বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বিদ্যুত্ কেন্দ্রের চুক্তি যদি বাতিল হয় তবে ভারতের শেয়ার বাংলাদেশ কিনে নিতে বাধ্য থাকবে। চুক্তি বাতিল হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ভারতের শেয়ারের সমুদয় সম্পদ কিনে নেবে বাংলাদেশ। চুক্তি বাতিল না হলে ১২ বছরের আগে ভারত অন্য কারো কাছে তার অংশ বিক্রি করতে পারবে না। ১২ বছর পর তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করতে পারবে, তবে প্রথম অগ্রাধিকার দিতে হবে পিডিবিকে। পিডিবি তার অংশ কখনই অন্য কারো কাছে বিক্রি করতে পারবে না। বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সভাপতিত্বে এক মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বাগেরহাটের রামপালে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনে বাংলাদেশের পিডিবি এবং ভারতের এনটিপিসি যৌথভাবে ‘বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ কোম্পানি’ নামে কোম্পানি গঠন করেছে। বাংলাদেশে এই কোম্পানি নিবন্ধন করেছে। কোনো কারণে যৌথ কোম্পানি ভেঙ্গে গেলে কি হবে তা চুক্তিতে ছিল না। তাই নতুন করে এই ধারা যুক্ত করা হলো বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
রামপালে এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের কোম্পানি গঠনে পরামর্শ বিষয়ক গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অন্যদের মধ্যে বৈঠকে পরিকল্পনা মন্ত্রী একে খন্দকার, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীর বিক্রম, বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহম্মদ এনামুল হক, বিদ্যুত্ সচিব মনোয়ার ইসলাম, পিডিবির চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহাবসহ সংশি¬ষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
রামপালে বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনে ভারতের সঙ্গে যে বিদ্যুত্ কেনা চুক্তি (পিপিএ) এবং যৌথ বিনিয়োগ চুক্তি (জেভিএ) হয়েছে সে অনুযায়ী এ কেন্দ্র থেকে আগামী ২৫ বছর বিদ্যুত্ কিনবে পিডিবি। যদি ২৫ বছরের আগেই কোনো কারণে চুক্তি বাতিল হয় তাহলে কি করা হবে-এই বিষয়ে একটি প্রস্তাব বিদ্যুত্ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠানো হয়েছিল। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতেই অর্থমন্ত্রণালয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের এই সিদ্ধান্ত চুক্তির সঙ্গে সংযোজন করা হবে।
বৈঠক সূত্র জানায়, চুক্তির প্রথম ১২ বছরের মধ্যে এনটিপিসি তার অংশীদারিত্ব বিক্রি করতে পারবে না; কিন্তু কোনো কারণে যদি ১২ বছরের আগে বা মোট চুক্তি ২৫ বছরের মধ্যে চুক্তি বাতিল করতে হয় সেক্ষেত্রে ৬০ দিনের মধ্যে এনটিপিসির অংশীদারিত্ব কিনে নেবে পিডিবি। চুক্তি বাতিল হলে তৃতীয় পক্ষের কাছে অংশিদারিত্ব বিক্রি করতে পারবে না এনটিপিসি। এছাড়া ১২ বছর পর অংশীদারিত্ব বিক্রি করতে হলে সবার আগে পিডিবিকে প্রস্তাব দিতে হবে। পিডিবি কিনতে না চাইলে তৃতীয় পক্ষের কাছে বিক্রি করতে পারবে। একটি নির্ধারিত দামেই এনটিপিসিকে পিডিবির কাছে সম্পদ বিক্রির প্রস্তাব দিতে হবে। কোনো কারণে তৃতীয় পক্ষের কাছে যদি কম দামে বিক্রি করতে হয় সেক্ষেত্রেও আগে ওই দামে পিডিবিকে কেনার প্রস্তাব দিতে হবে। এনটিসির সম্পদের দাম কত হবে তা নির্ধারণ করবে তৃতীয় কোনো প্রতিষ্ঠান।
