময়মনসিংহের কোন যানবাহন চলাচল করেনি। শহরের সব মার্কেটের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল। তবে শহরে কিছু রিকশা-ভ্যান, অটোরিকশা, ব্যাটারি চালিত রিকশা ও টেম্পো চলাচল করে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছিল। কুমিল্লা:কুমিল্লায় বিক্ষিপ্ত ঘটনার মধ্যদিয়ে ঢিলেঢালাভাবে গতকাল বুধবার হরতাল পালিত হয়েছে। হরতাল চলাকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার হাড়ি সদ্দার, সোনাকাটিয়া, বাতিসা, আমজাদের বাজার, চান্দুল অংশে জামায়াত-শিবির পিকেটিং করে ও ঝটিকা মিছিল বের করে। ভোরে উপজেলার মিয়াবাজার এলাকায় মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করে হরতালকারীরা। এছাড়া জেলার সদর দক্ষিণের সুয়াগাজী এলাকায় সকাল ৮টার দিকে একটি মালবাহী ট্রাকে ভাংচুর চালায় পিকেটাররা। দুপুরে মহাসড়কের জেলার বুড়িচং এলাকায় পিকেটাররা ৩টি অটোরিকশা ভাংচুর করে। এদিকে, হরতালের পক্ষে ১৮ দলীয় ঐক্যজোট এবং হরতালের বিপক্ষে জেলা আওয়ামী লীগ নগরীতে মিছিল বের করে। হরতালে নগরীর শাসনগাছা, জাঙ্গালিয়া ও চকবাজার বাসস্ট্যান্ড থেকে দূরপাল্লার বাস ছেড়ে যায়নি এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যান চলাচল করেনি। তবে নগরী ও জেলার আঞ্চলিক সড়কগুলোতে হালকা যানবাহন চলাচল করেছে। সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, গাড়ি ভাংচুর, খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নসহ হরতালের পক্ষে-বিপক্ষে মিছিলের মধ্য দিয়ে ১৮ দলের ডাকা ৩৬ ঘন্টা হরতালের প্রথম দিন পালিত হয়েছে। বুধবার সকাল থেকে শহরের অদূরে কদমতলা, বাঁকাল ব্রীজে টায়ার জ্বালিয়ে, লাবসা এলাকায় গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং বিনেরপোতা এলাকায় রাস্তা কেটে সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। শহরের অদূরে ছয়ঘরিয়া ও বিনেরপোতা এলাকায় এ-কে ট্রাভেলস নামের একটি পরিবহন ও ট্রাকসহ চারটি গাড়ি ভাংচুর করে হরতাল সমর্থকরা। এদিকে, হরতাল সমর্থক জামায়াত-শিবির কর্মীদের হাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ভাগ্নে মাহমুদুর রহমান জ্যামি গণপিটুনির শিকার হয়েছেন বলে জানা গেছে। অপরদিকে , হরতালের সমর্থনে সকালে শহরের অদূরে বিভিন্ন স্থানে জামায়াত-শিবির মিছিল করে এবং দুপুরে জেলা বিএনপির উদ্যোগে শহরে মিছিল বের করে। এদিকে, সাতক্ষীরা শহরে বেলা ১২ টায় ১৪ দল হরতাল বিরোধী মিছিল বের করে। সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্ল¬ার কোন পরিবহন ছেড়ে যায়নি। তবে যে কোনো ধরনের সহিংসতা এড়াতে শহরে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও বিজিবি মোতায়েন ছিল। সাতক্ষীরার ভোমরা স্থল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও পণ্যবাহী কোন ট্রাক বন্দর ছেড়ে যায়নি। নোয়াখালী:হরতালের প্রথম দিনে অপ্রীতিকর কোন ঘটনা ছাড়া জেলার সর্বত্র শান্তিপূর্ণ হরতাল পালিত হয়েছে। ভোরে হরতালকারীরা জেলা শহরসহ কয়েকটি সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে, গাছের গুঁড়ি ও ইট ফেলে অবরোধের চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তা তুলে নেয়। হরতাল চলাকালে অফিস-আদালত খোলা থাকলেও শহরের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল। ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও জেলার অভ্যন্তরে রিকশা ছাড়া কোন যানবাহন চলাচল করেনি। সকালে ও বিকালে জেলা শহর মাইজদীতে জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র হারুনুর রশিদ আজাদের নেতৃত্বে হরতালকারীরা তিন দফা বিক্ষোভ মিছিল করে এবং গিয়াস উদ্দিন সেলিমের সভাপতিত্বে স্থানীয় পৌরপার্কে এক সমাবেশ করে । অন্যদিকে হরতালের আগে মঙ্গলবারে জেলা শহর থেকে ৪ পিকেটার ও সুধারাম, বেগমগঞ্জ, সেনবাগ এবং হাতিয়া থানা এলাকা থেকে জামায়াত-শিবিরের ২৭ জন ও বিএনপি’র ১০ জনসহ ৩৭ জন নেতা-কর্মীকে পুলিশ গ্রেফতার করে। পুলিশ গ্রেফতারকৃতদের বিভিন্ন সহিংস ঘটনায় মামলার আসামি দেখিয়ে বুধবার আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাদের জামিন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণ করে। পরশুরাম: বুধবার ফেনীতে হরতাল পালিত হয়। হরতালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। তবে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক থাকে। এদিকে হরতালের সমর্থনে ফেনী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিয়া উদ্দিনের নেতৃত্বে বিএনপি শহরের ট্রাংক রোড থেকে একটি খণ্ড মিছিল বের করে এসএসকে সড়কস্থ সমবায় মার্কেটের সামনে এসে শেষ হয়। হরতালে শহরের দোকান পাট ও বিপণী বিতানগুলো বন্ধ ছিল। অফিস আদালত ও ব্যাংক বীমাগুলো খোলা থাকলেও লোক সমাগম ছিল না। শহরে রিকশা ছাড়া কোন প্রকার যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়নি। হরিণাকুণ্ডু (ঝিনাইদহ):হরতালে পিকেটিং করার সময় ঝিনাইদহের শৈলকুপায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি কর্মী সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। বুধবার সকালে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া সড়কের পাশে সিদ্ধি নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা জানান, বিএনপিসহ ১৮ দলের হরতালের প্রথম দিনে মহাসড়কে পিকেটিং করতে যাওয়ার জন্য মঙ্গলবার রাতে সিদ্ধি গ্রামে স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা একটি সভা করে। এ সভাকে কেন্দ্র করে ঐ গ্রামে উত্তেজনা দেখা দেয়। বুধবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে বিএনপি কর্মীরা একত্রিত হয়ে ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কে পিকেটিং করতে যাওয়ার সময় আওয়ামী লীগ কর্মীরা বাধা দেয়। এসময় উভয় দলের কর্মী সমর্থকরা ঢাল, সড়কি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সংঘর্ষে ১০ ব্যক্তি আহত হয়। আহতদের শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারী বলেন, সিদ্ধি গ্রামে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) রায়পুরা (নরসিংদী) মহেশপুর (ঝিনাইদহ) মাদারগঞ্জ (জামালপুর) সেনবাগ, আদমদীঘি (বগুড়া) লালপুর (নাটোর) বটিয়াঘাটা (খুলনা) জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) ও নাচোলে (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) হরতাল পালিত হয়েছে। হরতাল হয়নি নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) সংবাদদাতা জানান, নাগেশ্বরীতে ১৮ দলের ডাকা প্রথম দিনের হরতাল পালিত হয়নি। সকাল থেকে তাদের নেতা-কর্মীদের মাঠে দেখা যায়নি। সকল সরকারি-বেসরকারি অফিস, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উপস্থিতি ছিল অন্যান্য দিনের মত। ভূরুঙ্গামারী-কুড়িগ্রাম আঞ্চলিক সড়কে যানবাহন চলাচল ছিল স্বাভাবিক। কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় ১৮ দলের ডাকা হরতাল পালিত হয়নি। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের ৩৬ ঘন্টা ডাকা হরতালের প্রথম দিন বুধবার উপজেলার কোথায়ও কোন প্রভাব পড়ে নেই। জীবনযাত্রা ছিল স্বাভাবিক। ব্যাংক-বীমা, অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহ শহরের সকল ছোট-বড় দোকানপাট খোলা ছিল। সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) সংবাদদাতা জানান, ১৮ দলের ডাকা ৩৬ ঘন্টা হরতালের প্রথম দিনে সুন্দরগঞ্জে এর কোন প্রভাব পড়েনি। বুধবার উপজেলায় দূরপাল্লার যানবাহন ছেড়ে না গেলেও শহরে যানবাহন, গাড়ি-ঘোড়া চলেছে। এছাড়া অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা, দোকানপাট খোলা ছিল। লোকজনের সমাগম ছিল স্বাভাবিক। কোন পিকেটার বা হরতাল সমর্থকদের চোখে পড়েনি।