হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলা সদরে অবস্থিত সৈয়দ সঈদউদ্দিন ডিগ্রি (বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ বলেও লেখা হয়, বলা হয়) কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সম্মান শ্রেণির সৃষ্টপদে প্রভাষক হিসাবে ২০১১ সালের নভেম্বর মাসে যোগদান করি। পরের বছর জুন মাসে ক্লাস শুরু হলে আমরা নতুন কয়েকজন কাজ শুরু করি। পূর্ণকালীন শিক্ষক হিসাবে আমাদের জন্য মাসিক ছয় হাজার টাকা সম্মানী নির্ধারণ করা হয় এবং খণ্ডকালীন শিক্ষকরা পাবেন ক্লাস প্রতি চারশো টাকা করে। শিক্ষকতার মহান পেশাকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরার জন্য আমি স্বতঃস্ফূর্তভাবে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির কার্যক্রম চালিয়ে যাই। এখন পর্যন্ত দায়িত্বের সঙ্গে কলেজ কার্যক্রম চালিয়ে আসছি। কিন্তু আমাকে জীবন যাপন করতে হয় কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ প্রদত্ত সম্মানীতে। এছাড়া বিভিন্ন পরীক্ষায় হল পরিদর্শকের দায়িত্ব, খাতা মূল্যায়ন ইত্যাদি বৈধ লাভজনক কাজের সুযোগ আমি পাই না। সরকার কোচিং ও প্রাইভেট পড়ানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলে আমি প্রাইভেট বা কোচিং ব্যবসা করার আর সুযোগ খুঁজিনি।
গত দশ বছরে শিক্ষক জাতীয়করণ আন্দোলন তীব্রতর হলেও শিক্ষার মান ও প্রয়োগ যোগ্যতা কমে যাচ্ছে। ফলে অসুস্থ হয়ে উঠছে চারপাশ। এ পরিস্থিতিতে অত্যল্প বেতনভাতা বা সম্মানী দ্বারা জীবন নির্বাহ করা দুঃসাধ্য। তার ওপর নির্ভরশীল পরিবার-পরিজন যদি থাকে তাহলে কী অবস্থা হতে পারে তা বলা বাহুল্য বলে মনে করি। আমার মজুরি একবেলা কোনোমতে খাবার যোগানোর। কবে থেকে তিনবেলা আহার যোগানোর মতো আর্থিক সক্ষমতা অর্জন করবো তা কে জানে? এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি ।
আশরাফুল ইসলাম
প্রভাষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, সৈয়দ সঈদউদ্দিন ডিগ্রি কলেজ
মাধবপুর, হবিগঞ্জ ।
